‘তাঁর অনতিবর্ধ শরীরে বজ্র কঠিন দার্ঢ্য লেখা আছে’—অনেকটা এই রকম ভাষায় বর্ণনা পড়েছিলাম ‘কল্লোল যুগ’ গ্রন্থে। একটু শক্ত কথা, চট করে মানেটা বোঝা যায় না, তাছাড়া তখনো বুদ্ধদেব বসুকে চোখে দেখিনি। চোখে দেখার পর বুঝতে পেরেছিলাম তিনি একজন ছোট-খাটো চেহারার মানুষ। লাজুক এবং সাহসী। কথা বলতে বলতে হঠাত্ চুপ করে গিয়ে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন। যে-কোনো সময়ে গলার আওয়াজ উঁচুতে উঠে যায়। এবং মাঝে মাঝেই, কিংবা প্রায়ই, তিনি অসম্ভব জোরে হেসে ওঠেন। তিনি সেই হাসি সঞ্চারিত করে দেন না।
না, আমার ভুল হচ্ছে। ওঁর সম্পর্কে আমি বর্তমান ক্রিয়াপদ ব্যবহার করছি। কিন্তু বুদ্ধদেব বসু আর বেঁচে নেই। মৃত্যু এই পৃথিবীর একটি বিরল সত্য ঘটনা, তবু বিশ্বাস হয় না।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ‘কল্লোল যুগ’ যখন প্রকাশিত হচ্ছিল ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায়, আমরা দুর্দান্ত আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। যে সমস্ত লেখকরা তখন আমাদের দেবতা, যাঁদের তখনো চোখে না দেখেও পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন মনে হয়, তাঁদের জলজ্যান্ত জীবনের কথা কি আশ্চর্য সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে ঐ গ্রন্থে। আমরা তখন সদ্য কলেজীয় যুবক, একটু লেখালেখি শুরু করেছি, চায়ের দোকানে বসে বন্ধুবান্ধবদের কবিতা শোনাই—কিন্তু কোনো চিত্রতারকা বা রাজনৈতিক নেতা কিংবা ফুটবল বা ক্রিকেট খেলোয়াড়ের জীবন সম্পর্কে তেমন আগ্রহ বোধ করিনি, বরং অদম্য কৌতূহল ছিল সেই সব লেখকদের সম্পর্কে, যাঁরা আমাদের মন্ত্রমুগ্ধবত্ করে রেখেছিলেন।
বুদ্ধদেব বসুকে চাক্ষুষ দেখার আগেও তাঁর সম্পর্কে অনেক খুঁটিনাটি আমাদের সংগ্রহে এসে যায়। এর মধ্যে সব কিছুই যে গৌরবজনক, তা নয়। একটা বয়েস থাকে যখন সম্মানিত ব্যক্তিদেরও খানিকটা হেয় করে এক ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। যাঁরাই প্রতিষ্ঠিত এবং বিখ্যাত তাঁদের নামে নানারকম সত্য-মিথ্যে গল্প জুড়ে একটু ছোট করতে পারলে অহংকারে বাতাস লাগে। তাছাড়া, বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনেক রকম গুজব প্রচলিত থাকেই। আমরা শুনে ছিলাম, বুদ্ধদেব বসুর মতন অহংকারী মানুষ নাকি আর দুনিয়ায় দুটি নেই, বাড়িতে কেউ গেলেই উনি বিলিতি কুকুর লেলিয়ে দেন। পরে দেখেছি, ওঁর মতন খাঁটি অর্থে ভদ্রলোক খুব কমই আছে এবং ওঁর বাড়িতে কেউ গেলে সচরাচর উনি নিজেই দরজা খুলতেন। বিলিতি কুকুর কখনো দেখিনি। তবে একটি শান্ত ও কবি কবি মুখের দেশি কুকুর আছে, প্রতিভা বসুর পোষ্য। এই কুকুর প্রসঙ্গে একটি লম্বা গল্প আছে, যার শেষ দিকটা মর্মান্তিক রকমের।
বুদ্ধদেব বসু সারাজীবন বহু নিন্দেমন্দ সহ্য করেছেন। প্রায় বালক বয়সেই বিখ্যাত হয়েছেন এই কারণে—এবং শেষ জীবন পর্যন্ত, বহু কটূক্তি বর্ষিত হয়েছে তাঁর দিকে। এই নিন্দুকদের মধ্যে একদল, বলাই বাহুল্য, ঈর্ষাপরায়ণ অক্ষম, আরেকদল রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এবং আর একটি দল, আমার ধারণা, যাঁরা বুদ্ধদেব বসুকে ঠিক মতন চিনতে পারেননি এবং নানারকম গুজবে বিশ্বাসী হয়েছেন।
যখন বুদ্ধদেব বসুকে চিনতাম না, তখন থেকেই অন্যদের সঙ্গে প্রায়ই দারুণ তর্ক করতাম বুদ্ধদেব বসু বিষয়ে। আমাদের মনোভাব অনেকটা এ রকম ছিল, আমরা নব্য লেখক, আমরা পূর্ববর্তী লেখকদের সম্পর্কে যা-খুশি বলতে পারি, কিন্তু অন্যরা কেন বলবে? সেই সময়ে ছাত্র মহলে সাম্যবাদের দিকে দারুণ ঝোঁক, আমরাও ছিলাম—কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্কটা কেউই স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারেননি। এক একজন এক-এক রকম কথা বলতেন, অতি উগ্ররা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া, তারাশঙ্করকে প্রতিক্রিয়াশীল এবং বুদ্ধদেব বসুকে উন্মার্গগামী কিংবা দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়েছেন। একজন লেখক নিজেদের দলে নয় বলেই তাঁর সাহিত্য মূল্য খর্ব করার চেষ্টা আমার কাছে বরাবরই ন্যক্কারজনক মনে হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বুদ্ধদেব বসু একজন প্রকৃত সাহসী লেখক—কোনো হীনতার কাছে মাথা নিচু করেননি কখনো। একবার মাত্র তিনি ফ্যাসীবিরোধী লেখক সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তারপর আর জীবনে কখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম জড়াননি। তিনি সাম্যবাদী দলে বিশ্বাসী ছিলেন না, কিন্তু তাই বলে কখনো ক্ষমতাসীন শাসক দলের ছত্রছায়াতেও গিয়ে দাঁড়াননি। সুবিধা ভোগের চেষ্টা করেননি কোনোদিন, হাওয়া বুঝে মত বদলাননি। আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায়, একজন লেখকের পক্ষে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকাই যে সম্মানজনক, তিনি তা দেখিয়েছেন।
তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তাঁর বিষয়ে তর্ক করতাম কেন বিরোধীদের সঙ্গে? তার কারণ রবীন্দ্রনাথের পরবর্তীকালে তিনিই একমাত্র লেখক, যিনি সব সময় আমাদের ব্যস্ত রেখেছিলেন। ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার বেশি প্রিয়, কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশকে অনেক বেশি ভালোবেসেছি হয়তো—কিন্তু সব মিলিয়ে, সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বুদ্ধদেব বসু আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। তিনি সব সময়েই কিছু না কিছু একটা কাণ্ড করেছেন। এবং তিনি কখন কী লিখছেন—তার দিকে লক্ষ্য না রেখে উপায় নেই। তাঁর যে কোনো নতুন লেখাতেই তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো না কোনো উপায়ে নতুন। তারাশঙ্কর তাঁর শেষের দিকের উপন্যাসগুলিতে আমাদের অনাগ্রহী করে তুলেছিলেন—ভালো বা খারাপের প্রশ্ন নয়, নতুনত্ব ছিল না। বুদ্ধদেব বসুর কল্লোলের বন্ধুরা প্রায় তো লেখা থামিয়েই দিয়েছেন, কিন্তু বুদ্ধদেব বসু শেষ পর্যন্ত সজীব থাকতে পেরেছিলেন বলেই স্থবির হননি। অকস্মাত্ এক সময় তিনি কবিতা, উপন্যাস ছেড়ে মন দিলেন অনুবাদে, বোদলেয়ার, রিলকে, হেল্ডার্লিন, এদিকে কালিদাস—অনুবাদের জন্য যে কতখানি নিষ্ঠা লাগে, স্থাপন করলেন তার দৃষ্টান্ত। অনুবাদ ছেড়ে আবার উপন্যাসে, বাঁধালেন একটা হই হই কাণ্ড। ফের শুরু করলেন নাটক ও কাব্য-নাটক। সেই নিয়ে কিছুদিন কাটলো। কাব্য নাটকগুলি সবেমাত্র একঘেয়ে হতে শুরু করেছে, আমরা বুদ্ধদেব বসুকে খরচের খাতায় লিখব লিখব করছি, এমন সময় দুম করে আরম্ভ করলেন মহাভারতের কথা—ঐ দুর্ধর্ষ বাংলা গদ্যের দিকে মনোযোগ না দিয়ে উপায় আছে। এবং প্রায় একই সঙ্গে লিখতে লাগলেন পর্বে পর্বে তাঁর আত্মজীবনী, রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা ও জীবন স্মৃতির পর— এই ধরনের এমন মধুর রচনা আমি আর পড়িনি।
বুদ্ধদেব বসু ছিলেন পুরোপুরি সাহিত্যিক। তিনি আমাদের দেখিয়ে গেলেন যে অন্যান্য পেশার মতনই সাহিত্যও একটি অতি পরিশ্রমসাধ্য ব্যাপার এবং একজন লেখককে পাঠক হিসেবেও কত খাঁটি হতে হবে। দিনের মধ্যে ষোলো থেকে আঠারো ঘণ্টা পর্যন্তও তিনি পড়াশুনা ও লেখালেখির মধ্যে ডুবে থাকতেন, বিদেশি সাহিত্যের প্রচণ্ড অনুরাগী হওয়া সত্ত্বেও খবর রাখতেন সাম্প্রতিকতম বাংলা রচনার। আমাদের মতন ক্ষুদ্র লেখকদেরও তিনি ডেকে ধমক দিতেন, লেখার ত্রুটি নির্দেশ করতেন, তাতে আমাদের শ্লাঘার বিষয় এই ছিল যে, আমরা একেবারে মনোযোগের অযোগ্য হইনি।
বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে অনেক বিষয়েই আমার মতের মিল না হওয়ার কথা। সাহিত্য কিংবা জীবন বিষয়ে ভিন্ন ধারণা পোষণ করেছি, ওঁর নির্দেশ অধিকাংশ সময়েই মানিনি। তবু কখনো মুখে মুখে তর্ক করতে পারিনি—কারণ, আমার দুর্বলতা এই, যে লেখকের রচনা পড়ে আমি মুদ্ধ হয়েছি, অভিভূত হয়ে থেকেছি, তাঁর মুখোমুখি এসে কখনো স্বাভাবিক হতে পারিনি, আড়ষ্টতা থেকে যায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বা তারাশঙ্করের সঙ্গে আমার তেমন সাক্ষাত্ পরিচয়ই হয়নি, প্রেমেন্দ্র মিত্র বা অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তকে কখনো জানাবার সুযোগ পাইনি যে এক সময় ওঁদের রচনা আমাকে কত পাগল করেছে। বুদ্ধদেব বসুও শেষ পর্যন্ত আমাকে একটি অবাধ্য যুবক হিসেবেই জেনে গেলেন।
বুদ্ধদেব বসুর কাছে আমাদের সবচেয়ে বেশি ঋণ কবিতার জন্য। যাকে আমরা এখনো আধুনিক কবিতা বলি সেই আধুনিক কবিতাকে তিনি একাই জিতিয়ে দিয়ে গেছেন। আরও অনেক বড় বড় কবি এসেছেন রবীন্দ্রনাথের পরে, কিন্তু সকলেরই হয়ে লড়াই করেছেন বুদ্ধদেব বসু। ‘আধুনিক কবিতা’ ছাড়া অন্য যে কবিতার ধারা, সাধু ক্রিয়াপদ ইত্যাদি—সেটি এখন হেরে গেছে নিশ্চিতভাবে। এটা বুদ্ধদেব বসুর একক কৃতিত্ব যে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
জীবনানন্দ দাশ যখন প্রায় অপরিচিত, তখন বুদ্ধদেব বসু অবিরাম প্রবন্ধ ও আলোচনায় লোক সমক্ষে এনেছেন তাঁকে। একজন কবি আর একজন কবি সম্পর্কে এ রকম উত্সাহ নিয়ে লিখেছেন, এ দৃষ্টান্ত বিরলের চেয়েও বিরল। শুধু জীবনানন্দ নয়, তিনি ঐ রকমই লিখেছেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কে। অন্যরা অবশ্য বুদ্ধদেব বসু সম্পর্কে প্রায় কিছুই লেখেননি, অথবা যত্-সামান্য, কিন্তু তিনি তো সে বিষয়ে চিন্তা করেননি কখনো।
তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন নবীন কবিরা। কবিতা পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তীদের যে কত ক্ষতি হয়েছি, তার পরিমাণ নির্ণয় করা শক্ত। একজন নবীন কবি কি করে জানবেন যে তার কবিতা সক্ষমতার সীমারেখাটা স্পর্শ করেছে কিনা? কবিতা পত্রিকা ছিল সেই মানদণ্ড। বুদ্ধদেব বসুর মতন একজন কবির কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস অনেক দৃঢ় হয়।
কবিতা পত্রিকা সম্পাদনার সময় তাঁর নিষ্ঠা ছিল তুলনাহীন। প্রত্যেকটি চিঠির তিনি নিজের হাতে উত্তর দিতেন। এবং অবিশ্বাস্য দ্রুতভাবে। আমরা একটা কবিতা তাঁর ঠিকানায় ও ডাক বাক্সে ফেলে পরের দিনই উত্তর পেয়ে যেতাম। কবিতা ভবনের ছাপ আঁকা খামে তাঁর খয়েরি কালিতে লেখা হাতের লেখা দেখলেই আমাদের বুকের মধ্যে ধক্ করে উঠত।
এই প্রসঙ্গে একটু ব্যক্তিগত কথা বলি। ‘কবিতা’ পত্রিকায় পাঠানো আমার প্রথম কবিতাটি তিনি প্রকাশ করেছিলেন একটুখানি বদলে। সেই বদলটুকু আমার পছন্দ হয়নি। পরে আর একটি সংকলনে সেটি অন্তর্ভুক্ত হলে আমি আবার সেটা নিজের মতন করে দিই। এর দু’তিন বছর বাদে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় এক সভায়—সেখানে তিনি আমার পরিচয় পেয়েছিলেন অন্যভাবে, আমি ওঁর এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের মেয়ের প্রাইভেট টিউটর ছিলাম। পরে জিজ্ঞেস করলেন, ও, তুমিই কবিতা লেখো? তোমার চেহারা দেখলে তো তা বোঝা যায় না। এই বলে তিনি এত জোরে হাসলেন, যে রকম আমরাও সহজে হাসতে পারি না। তারপর, আমার সেই কবিতাটিতে ওঁর সংশোধন আমি মানিনি কেন সে কথা জিজ্ঞেস করলেন। আমি সঠিক উত্তর দিতে পারিনি। আসলে সেটা আমার গোঁয়ার্তুমি ছাড়া আর কিছু না। এর পর আমি আর একটি কবিতা পাঠাবার পরেই তিনি সেটা ফেরত দিয়ে জানালেন, এই কবিতাটিতে কিছু কিছু বদল করা দরকার।
আমি চুপচাপ চেপে গেলাম। এর বছর খানেক পরে আবার এক জায়গায় দেখা, উনি কথা প্রসঙ্গে বললেন, তুমি আর লেখা পাঠাও না কেন? আমি ব্যগ্র হয়ে বললাম, পাঠাব? আপনি অনুমতি দিলেই পাঠাতে পারি। উনি আবার সেইরকমভাবে হাসলেন। বাড়ি ফিরেই আমি আবার সেই পুরোনো কবিতাটিই একটুও না বদল করে পাঠালাম। এই রকমভাবে সেই একই কবিতা আমি ‘কবিতা’ পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত ছাপা হয়েছিল। এটা আমার একটা নিতান্ত ছেলেমানুষী জেদ। এই ঘটনার উল্লেখ করলাম এই কারণে যে কতখানি উদারতা থাকলে এই ধরনের ঔদ্ধত্য এবং মূর্খামি সহ্য করা যায় তা বোঝা যাবে। উনি তো আমার কবিতাটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আমার লেখা ছাপা বন্ধ করে দিলেই পারতেন। উনি আমাদের প্রতি মনোযোগ দিতেন বলেই আমরা মনোযোগ দিয়ে ওঁর কথা শুনতাম। এ রকম ব্যবহার তো আর কারুর কাছে পাইনি! পরবর্তীকালে ওঁর কথা শুনে আমি অনেক কবিতা সংশোধন করেছি। একই ক্রিয়াপদ দিয়ে যে পর পর দুটি বাক্য শেষ করা উচিত নয়, এটা ওঁর কাছে থেকেই প্রথমে শিখি। খুবই সামান্য ব্যাপার—কিন্তু নবীন লেখককে তো কারুর এটা বলে দেওয়া দরকার।
বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর স্থান নেবার মতন কেউই রইলেন না। পরবর্তীকালের লেখকদের পক্ষে এটা এক বিরাট ক্ষতি। বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্যাদর্শে কারুর বিশ্বাস থাক বা না থাক, যে বুদ্ধদেব বসুর সব রচনা পড়বে না, সে বাংলা ভাষার অনেক কিছুই শিখবে না। সে দরিদ্র থেকে যাবে।
[প্রবন্ধটি বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুর পর নীলিমা ইব্রাহিম সম্পাদিত ১৯৭৫ সালে উত্তরাধিকারের বিশেষ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল। সৌজন্যে :সৈয়দা সেলিনা আজিজ]
