ব্যাপারটা খানিকটা রূপকথার মতো। বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ, মানজারুল ইসলাম রানার কোনো স্মৃতি এবং মাশরাফি বিন মুর্তজার উপস্থিতি; এই তিনটি ব্যাপার এক হলেই বাংলাদেশের জয় যেন নিশ্চিত। সেই ২০০৭ সালে রানার মৃত্যুর পরদিন ভারতের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপারটা। একইভাবে এ বছরই রানার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন ছিল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ; সেই ম্যাচে মাশরাফির প্রত্যাবর্তন এবং জয়!
সেই ‘রূপকথা’ আবার ফিরে এলো রানার উঠোনের মাঠেই। তারই বাসার পাশের খুলনা আবু নাসের স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হল প্রয়াত টেস্ট ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানার নামে। এবং কী আশ্চর্য! আবার সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রায় অপ্রত্যাশিত এক জয় এনে দিলেন মাশরাফিরা।
তবে রূপকথাটা এবার এখানেই শেষ করতে চাচ্ছেন না মাশরাফি। এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছিল ফাইনালে ২ রানের হারে। এবার মাশরাফি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা বললেন যে, যে কোনোভাবে সিরিজ জয়ই তাদের লক্ষ্য। কাল শনিবার খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে কথা বলছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেখানেই পরিষ্কার বলে দিলেন, সিরিজের প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সিরিজ জয়ের চিন্তা না করার কোনো কারণই নেই। তবে আপাতত তারা ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ই চিন্তা করছেন । সেই চিন্তাতে আজকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চান মাশরাফি।
সে জয়ের জন্য করণীয়টাও বাতলালেন মাশরাফি, ‘আমরা মনে হয় এখন ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যাই হোক, শুরু প্রত্যেকটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যেমন প্রথম ম্যাচের শুরুটা ভালো হয়েছে। শুরুতে গেইলকে আটকে রাখা এবং ওকে দ্রুত ফেরানোটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার ব্যাটিং করলে শুরুতেই একটা ভালো সূচনা পেতে পারি। যদি এভাবে ভালো শুরু করতে পারি, অবশ্যই ভালো খেলা হবে।’
ভালো খেলা বলতে মাশরাফি যে জয়ের কথা ভাবছেন, সেটা আর বলে দিতে হয় না। এখনও প্রথম ম্যাচের জয়ের আনন্দে বিভোর হয়ে আছেন। মানুষ সৌজন্য করে পুরোনো ম্যাচের কথা ভুলে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু মাশরাফি এই অহেতুক সৌজন্য করার লোক নন। তিনি পরিষ্কার বললেন, গেইল-স্যামুয়েলস-ব্র্যাভোদের দলকে এভাবে উড়িয়ে দিতে পারায় তারা যারপরনাই খুশি। এখন আরেকটা এরকম ‘উড়িয়ে দেওয়া’ কান্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।
কিন্তু মাশরাফি একটু দুশ্চিন্তাতেও আছেন। দুশ্চিন্তাটা সাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে। অভিষেকের পর থেকে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা হয়ে আছেন মাশরাফির এই উত্তরসূরী। কিন্তু সেই সাকিব নেই এই সিরিজে। শুরুতে দু’ম্যাচের জন্য বিশ্রামে ছিলেন। এখন জানা গেছে, পুরো সিরিজই খেলবেন না তিনি। যদিও সাকিবকে ছাড়া বাংলাদেশ একটি ম্যাচ জিতে গেছে। তারপরও মাশরাফি একটু চিন্তায় আছেন, ‘আমরা সবাই খুব কষ্ট পাচ্ছি যে, সাকিব সিরিজটা খেলতে পারছে না। তারপরও এটা বুঝতে হবে যে, ও আসলে অনেক বেশি ক্রিকেট খেলছিল। এরকম একটা ইনজুরি আর খারাপ হওয়ার চেয়ে ওর বিশ্রামটা বেশি দরকার। সেই সঙ্গে এটাও ঠিক যে, আমরা আমাদের সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়েছি। দেখবেন, সর্বশেষ আমরা যতগুলো ম্যাচ জিতেছি অবশ্যই সাকিব এক্সট্রা অর্ডিনারি পারফর্ম করেছে। এখন বাকীদের দায়িত্ব, সাকিবের অভাবটা যে কোনোভাবে হোক পূরণ করা।’
সেটা করতে পারলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই দাবি করতে পারবে যে, তারা এখন অনেক পরিণত একটা দল। আর এমন পরিণত দলের খেলোয়াড়রা স্বপ্ন দেখতেই পারেন।
