তারুণ্যের জয়গাঁথা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:৩৩
সদ্য কৈশোর পার করে ফেলা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশের জুড়ি নেই। মাত্র ৭৫টি টেস্টে ৬৫ জন এবং ২৬৩টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ১০৫ জনের অভিষেক সে সাক্ষ্যই দেয়। তারপরও এক ম্যাচে চারজন ক্রিকেটারের ওয়ানডে অভিষেকটা একটু বাড়াবাড়িই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ব্যাপারটাকে ‘বাড়াবাড়ি’ নয়; রীতিমতো যৌক্তিক প্রমাণ করে ফেললেন অভিষিক্তরা। বিশেষ করে দুই অভিষিক্ত সোহাগ গাজী ও আনামুল হক বিজয় দেশের পক্ষে অভিষেকের রেকর্ড করে দলকে এনে দিলেন অনায়াস এক জয়। তরুণদের নিয়ে ধরা এই বাজি এমনভাবে কাজে লেগে যাওয়ায় যারপরনাই খুশি নির্বাচকরা। তবে প্রধাণ নির্বাচক আকরাম খান একটু সতর্ক, ‘আমরা খানিকটা বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা নিজেদের প্রমাণ করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, এই পর্যায়ে নিয়মিত ভালো করার বিকল্প নেই।’ আকরাম খানদের ঝুকিটা কেমন ছিল, সেটা সামান্য ভাবলেই বোঝা যায়। সাকিব আল হাসান ছিলেন না, মাশরাফি বিন মুর্তজা ফিরেছেন দীর্ঘদিন পর; এসব চ্যালেঞ্জ তো ছিলই। সবচেয়ে বড় ভয় ছিল চার তরুণকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে ভেঙে না পড়ে দল! সে ভয় তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন এই তরুণেরা। সোহাগ গাজী অভিষেক টেস্টের মতো জ্বললেন অভিষেক ওয়ানডেতেও। কাল ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতে ২৯ রানে নিলেন ৪ উইকেট। রুবেল হোসেনের ২০০৯ সালের পারফরম্যান্সকে পেছনে ফেলে অভিষেকে দেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সেরা পারফরম্যান্স করলেন সোহাগ। ফলে টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই অভিষেকে দেশের পক্ষে সেরা বোলিং এখন এই তরুণ অফস্পিনারের। আর আনামুল হক অভিষেক ম্যাচে ইনিংস শুরু করতে গিয়ে খেললেন ৪১ রানের ইনিংস। আর ৯টি রান করতে পারলে নাসির হোসেন ও ফরহাদ রেজার পর দেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে ফিফটি হয়ে যেত তার। তা না পারলেও দেশের পক্ষে পঞ্চম সেরা অভিষেক ইনিংসটা খেলতে পেরেছেন ‘বিজয়’। এছাড়াও কাল অভিষেক হয়েছে আবুল হোসেন ও মোমিনুল হকের। আবুল হোসেন টেস্টের মতো ওয়ানডে অভিষেকটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন না। টেস্টে ১০ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করেছিলেন। আর ওয়ানডেতে ব্যাট করারই সুযোগ পাননি। তবে আসল কাজ যেটা, সেই বোলিংয়ে ৮ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। মোমিনুল অবশ্য এমন একটা ম্যাচে অভিষেকের জন্য ভাগ্যকে দুষতে পারেন। সাধারণত বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ওপর চাপ কম যায় না। কিন্তু কাল ছোট্ট রান তাড়া করতে গিয়ে টপ অর্ডার যে দৃঢ়তা দেখালো তাতে ব্যাট হাতে আর নামাই হল না মোমিনুলের। তবে অপেক্ষার পালা নিশ্চয়ই খুব বড় হবে না। মোমিনুলের পরীক্ষার সময় সামনে থাকছে। মোমিনুলরা সে পরীক্ষায় সামনে কী করবেন, সেটা পরের বিষয়। তবে আপাতত তার দুই সতীর্থর পারফরম্যান্স দারুণ স্বস্তিতে রেখেছে নির্বাচকদের। এই ম্যাচে হঠাত্ চার জনের অভিষেক ঘটিয়ে একটু যে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, এটা আকরাম খান মানছেন, ‘পরিস্থিতি হঠাত্ই এমন হয়ে গেল। সাকিব অসুস্থ হয়ে পড়ল। সঙ্গে কয়েক জন সিনিয়র ফর্ম হারিয়ে ফেললো। এর মধ্যে জনা দুয়েকের অভিষেক হবে, এটা পরিকল্পনায় ছিল। কিন্তু চার জনের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা একটু টেনশনে ছিলাম।’ তবে এসব বলে আবার এই চার তরুনকে ছোট করছেন না প্রধাণ নির্বাচক। তিনি বলছেন, তাদের নির্বাচনী নীতি অনুযায়ীই এদের যোগ্যতা যথেষ্ট পরখ করেই এই পর্যায়ে আনা হয়েছে, ‘ওদের সবার হয়তো অভিষেকের কথা ছিল না। কিন্তু ওরা নিজেদের যোগ্য বলে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রমাণ করছিল। আমি শুরু থেকেই বলছি, হঠাত্ ভালো করে জাতীয় দলে আর আসা যাবে না। এই চার জন কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে টানা ভালো খেলছে। সেই সঙ্গে জাতীয় দলের আশেপাশে থেকে তাদের একটা অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ফলে ওদের ওপর ভরসাটা ছিল।’ ভরসা রাখতে আকরাম খানের আপত্তি নেই। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, শুরুই শেষ কথা নয়। তাই তরুনদের উদ্দেশ্যেই সতর্কবানী উচ্চারন করলেন যেন, ‘ভালো খেলে শুরু করার নজির কিন্তু কম নেই আমাদের। কিন্তু সবাই পরে ভালো করতে পারেনি। ফলে এদের মনে রাখতে হবে, এই পর্যায়ে টিকে থাকতে গেলে নিয়মিত সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের চেয়ে ভালো করতে হবে। আশা করি, সেটা এরা পারবে।’ আকরাম খানের এই আশাটা এখন সারা দেশেরই আশা। অভিষেকে দেশের সেরা ওয়ানডে বোলিং বোলার পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল সোহাগ গাজী ৪/২৯ উইন্ডিজ খুলনা ২০১২ রুবেল হোসেন ৪/৩৩ শ্রীলঙ্কা ঢাকা ২০০৯ আব্দুর রাজ্জাক ৩/১৭ হংকং কলম্বো ২০০৪ তারেক আজিজ ৩/১৯ পাকিস্তান চট্টগ্রাম ২০০২