অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৭ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে আবেগাপ্লুত পন্টিং বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পার্থ টেস্টই হবে তার শেষ টেস্ট।
পন্টিং গতকাল বৃহস্পতিবার পার্থে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এই টেস্টই হবে আমার শেষ টেস্ট।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও তবে আসন্ন গ্রীষ্মে তাসমানিয়ার হয়ে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলা চালিয়ে যাবার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন।
ব্রিসবেন এবং অ্যাডিলেডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের তিন ইনিংসেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন পন্টিং। আর তাই আজ শুক্রবার থেকে পার্থে অনুষ্ঠিতব্য সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান কঠিন চাপে পড়েন। এরই ফলশ্রুতিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণার জন্য পার্থ টেস্টই সবচেয়ে ভাল সুযোগ বলে মনে করেন তিনি।
আগামী মাসে ৩৮ বছরে পা রাখতে যাওয়া পন্টিং এ মাঠেই ১৯৯৫ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক নিয়েছিলেন। আজকের টেস্টটিতে অংশ নেয়ার মধ্যদিয়ে তিনি পূর্বসূরী স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ১৬৮ টেস্ট খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন। স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান সেদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেন। ক্যারিয়ারে ১৬৭ টেস্টে তার নামের পাশে যোগ হয়েছে ১৩,৩৩৬ রান,যার মধ্যে আছে ৪১টি সেঞ্চুরি।টেস্ট ইতিহাসে সর্বাধিক রানের তালিকায় শুধুমাত্র কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান ভারতের শচীন টেন্ডুলকারই আছেন এগিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দল থেকে আগেই বাদ পড়া পন্টিং মনে করেন এখনই তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর যথার্থ সময়। তিনি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ যাবত্ আমার পারফরমেন্সের মাত্রা খুব একটা ভাল ছিল না। তবে ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালবাসা ও সম্মান কখনই শেষ হবে না। কিন্তু দিনের শেষে নৈপুণ্যের আলোকেই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সিরিজে এখন পর্যন্ত নির্বাচকরা অস্ট্রেলিয়া দলের কোন ব্যাটসম্যান এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে প্রত্যাশা মাফিক ফল পায়নি। ক্যারিয়ারের একটি ভাল সময়ে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সুযোগ পেয়ে আমি খুশি।’
এদিকে পন্টিংয়ের অবসরের ঘোষণায় আবেগ আপ্লুত বর্তমান অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলেন, ‘পন্টিংয়ের অনুপস্থিতি পুরো দল দারুণভাবে অনুভব করবে এবং এই মুহূর্তে তার অবসরের ঘোষণা আমাদেরকে বিস্মিত করেছে।’
ক্লার্ক তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পরামর্শক সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কোনভাবেই এমন একটি ঘোষণার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অ্যাডিলেড টেস্টের পর রিকি আমার সাথে কথা বলেছেন এবং অবশ্যই সে গত কয়েকদিন সময় নিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মনস্থির করেছে। দলের খেলোয়াড়রা এই মুহূর্তে বেশ মর্মাহত। দীর্ঘদিন যাবত্ সে দলের একজন অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন।’
ক্লার্ক আরো জানিয়েছেন পন্টিংয়ের অবসরের ঘোষণাই পার্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে জিততে সাহস জোগাবে। অন্তত পন্টিংয়ের জন্য হলেও এই টেস্টটা জিতে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসতে চায়। এক বিবৃতিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড বলেছেন দেশের পক্ষে খেলা অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে পন্টিং অন্যতম সেরা একজন ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘রিকির অসাধারণ ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার ছিল। দেশের পক্ষে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। দলের অন্যান্য বনেদী খেলোয়াড়দের সামনে সে অসাধারণ সব উদাহরণ রেখে যাচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ ও বৃদ্ধ সমর্থকদের সে ক্রিকেটের মাধ্যমে যেভাবে মাতিয়ে রেখেছিল তা সত্যিই অনুকরণীয়।’ বাসস/এএফপি
এক
নজর
পন্টিংয়ের
ক্যারিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আজ শুক্রবার পার্থে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর খেলবেন না।
এক নজরে রিকি থমাস পন্টিং
জম্ম:১৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৪, তাসমানিয়া (বয়স ৩৭)
ডাক নাম:পান্টার
ব্যাটিং স্টাইল:ডানহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিং স্টাইল:মিডিয়াম পেস
টেস্ট
*ম্যাচ:১৬৭
*টেস্ট অধিনায়ক পন্টিং:৭৭টি টেস্ট ম্যাচে ৪৮টিতে জয়
*অভিষেক:শ্রীলংকার বিপক্ষে, ভেন্যু:পার্থ,৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৫
*মোট রান:১৩,৩৬৬
*টেস্টে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। ভারতের শচিন টেন্ডুলকার শীর্ষে
১৫,৫৬২ রান নিয়ে।
*সেঞ্চুরি:৪১
* টেস্টে তৃতীয় সর্বাধিক সেঞ্চুরি পন্টিংয়ের। শচিন হাঁকিয়েছেন ৫১টি এবং দক্ষিন আফ্রিকার জ্যাক
ক্যালিস ৪৪টি।
*ডাবল সেঞ্চুরি:৬
*ব্যাটিং গড়:৫২.২১
*এক ইনিংসে সর্বোচ্চ:২৫৭ রান
*উইকেট:৫
*ক্যাচ:১৯৬
ওয়ানডে
*ম্যাচ:৩৭৫
*ওয়ানডেতে অধিনায়ক পন্টিং:২৩০ ম্যাচে ১৬৫ টিতে জয়।
*অভিষেক:দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ভেন্যু:ওয়েলিংটন, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫
*মোট রান: ১৩,৭০৪
*দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। শচিন টেন্ডুলকার শীর্ষে ১৮,৪২৬ রান নিয়ে।
*সেঞ্চুরি:৩০
*দ্বিতীয় সর্বাধিক সেঞ্চুরি করেন। শীর্ষে শচিন টেন্ডুলকার (৪৯ সেঞ্চুরি)
*ব্যাটিং গড়:৪২.০৩
*সর্বোচ্চ রান:১৬৪
*উইকেট :৩
*ক্যাচ:১৬০
*খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয়:১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭।
*অধিনায়ক হিসেবে শেষ দুই বিশ্বকাপ জয়।
*ওয়ানডে থেকে অবসর:ফেব্রুয়ারি ২০১২
টি-টোয়েন্টি
*ম্যাচ:১৭
*অভিষেক:নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, ভেন্যু:অকল্যান্ড, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৫
*রান:৪০১
*সর্বোচ্চ:৯৮* (*নটআউট)
*ব্যাটিং গড়:২৮.৬৪
*ক্যাচ:৮
