জিএবিভি’র প্রতিবেতন

সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে লাভজনক

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২১:১৭
বার্লিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ (জিএবিভি) এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে, বিশ্বের প্রচলিত ধারার বৃহত্ ব্যাংকগুলোর সাথে সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে লক্ষ্যণীয় পার্থক্য রয়েছে। সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর তুলনায় বৃহত্ ব্যাংকগুলো কম ঋণ প্রদান করে, কম আমানত সংগ্রহ করে, দূর্বল পুঁজি স্থিতি সংরক্ষণ করে। তাই সামাজিক মূল্যভিত্তিক ব্যাংকগুলো বেশি লাভজনক হয়। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১০ বছর বিভিন্ন ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জিএবিভি। সমীক্ষায় দেখা যায় সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো সবুজ প্রকল্পে ও সমাজ উন্নয়নে অধিক বিনিয়োগ করছে। এ ব্যাংকগুলোর ব্যবসা মডেল অনেক বেশী দৃঢ় ও সহ্যক্ষমতাপ্রবণ। জিএবিভি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম সারির ২০টি সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকের স্বাধীন জোট। গতকাল ‘স্ট্রং এন্ড স্ট্রেইটফরওয়ার্ড: দ্যা বিজনেস কেস ফর সাসটেনেবল ব্যাংকিং’ রিপোর্টটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করা হয়। এতে ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ২২টি সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকের সাথে ২৮টি বৃহত্ ব্যাংকের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তুলনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয় যে, প্রচলিত বৃহত্ ব্যাংকে ঋণ ও মোট সম্পদের অনুপাত ৪০.৭ শতাংশ। আর সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকে এ অনুপাত ৭২.৪ শতাংশ। প্রচলিত ব্যাংকে আমানত ও মোট সম্পদের অনুপাত ৪২ শতাংশ। আর সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকে এ অনুপাত সাড়ে ৭২ শতাংশ। ইক্যুইটি ও সম্পদের অনুপাতও সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকে বেশি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে ঋণ, আমানত ও সম্পদের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৭.৮ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১০.৪ শতাংশ। যেখানে সামাজিক মূল্যবোধ ভিত্তিক ব্যাংকে ঋণ, আমানত ও সম্পদের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১৯.৭ শতাংশ, ১৯.৬ শতাংশ ও ১৯ শতাংশ।