জার্মান ফুটবল কিংবদন্তি জার্ড মুলারের ৪০ বছর ধরে টিকে থাকা রেকর্ডটি ভেঙ্গে যেতে পারে আজ বুধবার যখন বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। কোন কারণে আজ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেনফিকার বিরুদ্ধে না হলেও সপ্তাহান্তে রিয়াল বেটিসের বিরুদ্ধে গোল পেলেই আর্জেন্টাইন ফুটবলের যুবরাজ ছাড়িয়ে যাবেন ‘ডার বম্বার’ (জাতির বম্বার) খ্যাত মুলারকে।
স্পেনের পরাক্রমশালী ক্লাব বার্সেলোনা নিজেদের মাঠ ন্যূ ক্যাম্পে মুখোমুখি হবে বেনফিকার। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে চড়িয়ে মেসি খেলাটিতে গোলের দেখা পেলেই সমকক্ষ হবেন মুলারের। যদি তার করা গোল একাধিক হয় তাহলে রেকর্ডটি হয়ে যাবে আর্জেন্টাইনের।
বায়ার্ন মিউনিখ ও পশ্চিম জার্মানির হয়ে ১৯৭২ সালে ৮৫ বার লক্ষ্যভেদ করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডটি গড়েছিলেন মুলার। ২০১২ সালে বেনফিকার মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত ৮৪ গোল করেছেন মেসি। আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার হয়ে সমান তালে সফল হয়ে চলেছেন বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়।
মেসির জোড়া গোলে ভর করে নূ ক্যাম্পে গত শনিবার বার্সেলোনা ৫-১ গোলে হারায় অ্যাথলেটিকো বিলবাওকে। খেলাটিতে মেসি চলতি বছরের ৮৩ ও ৮৪তম গোলদুটি করেন। লা লিগায় চলতি মৌসুমে মেসির গোল সংখ্যা ২১টি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার পাঁচ গোল করেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও পাঁচ গোল করেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। পাঁচটি গোল আরো দুইজন অ্যালান ও বুরাক ইয়ালমাজ।
জার্মান মুলারের ছিল অসাধারণ ক্ষিপ্রতা। দূর্দান্ত গতিতে তিনি গোলরক্ষককে ব্যর্থ করে বল জালে পৌঁছে দিতেন। গোল নিয়ে মুলারের দর্শন এমন,‘ফুটবল খেলাটি সহজ থেকে অনেক দূরের ব্যাপার। গোল এত সহজে পাওয়া যায় না।’ অথচ মুলার ফুটবলটাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন যেন সঙ্গীতের প্রতিভা। মুলারের ফুটবল দেখে মনে হতে পারে ফুটবল কত না সহজ। মেসি অন্যরকম। ড্রিবলিং করে প্রতিরোধ ভেঙে দেন তিনি। মুলার থেকে পুরোপুরি ভিন্ন তিনি।
তার সৌভাগ্যে পোয়াবারো হয়েছে বার্সেলোনারও। চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচের ১৩টিতে জিতেছে স্পানিশ জায়ান্টরা। লা লিগায় এমন সেরা শুরু হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের ১৯৯১-৯২ মৌসুমে। আর্জেন্টাইন তারকা মেসি পুরো কৃতিত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি মনে করেন জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং সেস ফ্যাব্রেগাস সফলতার মূল চাবি কাঠি।
এ ব্যাপারে মেসি বলেন,‘ইনিয়েস্তা ও জাভির কথা তো সাধারণভাবে বলাই যায়। আন্দ্রেস তো গোলের কাছেই চলে যান। জাভি বল হারিয়ে ফেলেন না। আর এই দুইজনের ওপর বলের কর্তৃত্ব থাকে তখন প্রতিপক্ষের জন্য ব্যাপারটি কঠিন হয়ে যায়। ফ্যাব্রেগাস ও আমি দুইজনকে বুঝি। আমরা সব সময় জানি অপর দুইজন কি চায়। তার সাথে খেলাটা সহজ। আমরা দুজনই জানি বার্স কেমন ফুটবল খেলতে চায়।’
মেসির যতো গোল
জার্ড মুলার
গোল: ৮৫টি
ম্যাচ: ৬০টি
বায়ার্ন মিউনিখ ও পশ্চিম
জার্মানী (১৯৭২)
লিওনেল মেসি
গোল: ৮৪টি
ম্যাচ: ৮৫টি
বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা
(২০১২)
পেলে
গোল: ৭৫টি
ম্যাচ: ৫৩টি
স্যান্তোস ও ব্রাজিল
(১৯৫৮)
