চলতি অর্থবছরের (২০১২-২০১৩) প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় বেড়েছে। এ চার মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি অর্থছাড় হয়েছে। এসময় ৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থছাড় করেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এর মধ্যে ঋণ আকারে ছাড় হয়েছে ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার এবং অনুদানের অর্থছাড় হয়েছে ১৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। গত (২০১১-২০১২) অর্থবছরে ছাড় হয়েছিলো ৩৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৯ লাখ অনুদান এবং ২০ কোটি ২৭ লাখ ডলার ছিলো ঋণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায় উল্লেখিত সময়ে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সুদ আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩১ কোটি ৪ লাখ ডলার এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ হয়েছিলো ২৫ কোটি ১১ লাখ ডলার।
এ বিষয়ে ইআরডি’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গত অর্থবছরে বিশ্ববাজারে ডলারের দুর্বল অবস্থানের কারণে আমাদের পরিশোধের আকারও বেড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এবছর আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার কিছুটা শক্তিশালী হয়ে উঠায় পরিশোধের পরিমাণ কমেছে।
ইআরডি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে ১৭৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে ঋণের প্রতিশ্রুতি ১৩৮ কোটি ৭৩ লাখ এবং অনুদানের প্রতিশ্রুতি ৩৪ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। অন্যদিকে আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রতিশ্রুতি এসেছিলো ২০৬ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে ১৫২ কোটি ১৩ লাখ ঋণ এবং ৫৪ কোটি ২২ লাখ ডলার ছিলো অনুদানের প্রতিশ্রুতি।
বৃহত্ আকারের ঋণ ও অনুদানের অর্থছাড়ের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিশ্বব্যাংক ২১ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে সমপরিমাণ ঋণের অর্থছাড় করেছে এবং ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অনুদানের অর্থছাড় করেছে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৩ কোটি ৫২ লাখ, চীন ৩ কোটি ৮০ লাখ, ভারত ২ কোটি ৯৪ লাখ, জাপান ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ ঋণের অর্থছাড় করেছে। এছাড়া আইএলও ৩ কোটি ৩৬ লাখ, ইউএনডিপি আড়াই কোটি, ইউএনএফপিএ ৮৩ লাখ, ইউনিসেফ ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অনুদানের অর্থ ছাড় করেছে।
