(পূর্ব প্রকাশের পর)
১৩। কবরে মাটি দেয়ার দো’য়া : মিনহা খালাক্নাকুম, অফীহা নুয়ীদুকুম, অমিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা। অর্থ: আমি তোমাদেরকে উহা (মাটি) হতে সৃষ্টি করেছি এবং উহাতে তোমাদের ফিরে যেতে হবে এবং উহা হতে তোমাদেরকে বের করা হবে। ১৪। কবর জিয়ারতের দোয়া: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবূরি মিনাল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাতি আনতুম লানা সালাফা ওয়া নাহনু লাকুম তিবয়ুন। অর্থ: হে কবরবাসী পুরুষ ও মহিলাগণ। তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তোমরা আমাদের অগ্রবর্তী এবং আমরা তোমাদের অনুসরণকারী। ১৫। পেশাব-পায়খানায় প্রবেশের দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নী আয়ুযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস। অর্থ: হে আল্লাহ! স্ত্রী-পুরুষ জ্বিনের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। ১৬। পেশাব-পায়খানা থেকে বের হওয়ার দোয়া: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আযহাবা আন্নীল আযা ওয়াআ-ফানী। অর্থ: সেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমার কাছ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করে দিলেন এবং প্রশান্তি দান করেছেন (ইবনে মাজা)। ১৭। দুশ্চিন্তা হতে বাঁচার দোয়া: আল্লাহুম্মা ইন্নী আয়ুযুবিকা মিনাল হাম্মি অল হুযনি অল আজযি ওয়াল কাসলি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়াযালায়িদ দাইনি ওয়াগালাবাতির রিজাল। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ভাবনা, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা এবং লোকদের প্রতিপত্তি হতে (বুখারী)। ১৮। ঋণ থেকে মুক্তি এবং হালাল উপার্জনের দোয়া: আল্লাহুম্মাক ফিনী বিহালালিকা অ-হারা-মিকা, ওয়াআগনিনী-বিফাযলিকা আম্মান সিওয়াক। অর্থ: হে আল্লাহ! হারাম ছাড়া হালালকেই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে সব কিছু থেকে অভাবমুক্ত করে দাও (তিরমিযী)। ১৯। স্মরণশক্তি বৃদ্ধির দোয়া: রাব্বি যিদনী ইলমা। রাব্বিশ রাহলী ছাদরী ওয়াইয়াসিসরলি আমরী ওয়াহলুল উক্বদাতাম মিল্লিসানী ইয়াফ ক্বাহুকাওলী। অর্থ: হে আমার রব, আমার ইলম বাড়িয়ে দাও। হে আমার রব্ব! আমার বক্ষ (হূদয়) খুলে দাও। আমার কাজকে সহজ করে দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও। যাতে ওরা (লোকে) আমার কথা বোঝে। ২০। জ্বর হলে পড়তে হয়: হযরত আয়শা (রা.) বলেন, “আমাদের মধ্যে যখন কোন ব্যক্তি রুগি হতো তখন রসূল (স.) তাঁর ডান হাত দিয়ে রুগিকে বুলাতেন। তারপর পড়তেন, “আযহিবিল বাস রাব্বান নাস অশফি আন্তাশ শাফী লা শিফা-আ ইল্লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা” অর্থ: হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য দান ছাড়া আর কোন আরোগ্য নেই। তা এমনই আরোগ্য, যা কোন রোগকেই ছাড়ে না (বুখারী- মুসিলম, মেশকাত)। ২১। ফোড়া ফুস্কুড়ি বা ঘা-এর দোয়া: “বিসমিল্লাহি তুরবাতু আরযিনা বিরিকাতি বা’দিনা লিউশফা সাকিমুনা বিইজনি রাব্বিনা”,। অর্থ: আল্লাহর নামের বরকতে আমাদের মাটি আমাদের কারো থুথুর সাথে মেশানোর ফলে আমাদের রুগি আল্লাহর নির্দেশে আরোগ্য লাভ করুক (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত)। ২২। দাঁত ও কান ব্যথার দোয়া: হযরত আলী (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি হাঁচি শোনার সময় বলেন আল হামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আলা কুল্লি হালিন মাকান”, অর্থ: সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের প্রভুর জন্য সকল অবস্থায়। এই কথা বললে সে দাঁতের ও কানের ব্যথা কখনোই পাবে না (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-১০ খণ্ড ৪২২ পৃ.)। ২৩। চোখের রোগ দূর করার দোয়া: হযরত আনাস ইবনু মালেক (রা.) বলেন, নবী (স:)-এর কোন সাহাবী চোখের রোগে আক্রান্ত হলে এই দোয়া পড়তেন, “আল্লাহুম্মা মাত্তিনী বি-বাসারী অজ আলহুল ওয়ারিসা মিন্নী ওয়া আরিনী ফিল আদুওয়ি সা-রী অনসুরনী আলামান যালামানী” অর্থ: হে আল্লাহ! আমার চোখ দ্বারা আমাকে উপকৃত করাও এবং ওকে আমার উত্তরাধিকারী বানাও। আর শত্রুর মধ্যে আমার মোকাবিলা দেখাও এবং আমার ওপরে যে অত্যাচার করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা দাও (ইবনে সুন্নির আমালুল ইয়াওমি অল লাইলাহ্ ১৫০ পৃ:, হাকেম ৪র্থ খণ্ড ৪১৩ পৃ:)।
