চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙ্গে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা প্রভাব ফেলেনি রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড রেলক্রসিং এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচের দোকানিদের। অবৈধভাবে দোকানপাট ও সবজির বাজার গড়ে উঠেছে সেখানে বহুদিন আগে। আগেও প্রশাসনের টনক নড়েনি, এবার চট্টগ্রামে দুর্ঘটনার পরেও তাদের টনক নড়েনি।
পুলিশ বলছে, অবৈধভাবে সবজির বাজার বসার বিষয়টি তাদের জানা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, অসচেতনতা এবং দলীয়করণের জন্যই বিভিন্ন নির্মাণ কাজে কিছুদিন পর পর দুর্ঘটনা ঘটছে। আর হতদরিদ্র মানুষগুলো বিপজ্জনক জেনেও উপরওলার উপর সব দায়িত্ব ছেড়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত । প্রায় দুই বছর আগে বানু ও তার স্বামী মোজ্জাম্মেল মিলে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় নিমার্ণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে চায়ের দোকান দেন। তখন দুটি দোকানে নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে চা সিগারেট বিক্রি করা হতো। এখন দোকান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
চট্টগ্রামের দুর্ঘটনার কথা জানেন কিনা জানতে চাইলে মোজ্জাম্মেল বলেন, ‘আল্লাহ ভরসা, মরণ থাকলে মরমু, খাইয়া পইর্যা তো বাঁচতে হইব।’ শুধু মোজ্জাম্মেল নয় এখানে দোকান দিয়েছে শিশু জুলেখা, শিশু সন্তান নিয়ে নাজমা। বিপজ্জনক জেনেও তারা বেঁচে থাকার সংগ্রামে সেখানে দোকান বসিয়ে জীবন চালাচ্ছে। তারা জানায়, প্রতিদিন এক হাজার টাকা তাদের বিক্রি হয়। কোন মতে সংসার চলে। পুলিশকে প্রতিদিন দিতে হয় ৪০টাকা। যারা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তার বিষয়টা তারা কিভাবে দেখেন-এ প্রশ্ন শুনে তারা এমন অদ্ভুতভাবে তাকালেন যেন এই কথা আগে কখনো শোনেনি।
এলাকায় দায়িত্বরত এসআই মনিরুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন মিরপুর, রাজারবাগ, ভাটারা থানার পুলিশ এখানে কাজ করেন। দোকানিদের কাছ থেকে কে টাকা নেয় তার জানা নেই। তবে রেলক্রসিং এলাকার শ্রমিক লীগের ক্লাবের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ আছে বলে তিনি জানান। এত বড় একটি দুর্ঘটনার পরও কেন নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে বেচাকেনা চলছে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, গত সোমবার ডিএমপি হেড কোয়ার্টারে এক মিটিংয়ে ভ্রাম্যমাণ এই বাজার তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিগগির উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। এই এলাকাটি ডিএমপি গুলশান জোনের অধীনে। তবে গুলশান জোনের ডিসি লুত্ফর কবীর ইত্তেফাককে বলেন, সেখানে দোকান বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। দোকান বসানোর বিষয়টি তিনি জানেন না। নির্মাণ কাজ চলার সময় নিরাপত্তার জন্য ফ্লাইওভারের আশেপাশে জনসাধারণের যাতায়াত নিষিদ্ধ রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে কী করা যায় তা নিয়ে কথা হয়। তারা বলেন আমাদের দেশ থেকে নির্মাণ কাজে টেন্ডারবাজি না উঠলে, দুর্ঘটনা লেগেই থাকবে। সব সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া। সরকার যদি এই ব্যাপারে সচেতন হয়, নিজ দলের লোকদের কাজ না দিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর দিয়ে নির্মাণ কাজ করায় তাহলে এতো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটবে না। তবে প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, সব কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। কারণ দেশে কাজ জানা ভালো লোকও আছে। সরকারের উচিত দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে দেশের স্বার্থে দক্ষ, সত্ লোকদের নির্মাণ কাজ দেয়া।
