ফার্গুসনের পরামর্শে মরিনহোর ‘না’

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২৯
অ্যালেক্স ফার্গুসন বিশ্বাস করেন হোসে মরিনহো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব সামলানোর উপযুক্ত। ম্যানউইর ম্যানেজার ফার্গুসন ধারণা করছেন তার স্থানটি মরিনহো নিতে পারে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে। তবে, তার এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন হোসে মরিনহো। জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার কোন ইচ্ছা তার নেই। মরিনহো বর্তমানে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ম্যানেজার। তার অধীনে গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগা শিরোপাও জয় করেছে। অনেকেই ধারণা পোষণ করেন পর্তুগালে জন্ম নেয়া মরিনহো ম্যানইউর ম্যানেজারের পদের জন্য মানানসই। কিন্তু অবশ্যই ফার্গুসন ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে যাওয়ার পর। মরিনহো ও ফার্গুসনের দু‘জনেইরই ট্রফি অর্জনের তৃষ্ণা রয়েছে। নিয়মিতভাবেই প্রায় তারা যে ক্লাবের দায়িত্বেই থাকুন না কেন কিছু না কিছু অর্জন রয়েছেই। ইংল্যান্ডের লিগে মরিনহো মোটেও অপরিচিত কেউ নন। চেলসির দায়িত্বে ছিলেন মরিনহো ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত। তিন বছর তিনি সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। পর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জিতেছিলেন মরিনহোর চেলসি। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা মরিনহোর জাদুকরী ভূমিকার সাথে পরিচিত হয়েছিল ২০০৩ সালে। মরিনহো তখন পর্তুগালের ক্লাব পোর্তোর দায়িত্বে। পোর্তো ফার্গুসনের ম্যানইউকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাইরে ছিটকে ফেলে। পোর্তো ইউরোপিয়ান কাপ জয় করেছিল। বর্তমানে ৪৯ বছর বয়সী মরিনহো উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১০ বছর। ফার্গুসন মনে করেন বিশ্বে যেকোন ক্লাবের দায়িত্ব মরিনহো সামলাতে পারবেন। সংবাদ মাধ্যম আইটিভিফোর ফার্গুসনকে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সে যে কোন স্থানেই দায়িত্ব পালন করতে পারবে ভালভাবেই। অবশ্য আমি আগেভাগেই এই ক্লাবে কি হবে তার ভবিষ্যত্ বার্তা দিতে পারবো না। আমি চিরকাল থাকবো না। কিন্তু হোসে সব জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে। এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই।’ তবে ‘স্পেশাল ওয়ান’ নামে পরিচিত রোনালদো মরিনহো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে যাচ্ছি! এ ধরনের গল্পের কোনো সত্যতা নেই। এ নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’ ক্লাবে নিজের অবস্থানও তুলে ধরলেন মরিনহো, ‘ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে (ক্লাব প্রেসিডেন্ট) জিজ্ঞাসা করুন তিনি আমার কাজে সন্তুষ্ট কি না। কোনো সমস্যাই নেই। সভাপতির সঙ্গে আমার কী আলোচনা হয়েছে তা আপনাদের বলতে চাই না।’ মাঠের খেলোয়াড়ি জীবনে মরিনহোর সফলতা তেমন নেই। কিন্তু ১০ বছরের কোচিং জীবনে তার ট্রফির সংখ্যা ২১টি! ফার্গুসন বলেন,‘আমি কখনও মনে করি না কেউ খেলাটি খেলেনি কিন্তু সেরা কোচ হতে পারে। কিন্তু এরপরও তার ব্যক্তিত্বে আপনাকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমি মনে করি তার ব্যক্তি সেটা করতে পারে। সে অসাধারণ, শক্তিশালী ব্যক্তিবান এবং মনে করি সেই অভাবটা পূরণে সক্ষম। তার অর্জন অবিশ্বাস্য (ট্রফি জয়)। তার বয়স কত ? পঞ্চাশ বছর। আমার চেয়ে ২০ বছর পেছনে। এভাবেই সে আরো ৪২টি ট্রফি জিতবে। আর এখন তার যে অবস্থান তা কি বিস্ময়কর নয়?’ চেলসিতে আসার পর সংবাদমাধ্যমে ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাতি পেয়ে যান। চেলসি পরবর্তী ক্যারিয়ারের তিনি ইন্টারমিলান ও মাদ্রিদেও শিরোপা জিতেছেন। ফার্গুসন যোগ করেন,‘সে খেলোয়াড়দের বলত ‘দেখ, আমি স্পেশাল ওয়ান, আমরা ম্যাচ হারবো না। ইংল্যান্ডে এসে সে একজন তরুণ এবং বলছে সে স্পেশাল ওয়ান! কিন্তু এতে কি হয়েছে, এই কথাটি প্রতিটি খেলোয়াড়কে বিশ্বাস করতে শেখাতো তারা লিগ জিততে যাচ্ছে।’ মরিনহো ইংল্যান্ডে ফিরবেন এমন আশাবাদ আগেই ব্যক্ত করেছেন। মরিনহো পোর্তো ও ইন্টারমিলানকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন। কিন্তু চেলসিকে এনে দিতে পারেননি। এই আক্ষেপ তার আছে। চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অন্যতম ফেবারিট এবং লিগে টিকে আছে। মরিনহোর আক্ষেপ কোন ইংল্যান্ডের ক্লাবকে তিনি ইউরোপ সেরা ট্রফি এনে দিতে পারেননি। মরিনহো বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সব কিছু নিখুঁত। একটা ব্যাপার আমি করতে পারিনি। আশা করি, একদিন করতে পারবো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতব ইংলিশ ক্লাবকে নিয়ে।’