দেশের প্রথম সেমিস্টার পদ্ধতি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়ায় এখানকার শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা নিতান্তই একটু বেশি। তবুও শত ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে একটু অবসর দিতে গত ১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার একগুয়েমিটা খানিক সময়ের জন্য দূর করতে ঘুরে এলো সিলেটের জৈন্তাপুরের সারি নদী আর লালাখাল থেকে।
প্রথমেই শুরু হয় অপেক্ষার পালা। সকাল সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাস ছাড়ার কথা থাকলেও বাস ছাড়া হয় আটটায়। বাস এগিয়ে চলছে সবুজ মাঠের প্রান্তর ছিড়ে। সবাই একই ব্যাচের হওয়ায় ভ্রমণের আনন্দটা যেন একটু বেশিই ছিল সবার মধ্যে। হুই-হুল্লুই আর বেসুরা গানের আসরের মধ্যদিয়ে বাস চলছে তার গন্তব্যে। হুই-হুল্লুরের মধ্যমণি ছিল ওসমান, রায়হান, পিয়াস, সাকিব, ইভান, ক্লিনটন, ওলি, ওমর, মিরাজ, সুমো, লক্ষ্মী। গানের আসরে ছিল না কোন গায়ক স্বল্পতা। যাদেরকে গলা দিয়ে কখনও সুর বের হয় না তাদেরও থেমে থাকতে দেখা যায়নি। যেন গানের তালে হারিয়ে গিয়েছিল এক অজানায়। এরি ফাঁকে সবাই সেরে ফেলে সকালের নাস্তা। আঁকা-বাঁকা রাস্তা, সবুজ মাঠের প্রান্তর পেরিয়ে দুপুর ১২ সাড়ে দশটায় পৌঁছায় সারি নদীর ঘাটে। এখান থেকে আবার নৌকা দিয়ে নদীর পথ। তিনটি ছোট ছোট তিনটি নৌকায় তিনভাগ হয়ে উঠে সবাই। আর এই নৌকার ভ্রমণটা যেন ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। নদীতে যাওয়ার সময় যেন সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় গ্রাম বাংলার জারি-সারি আর ভাউল গানের কথা। সবাই নদীর নীল জলরাশিতে নিজের হাতটা একটু বিজিয়ে নিতে ভুলেনি। কিন্তু বর্তমানে তলানি পড়ে নদী ভরাট হওয়ার দৃশ্যটাও অনেককে ভাবিয়ে তুলতে দেখা গেছে। যা হোক অবশেষে দুপুর ১২ টায় নৌকা লালাখাল গিয়ে পৌঁছায়। এখান থেকে সবাই মিলে ঘোরে দেখে টিলা গেরা চা-বাগানের অপরূপ দৃশ্য। মাঝখানে আঁঁকা-বাঁকা নালা। আর এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরায় ধরে রাখতে ভুলেনি ক্যামেরাম্যানরা। আবার কেউ কেউ নিজেকে মডেল সাজাতে ব্যস্ত। এমন মনোরম স্থানের নিজের একটি ছবি থাকবেনা তাতো হতেই পারে না। পরে সকলে মিলে এক ফুটবল ম্যাচ খেলে। এখানে ছিল না খেলোয়াড়ের কোন সীমাবদ্ধতা। খেলা শেষে সবাই দল বেঁধে হুই-হুল্লুই করে নদীতে গোসল সেরে নেয়। তার পর দুপুরের খাবারের পালা। সবাই সারি বেঁধে খাবার নিয়ে খায়। খাবার পরিবেশন করে কাওসার, মানস, তাপস, লুবনা, শুভ। খাবার শেষে শুরু হয় সবচেয়ে মজার আসর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ধরনের মজার মজার অভিনয় দেখিয়ে সবাইকে হাসায় রুমান, শাওন, লামিছা, হিমু, মাহেরু, হিয়া, রাকিব, অনিক। সর্বশেষে র্যাফেল ড্র এর মধ্যদিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান। অবশেষে ফেরার পালা। বিকাল চারটায় নৌকা লালাখাল পিছনে পেলে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এতে শেষ হয়ে যায় খানিক সময়ের অবসর। কিন্তু রয়ে যায় এর আনন্দময় স্মৃতি সবার মধ্যে।
