দক্ষিণ আফ্রিকা বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে ভর করে গতকাল পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৯ রানে হারায়। আর এই জয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখল সফরকারীরা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের সোনালি পাতায় যার নাম রয়েছে সেই রিকি পন্টিংয়ের আবেগঘন বিদায় উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারেনি।
স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের জন্য ৬৩২ রানের সুবিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। গত রবিবার টেস্টের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া ৪০ রান তুলেছিল বিনা উইকেটে। ওপেনার এড কাওয়ান ৯ ও ডেভিড ওয়ার্নার ২৯ রানে উইকেটে ছিলেন। চতুর্থদিনের দ্বিতীয়বলেই প্রথম উইকেট হারায়। আর তারা তেমনভাবে রুখে দাঁড়াতে পারেনি প্রোটিয়াস বোলারদের বিপক্ষে। কাল চা-পানের পর ৩২২ রানে অলআউট হয় মাইকেল ক্লার্কের দল। তিন টেস্টের সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চিত করল ১-০ ব্যবধানে। ব্রিসবেন ও অ্যাডিলেড টেস্ট ড্রয়ে শেষ হয়েছিলো।
গ্রায়েম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা গত দুই দশকে প্রথম দল যারা অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই পরপর দুই সিরিজে হারালো। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমনটি করতে পেরেছে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে।
মাঠের অপ্রতিরোধ্য দক্ষিণ আফ্রিকানরা ভুল করেননি ৩৭ বছর বয়সী পন্টিংকে বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে। টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক পন্টিং। কাল খেলে ফেললেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শেষ ইনিংস। পন্টিং বলেন, ‘এটা কিছুটা বিব্রতকর এবং শুভ কামনা এমনটা আশা করিনি। কিন্তু গ্রায়েম আশ্চর্যজনকভাবে শুভ কামনা জানান। শুধু তাই নয় পুরো দলই আমাকে শুভেচ্ছা জানায়।’
কাল দক্ষিণ আফ্রিকার জয় আরো দ্রুত আসতে পারতো। তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয় পেতে পারতো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেট ৮৭ রানের জুটি গড়ে তোলে।
দশে ব্যাট করতে নামা মিশেল স্টার্ক ৪৩ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। পার্থের ওয়াকাতে এটি সেরা দশম উইকেট জুটি। স্টার্কের সাথে জুটিবদ্ধ অপর ব্যাটসম্যান নাথান লিয়ন ৪৩ বলে ৩১ রান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা বাইরের মাটিতে সফলতা অক্ষুণ্ন রাখল। ২০০৬ সালে শ্রীলংকায় তারা সর্বশেষ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। আর ওয়াকাতে তিন টেস্টের একটিতেও হারেনি। এর মধ্যে আবার দুটিতে জয় এবং একটিতে রয়েছে ড্র।
অস্ট্রেলিয়া এই টেস্ট জিতলে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে যেতে পারতো। সেই সাথে পন্টিংয়ের বিদায়টা হতে পারতো মধুর। কিন্তু এই টেস্টের দ্বিতীয় দিন থেকেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় স্বাগতিকদের।
ওয়ার্নার আর রান যোগ করতে পারেননি কাল। তিনি যখন আউট হন অস্ট্রেলিয়া তখন দুই উইকেটে ৮১ রান। ১৬৮তম টেস্টের শেষ ইনিংস খেলতে নামেন পন্টিং। মাত্র আট রানে সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক বাঁ-হাতি স্পিনার রবিন পিটারসনের শিকার হন।
অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক (৪৪) ও মাইক হাসি (২৬) পঞ্চম উইকেটে ৫৮ রান তুলতে পারে। চা বিরতির আগেই তারা আউট হন। হাসির (৬০০৩) ব্যক্তিগত অর্জন হচ্ছে তিনি ১৩তম অস্ট্রেলীয় হিসেবে ৬ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেছেন।
এদিকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড, তৃতীয়স্থানে অস্ট্রেলিয়া এবং চতুর্থস্থান পাকিস্তানের, পঞ্চমস্থান ভারতের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকা: ২২৫ ও ৫৬৯ (অলআউট)। অস্ট্রেলিয়া: ১৬৩ ও ৮২.৫ ওভারে ৩২২, অলআউট (স্টার্ক ৬৮*, কাওয়ান ৫৩, ক্লার্ক ৪৪, লিয়ন ৩১; স্টেইন ৩/৭২, পিটারসন ৩/১২৭, ফিল্যান্ডার ২/৪১, মরকেল ২/৫৭)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: হাশিম আমলা
ম্যান অব দ্য সিরিজ: মাইকেল ক্লার্ক
সিরিজ: তিন টেস্টের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ ব্যবধানে জয়ী।
