ক্রোধ থেকে হার্ট অ্যাটাক

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:০২
ক্রোধ বা রাগ বা এ্যাংগার যাই বলুন না কেন একেবারে বিপজ্জনক একটি শব্দ। ক্রোধে লাভ কতটা হয় তা হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু ক্রোধ, হিংস্রতা থেকে আপনার জীবন বিপন্ন হতে পারে। ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মত মারাত্মক বিপর্যয়। বাড়তে পারে হূদস্পন্দন, রক্তচাপ। হতে পারে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত দুর্ঘটনাও। ক্রোধের এতসব ক্ষতির পরও কেন মানুষ প্রতিনিয়ত রেগে যায়। কেন মানুষ রাগ সংবরণ করতে পারে না। জার্নাল অব সার্কুলেশন-এ এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে ক্রোধ থেকে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। এছাড়া ক্রোধান্বিত ব্যক্তির শরীরে স্ট্রেস হরমোন অধিক নিঃস্বরিত হয়। রক্তের সুগারের তারতম্য শুরু হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অস্তির ঘনত্ব হ্রাস পায়। রাগ থেকে থাইরয়েড ফাংশন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যারা প্রায়শই রেগে যান তাদের মস্তিষ্কের শুভ বুদ্ধিচর্চা হ্রাস পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্রোধ থেকে হার্টবিট প্রতি মিনিটে ১৮০ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং রক্তচাপ ২২০/১২০ পর্যন্ত বেড়ে যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্রোধান্বিত ব্যক্তির হার্টবিটের সঙ্গে রক্ত চলাচল দ্রুত বাড়ে। ফলে অধিক অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়। ফলে অক্সিজেনের অভাবে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। যা অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে পার্থক্য করা কঠিন হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে ব্রেইনের রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। যাকে বলা হয় স্ট্রোক এবং স্ট্রোক থেকে আপনি হতে পারেন পঙ্গু। ক্রোধ থেকে পাকস্থলীর কোষ উজ্জীবিত হয়ে অধিক পরিমাণ এসিড নির্গত করে। ফলে আলসারের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের ক্রোধ থেকে যেসব ক্ষতি হয় তা অবজ্ঞা করতে পারি না। পরিবারে, পেশাগত কাজে নানা ক্ষেত্রে আমরা ক্রোধান্বিত হয়ে থাকি। কিন্তু কখনও ভাবি না অকারণে ক্রোধ আমাদের জীবন বিপন্ন করে দিতে পারে। আর যদি জীবন বিপন্ন নাও হয় তবুও শরীরের ক্ষতি হয় অনেক বেশি। তাই আসুন আমরা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করি। আর ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে আপনার ধৈর্য ও মানসিকতাই যথেষ্ট। আর যদি প্রাণ খুলে হাসতে পারেন তাহলে তো বেঁচেই গেলেন। কারণ হাসি হচ্ছে ক্রোধের ভয়ংকর শত্রু।