বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাস মানেই একঘেয়েমি নিয়মিত কাস, এ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, পরীক্ষা, লাইব্রেরীতে বইপড়া, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, হাসি-ঠাট্টা, আড্ডা, হৈ-হুল্লোড়, মান-অভিমান, রাগ-অনুরাগ, পিকনিক, গান আর আনন্দের মাঝে ডুবে থাকা। আর নিয়মিত কাস শেষে কান্ত অবস্থায় হলে ফেরা। এর পাশাপাশি লাইব্রেরিতে পড়া, হলে জীবন কাটানো, সপ্তাহ শেষে বাড়ি যাওয়া এই আর কি।
শুধু তাই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থ জ্ঞান আহরণ ও গবেষণা করা এবং তাকে বাস্তবক্ষেত্রে কাজে লাগানো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনন্দের ভাল একটি উপায় হলো শিক্ষা সফর। আর শিক্ষা সফর মানেই একটি অনিবার্য অঙ্গ যা দূরকে কাছে টানে, কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়, অভিজ্ঞতার ঝুলিকে করে ভরপুর। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার পথিকৃত্ অন্যতম বিদ্যাপীঠ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ। আর ঠিক সেই কথার রেশ ধরেই আমাদের ফিশারিজ এন্ড মারিন সায়েন্স বিভাগ এর ৫ম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের আয়োজনে শিক্ষা সফর ব্যবস্থা করা হল চট্টগ্রামে অবস্থিত Fish Inspection and Quality Control Center and Agro Fish Products Industries Ltd.
এবং কক্সবাজারের হিমছড়ি, ইনানী বীচ। এই শিক্ষা সফরে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আমাদের সাথে যোগ দেন ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকরী অধ্যাপক মো. রাকেব-উল ইসলাম, সহকরী অধ্যাপক মো. মেহেদি মাহামুদুল হাসান এবং আনিসুজ্জামান স্যার। স্যারদের এ দিকনির্দেশনা আর একান্ত পরিশ্রমের ফলে আমাদের এই শিক্ষা সফরের সফল হয়েছে। যা হোক শিক্ষা সফরের দিন ভোর চারটার দিকে আমাদের বাস ক্যাম্পাস প্রধান ফটক থেকে যাত্রা শুরু করল।
সংখ্যায় আমরা ছিলাম ৪২ জন। আমাদের সাথে ছিলেন ৩ শিক্ষক ও ১জন কর্মচারী বাকী ৩৮ জন আমারাই। তবে শিক্ষা সফর হলে কোন আনন্দ-ফূর্তি হবে না তা কি হয়। বাসে আর ট্রেনে যেভাবেই যেখানেই গিয়েছি সেখানেই আনন্দ বুঝি আমাদের পিছু ছাড়েনি। পথের মধ্যে সকলের কাছ থেকে কথার খই আর আনন্দের ফুলঝুরি ফুটতে শুরু করল। এই শীতের মধ্যে একটুখানি হিমেল পরশের বাতাস অবগাহন যেন অন্য রকম অনুভূতি। এবারের ট্যুরে গিয়ে যেন সবাই পাখির রাজ্যে হারিয়ে গেছে এমনটাই মনে হয়েছিল। আমাদের সবার বন্ধন আকাশছোঁয়া। আমরা এবার
যেন অতিথি সেজে ভ্রমণে গিয়েছিলাম। যেভাবে অতিথি পাখিরা এদেশে এসে শীতের কঠিন সময়টা আনন্দে পার করে আবার নিজেদের অঞ্চলে ফিরে যায়। কিঙ্করদের মন বিধ্বস্ত করে উড়ে যায় পরিযায়ী মন। রাকেব স্যার বললেন, ‘ট্যুরে গিয়ে শপিং, ঘোরাঘুরি, আড্ডা, সমুদ্র সৈকত অবগাহন আর ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ট্যুরটা বেশ জম্পেশ হয়েছে। এই ভ্রমনে যেভাবে কোন বিষয় সম্পর্কে জানা গেল। তেমনি ভ্রমনও হলো।
