বিদ্যুত্ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুত্ ব্যবহারে কৃচ্ছতা সাধনের জন্য জনগণের প্রতি তার আহবান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনের পাশাপাশি বিদ্যুত্ সাশ্রয়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী রবিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে পাওয়ার প্যাক-মুতিয়ারা ১শ’ মেগাওয়াট কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে বিদ্যুতের অপচয় না করতে এবং এর ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার অনুরোধ জানাই।’ শেখ হাসিনা বিদ্যুত্ সাশ্রয়ের ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকারকে প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এজন্য বিদ্যুতের যথেচ্ছ ব্যবহার কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত প্রায় ৪ বছরে বিদ্যুত্সহ দেশের আর্থ-সামাজিক প্রতিটি খাতেই অনন্য অর্জন সাধিত হয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল জনগণ পাচ্ছে। সরকারের শুরুতেই ভঙ্গুর বিদ্যুত্ ব্যবস্থা পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেই।’ তিনি বলেন, তার সরকার পুরাতন বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত চাহিদা পূরণে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেয়। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবং বড় বড় বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রায় ৮ বিলিয়ান ডলার বিনিয়োগও হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫২টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রয়াসের প্রশংসা করে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ ৬৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছি এবং আমাদের উত্পাদন সামর্থ্য ৮৪২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক হোল্ডিং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পাশে ৭ দশমিক ১১ একর জমিতে বিওও পদ্ধতিতে এই কেন্দ্রটি নির্মাণ করে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এম এনামুল হক, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাতীয় সংসদে জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া, নজরুল হামিদ বিপু এমপি, কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামিম আহমেদ ও সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জায়নুল হক সিকদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বর্তমানে জাতীয় প্রয়োজনে উত্পাদনে রেশনিং করার কারণে এখনো কিছুটা লোডশেডিং আছে- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আরো বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করছি। ভারত থেকেও বিদ্যুত্ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি উত্পাদনকে উত্সাহিত করছি। প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত ৪ দলীয় জোটের আমলে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ লাগামহীন দুর্নীতি এবং পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের কথা উল্লেখ করেন।