রাষ্ট্রায়ত্ব তিন ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগে জটিলতা কাটছে না

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৪
রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন প্রধান তিন ব্যাংক চলছে পরিচালনা বোর্ড ছাড়াই। পরিচালনা পর্ষদের শূন্যপদে পরিচালক নিয়োগ না হওয়ায় বোর্ড সভা করতে পারছেনা এসব ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলোতে নীতি নির্ধারণী কোন সিদ্ধান্ত নেয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। এতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সত্, যোগ্য ও অভিজ্ঞ পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে নাকি রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে এ বিষয়ে দোলাচলের কারণে এ বিষয়ে জটিলতা তৈরী হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর সংঘস্মারক (মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন) অনুযায়ি পরিচালনা পর্ষদে সর্বনিম্ন সাতজন এবং সর্বোচ্চ ১৩ জন্য সদস্য নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু সর্বনিম্ন সংখ্যার চেয়ে কম সদস্য থাকায় বোর্ড সভা করার সুযোগ নেই। এজন্য বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ব এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও না থাকার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বর্তমানে চেয়ারম্যানসহ জনতা ব্যাংকে চারজন, সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকে তিনজন করে পরিচালক রয়েছেন। এছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকার বলে পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসাবে রয়েছেন। পরিচালনা বোর্ড না থাকারা বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে রাষ্ট্রায়ত্ব একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বোর্ড না থাকায় সমস্যা তো হচ্ছেই। বোর্ড পর্যায়ে সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো আমরা প্রস্তুত করে রাখছি। সরকার বোর্ড গঠন করলেই বিষয়গুলো সমাধান হবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য শূন্য পদে পরিচালক নিয়োগ দিতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর স্থবিরতা কাটাতে অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভাগের সচিব ড. আসলাম আলমকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। সম্প্রতি এক বৈঠকে তারা এ অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীও দুদফায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, খুব শীঘ্রই এ নিয়োগ দেয়া হবে। জানা গেছে, হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর সত্ ও যোগ্য লোকদের অনেকে এসব ব্যাংকের পরিচালক হতে আগ্রহী না হওয়ায় পরিচালক খুজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার যারা এসব পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে লবিং করছেন তাদেরকে নিয়োগ দিতেও সরকার আগ্রহী হচ্ছেনা। ফলে সবমিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শূণ্যপদে পরিচালক নিয়োগ দেয়া নিয়ে বড় ধরণের জটিলতা দেখা দিয়েছে। আর এ জটিলতার কারণে পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার সরকার অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব এ তিন ব্যাংকসহ বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনটিতে কয়জন পরিচালকের পদ খালি আছে তার একটি তালিকা নিয়েছেন। এসব পরিচালক পদের কাদের নিয়োগ দেয়া হবে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অর্থমন্ত্রী সে তালিকা চুড়ান্ত করবেন। এদিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও নতুন পরিচালনা পর্ষদগুলোয় এবারও রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালক নিয়োগ দেয়া হতে পারে এমন ইঙ্গিত এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, পরিচালক পদে এবার আর্থিক খাতে অভিজ্ঞরা অগ্রাধিকার পেলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক পরিচালকই নিয়োগ পেতে পারেন। অবশ্য ইতোমধ্যে যারা বিতর্কিত হয়েছেন তারা পরিচানা বোর্ড থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে। এদিকে সরকারি মালিকানাধীন এ তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক ছাড়াও সরকারী মালিকাধীন বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও পরিচালক পদ শূণ্য রয়েছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দুই, বেসিক ব্যাংকের পাঁচ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) দুই, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এক ও কমার্স ব্যাংকের একজন করে পরিচালক পদ দুই মাসের বেশি সময় ধরে শুণ্য রয়েছে। এছাড়া প্রায় একই সময় ধরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) দুই এবং জীবন বীমা করপোরেশনে একজন পরিচালকের পদ খালি রয়েছে।