কনফেডারেশন কাপ ২০১৩

উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ জাপান

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০৪
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০১৩ সালের ১৫ জুন কনফেডারেশন কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন জাপানের মুখোমুখি হবে। কনফেডারেশন কাপের আয়োজক দেশ ব্রাজিল। উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ব্রাসিলিয়াতে। গত শনিবার সাও পাওলোতে আট দলের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নের মোকাবেলার পর গ্রুপ পর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে আসবে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো এবং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। ইতালি চলতি বছরে অনুষ্ঠেয় হয়ে যাওয়া ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রার্নাসআপ হওয়ার সুবাদে কনফেডারেশ কাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন রয়েছে গ্রুপ ‘বি’ তে। এই গ্রুপে রয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল উরুগুয়ে। এছাড়া রয়েছে ওসেনিয়ার দেশ তাহিতি। আগামী বছর ১৯ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আফ্রিকান নেসন্স কাপ। এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল কনফেডারেশন কাপে ‘বি’ গ্রুপে চতুর্থ দল হিসেবে যোগ দেবে। এই টুর্নামেন্টের পরের বছরেই আবার ব্রাজিলেই (২০১৪) বিশ্বকাপ ফুটবল। ১৯৫০ সালের পর বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। কনফেডারেশন কাপের ফাইনাল ম্যাচটি ৩০ জুন রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মারকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই টুর্নামেন্টটি ছয়টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত থাকবে ১২টি স্টেডিয়াম। ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার ব্রাজিলের প্রস্তুতি ও অন্যান্য ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। যদিও বিশ্বকাপ এবং কনফেডারেশন কাপের আয়োজন নিয়ে অনেক কথা ও সমালোচনা হয়েছে। তবে ব্লাটার বলেন, ‘১৯৫০ সালের পর থেকে এই দেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসের। এখন ব্রাজিল উন্নত দেশ। শুধুই সংস্কৃতিতে নয় সেই সাথে অর্থনৈতিকভাবেও। আমরা এই দেশের প্রতি সন্তুষ্ট। যারা বিশ্ব অর্থনীতিতে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে।’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই টুর্নামেন্টের সফলতার ধারাবাহিকতায় তারা ২০১৪ বিশ্বকাপও সফল আয়োজক দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চান। আট দেশের কনফেডারেশন কাপ। এর মধ্যে তিনটি দেশই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর স্পেন তো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমানে তারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল। এই টুর্নামেন্টের এক লক্ষ্য ৩২ হাজার টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে ফিফা ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্লাটার যোগ করেন, ‘ব্রাজিলের ফুটবলে রয়েছে প্রচন্ড আবেগ। ফুটবলের মক্কা।’ টুর্নামেন্ট শুরু হতে ছয় মাসের কিছু সময় বেশি রয়েছে। ব্লাটার আত্মবিশ্বাসী সব কিছু ঠিকমতই ঘটবে। কনফেডারেশন কাপের আগের টুর্নামেন্টটি ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার যুক্তরাস্ট্রকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। আর সবচেয়ে বেশি মোট তিনবার কনফেডারেশন কাপের শিরোপা গিয়েছে ব্রাজিলে। ১৯৯৭ ও ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়ন তারা। এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দেশ অংশগ্রহণ করে থাকে। কিন্তু এবার একটু অন্যরকম। ইতালি রানার্সআপ হিসেবে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। কারণ স্পেন ২০১০ সালে বিশ্বকাপ এবং চলতি বছর (২০১২) জয় করেছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। দুটি বড় আসরে স্পেনই চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ইতালিকে আমন্ত্রণ করা হয় এই টুর্নামেন্টে। কনফেডারেশ কাপের দুই গ্রুপ গ্রুপ ‘এ’ ব্রাজিল, জাপান, মেক্সিকো ও ইতালি গ্রুপ ‘বি’ স্পেন, উরুগুয়ে, তাহিতি ও আফ্রিকান নেশন্স কাপ চ্যাম্পিয়ন