ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবছেন জয়াবর্ধনে

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২৯
অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে শ্রীলংকা দলের অধিনায়কত্ব ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যত্ বিষয়ে গভীরভাবে পুনর্মূল্যায়ন করবেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে এ মুহূর্তে একটা সিরিজ নিয়ে ভাবছি। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে আমি ভাবতে সময় পাব। আমি এক বছর দলের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে সে এক বছর শেষ হবে।’ তিনটি টেস্ট, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টি-২০ ম্যাচ সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে শ্রীলংকা ত্যাগ করার আগে তিনি কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ফিরে আমি বসতে পারি এবং চিন্তা করতে পারি আমি কি অর্জন করতে চাই সেটা শুধুমাত্র আমার নিজের জন্য নয়, দলের জন্যও। আমি সব সময়ই বলে আসছি— আমি এমন ছেলে নই যে, শুধুমাত্র খেলার দোহাই দিয়ে ঝুলে থাকব। তরুণ খেলোয়াড়রা যদি দায়িত্ব নেয় এবং শ্রীলংকার জন্য কাজ করে তাহলে আমি সরে দাঁড়াতে খুশি হব এবং তাদের সে সুযোগ দেব। তবে একই সাথে দলের জন্য ক্ষতিকর হবে এমন খারাপ অবস্থাও চাই না।’ যতটা সম্ভব মসৃণভাবেই পরিবর্তনকালীন সময় পার করতে চান তিনি। এতগুলো বছর যে ভালো অর্জনগুলো হয়েছে, সেগুলো ধ্বংস হয়ে যাক তেমন কিছুই চান না তিনি। ক্রিকেটে কিংবা নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নির্বাচকদের সঙ্গে বিশেষ করে অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা করে নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে চান জয়াবর্ধনে। গত এক বছর যাবত্ নিজের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের অধিনায়কত্ব হস্তান্তর করার এটাই সঠিক সময় হবে বলে মনে করছেন জয়াবর্ধনে। তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা এ্যাঞ্জেলোর নেই। তবে যেভাবে সে প্রাদেশিক এবং এসএলপিএল দলের নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে তা পরিপক্বতার প্রমাণ করে। একজন সহকারী হিসেবে সে মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে যে অবদান রাখছে এবং যেটা হয়তোবা জনগণ বা অন্যদের চোখে পড়ছে না। সে অত্যন্ত পরিপক্ব। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, দলের তরুণ ও সিনিয়র সব খেলোয়াড়েরই সে আস্থা অর্জন করেছে।’ দলে কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় থাকা অবস্থায়ই তার দায়িত্ব নেয়ার সঠিক সময়। কেননা, এ সময় সে সকলের কাছেই সহযোগিতা পাবে। আপনি তাকে ঐ দায়িত্ব না দিলে সে কিভাবে কোন অবস্থা সামাল দেয় সেটা আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না। এই মুহূর্তে অর্জন কি করতে হবে সে বিষয়েই দল অধিক মনোযোগী। এ্যাঞ্জেলোকে অধিনায়কত্ব দেয়ার জন্য এটাই সঠিক সময় বলে উল্লেখ করেন তিনি। দলের অন্যতম প্রাধান্য হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায় একটা টেস্ট জয় করা। শ্রীলংকার সাবেক অনেক অধিনায়কই এটা অর্জন করতে পারেনি। আমাদের বর্তমান দলটি এ অর্জনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। জয়াবর্ধনে বলেন, বিশ্বের এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকায় জয় পেতে কেউই আমাদের সুযোগ করে দেয়নি এবং তাদের মাটিতে তাদের হারানোটা অনেক বড় একটা অর্জন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটা ম্যাচ জয়ের মতো ক্ষমতা এবং দলে সেরকম মেধাবী খেলোয়াড় আছে। তবে ধারাবাহিকভাবে কতটা সম্ভব এটাই প্রশ্ন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলের কিছু অভাব আছে বলেও স্বীকার করেন জয়াবর্ধনে। অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে নিজ মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে তার দল ভালো করেনি বলেও উলে¬খ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় কোন টেস্ট জয় হোক বা না-ই হোক ৫০ ওভারের একটা বিশ্বকাপ শিরোপা জয় ছাড়া বিকল্প কিছু নেই বলে জানান জয়াবর্ধনে। তিনি বলেন, ‘যে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসা করুন। ৫০ ওভারের একটা বিশ্বকাপ জেতাটাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। অবসর নেয়ার আগে একটা বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারলে সেটা হবে সারাজীবনের দুঃখ। অস্ট্রেলিয়ায় একটা টেস্ট জয় করা অবশ্যই চমত্কার হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে সব জায়গাতেই আমরা টেস্ট জিতেছি। কিন্তু ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় আমরা কোন টেস্ট জিততে পারিনি। সুতরাং অবসর নেয়ার আগে অবশ্যই আমরা এ দু’টি দেশে চেষ্টা করব এবং জয় করব। -বাসস