আশাবাদী মুশফিক

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১২, ২১:৫৫
দুই টেস্টের সিরিজে হেরে গেলেও ওয়ানডে ম্যাচগুলোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ দল। শুধু তাই নয় আট মাস পর নিজেদের পঞ্চাশ ওভারের খেলায় ফিরলেও পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতেই ভাল করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ওয়ানডে ম্যাচ ভালো খেলে আসছে। আশা করি খুলনার মাঠেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। আমরা এই ওয়ানডে সিরিজেও ইনশাল্লাহ ভালো করবো।’ বাস্তবতা হলো বাংলাদেশ দল যেমন ১১ মাস পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিল, তেমনি আজ খুলনায় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে আট মাসের ব্যবধানে। তাদের সর্বশেষ ওয়ানডেটি ছিল চলতি বছরের মার্চে দেশের মাটিতে এশিয়া কাপে যেখানে মুশফিকরা ফাইনালে উঠেছিল। সঙ্গত কারণেই দেশের ক্রিকেটামোদীরা বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে পারফর্মেন্স কেমন হবে তা নিয়ে সংশয়ের দোলাচলে আছেন। অধিনায়ক মুশফিকের কথাতেও আছে সে শংকার আভাস। তিনি আজকের খেলায় এ বিষয়টিকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। মুশফিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘১১ মাস পর টেস্ট খেলেছি। এবার আট মাস পর ওয়ানডে খেলছি। তাই এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। ওয়ানডের জন্য নিজেদের তৈরি করতে খুব বেশি সময় আমরা হাতে পাইনি। তারপরও ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আমাদের বেশ-কিছু পরিকল্পনা আছে। তা কাজে লাগাতে পারলে ভালো কিছু হবে বলে আশা করছি। আর সিরিজে ভালো খেলাই হল আমাদের লক্ষ্য।’ প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে স্বাগতিকদের। বিশেষ করে টেস্টে হারার পর ওয়ানডে সিরিজে ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে আটকানোর আলাদা পরিকল্পনাও সাজিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এ প্রসংগে মুশফিক বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ানডেতে একটি বিপজ্জনক দল এবং তাদের বেশ কয়েকজন স্ট্রোক প্লেয়ার রয়েছে। তাই তাদেরকে আটকাতে হলে আমাদের পেস ও স্পিন উভয় বোলারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে হবে এবং রান আটকাতে হবে।’ ইনজুরি সাকিবকে প্রথম দুই ওয়ানডে থেকে ছিটকে ফেলে দিয়েছে। নিজের জন্য তো বটেই, দলের জন্যও সাকিবের অনুপস্থিতি ক্ষতিকর। সেটি স্বীকারও করেছেন অধিনায়ক মুশফিক। তিনি বলেন, ‘সাকিব না খেলায় দলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কারণ সে শুধু আমাদের নয় বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার। ফলে তার স্থান পূরণ করা কষ্টকর। তবে দলে যারা পুরাতন খেলোয়াড় আছেন, তাদের অভিজ্ঞতা আর নতুনদের সমন্বয়ে সকলে যদি সেরা পারফর্ম করতে পারি তাহলে দল অবশ্যই ভালো করবে।’ অধিনায়ক যাই বলুন না কেন আসলে অনেকটা তারুণ্য নির্ভর দল নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দলে নতুন মুখ আছেন সোহাগ গাজী, আবুল হাসান ও মমিনুল হক। তাই এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য ভালো সুযোগ বলে মনে করেন মুশফিকুর। এ প্রসঙ্গে তার মত, ‘দলে অনেক নতুন মুখ আছে। এটা নতুনদের জন্য চ্যালেঞ্জের। আশা করবো তারা এই সুযোগটাকে ভালোভাবেই কাজে লাগাবে এবং ম্যাচে ভালো করবে।’ দল কেমন হবে তা বলতে চাননি অধিনায়ক মুশফিক। উইকেট দেখে আজ টিম ম্যানেজম্যান্ট সেরা একাদশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবে। মুশফিক বলেন, ‘এখনও মনে হচ্ছে খুলনার উইকেট স্পিন সহায়ক। তবে কাল (শুক্রবার) সকালে উইকেট দেখে দল নির্বাচন করা হবে এবং পরিকল্পনা ঠিক করা হবে’। এদিকে দানবীয় ব্যাটসম্যানের খেতাব থাকলেও ক্রিস গেইল টেস্ট সিরিজে নিজের নামের সুবিচার করতে পারেননি। গেইলকে দ্রুত আউট করার ক্ষেত্রে অন্তত বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। টেস্টের মত ওয়ানডে সিরিজেও গেইলকে দ্রুত ফেরাতে পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাগতিক দল। মুশফিকের কথাতেই বোঝা যায় তা, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপজ্জনক খেলোয়াড় ক্রিস গেইলকে তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠানোর জন্য দলের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে’।