সমপ্রতি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর দ্বিতীয় সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রকৌশল বিদ্যা হচ্ছে বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে প্রয়োগিক ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমানকে সহজ করে তোলার কর্মপ্রচেষ্টা। প্রকৌশল জ্ঞানের এ অগ্রযাত্রা শুধু বর্তমানে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং মানুষ প্রকৌশল জ্ঞানের উত্কর্ষতায় সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে বিজয় কেতন উড়িয়ে চলছে। অনুষ্ঠানে সম্মানিত সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বিদেশী কুটনীতিক ও অতিথিবৃন্দ, ডীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও কর্মকর্তা, ডিগ্রী অর্জনকারী গ্র্যাজুয়েট ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন বক্তা প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার যে বিরাট বিনিয়োগ দেশে সরকার করছে, তার সম্পূর্ণ সুফল জনগণ পাচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। প্রকৌশল শিক্ষায় দেশে সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রী আকৃষ্ট হয়। কিন্তু পেশাজীবী হিসাবে, বিশেষ করে সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। প্রায়ই দেখা যায় যে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত আমলাদের অধীনেই প্রকৌশলীদের কাজ করতে হয়। চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সেবা ও গবেষণার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের সর্বপ্রথম IT Business Incubator স্থাপন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ১৭০৮ জনকে স্নাতক এবং ১০ জনকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ২১২ জন ছাত্রী রয়েছে। এছাড়া চারটি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের জন্য ৪ জন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক পান। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), চট্টগ্রাম হতে চুয়েট রূপান্তর পরবর্তী ২০০৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ইতোপূর্বে বিআইটি, চট্টগ্রাম থাকাকালীন আরো দু’বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
