আপনার এই দেশে না ফেরা বা একেবারে আমেরিকায় স্থায়ী নিবাস গড়া প্রসঙ্গে যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
এটা আমি নিজেও শুনেছি, যে আমি নাকি চিরস্থায়ীভাবে আমেরিকায় থেকে যাচ্ছি। আমার প্রশ্ন হলো আপনাদেরই বা কেন মনে হলো আমি আর ফিরব না। একজন সেলিব্রেটি কি দীর্ঘ ছুটিতে থাকতে পারে না? নাকি সে নিয়ম নেই আমাদের দেশে? আমার পরিবার, ক্যারিয়ার সব আমার দেশে। তাই বিষয়টা মোটেই তা নয়। আমি আসলে একঘেয়েমি থেকে কিছুটা দূরে থাকতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া আমার বাবার অসুস্থতার কারণে পারিবারিকভাবেও আমি ব্যস্ত ছিলাম। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার নিয়ে একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। এই বিশ্রামটা আমার জন্য খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল।
অনেকেই বলছেন সেখানেই নতুন জীবনে সংসার বা বিয়ের সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে তারিনের বিয়ের খবর জানতে চাইলে আপনি আপনার ভক্তদের কী জবাব দেবেন?
বিয়ে তো পুরোটাই ওপরওয়ালার নির্দেশে। এটা তারই ওপরে ছেড়ে দিয়েছি। আর পারিবারিকভাবে এর সিদ্ধান্ত হবে। এ ছাড়া যিনি আমার লাইফ পার্টনার হবেন তাকে নিয়ে তো আমার নিজেরও বোঝাপড়াটা জরুরি। তাই এ বিষয়টি একেবারে আমার ভাগ্যের ওপরেই ছাড়তে চাই।
আমেরিকায় কীভাবে আপনার দিন কাটছে? সেখানে কি আপনার চিরচেনা পরিবেশ ছাড়া থাকতে ভালো লাগছে?
হ্যাঁ। আমার বোনের ছেলে-মেয়েদের সাথে দিনরাত ঘুরছি-ফিরছি। কীভাবে যে দিন কেটে যাচ্ছে আমি নিজেও টের পাচ্ছি না। কারণ এবারে ঘুরে দেশে ফেরার পর আবার এলে ওদের এই শৈশব আমি দেখব না। সেই স্মৃতিগুলোই ধরতে প্রতিদিনই ঘুরছি, আর ছবি তুলছি। এ ছাড়া এখানকার বাঙালি কমিউনিটি আছে, যারা আমার সাথে অনেক দিনের ঘনিষ্ঠ। তাদের নিয়ে প্রায় পার্টিতে আনন্দ হৈ-হুল্লোড় করেই কেটে যাচ্ছে।
বিদেশ গেলে তো কেউ না কেউ শুটিংয়েই ব্যস্ত থাকেন। সেখানে আপনার শুটিংয়ের খবর বলুন। এ ছাড়া কোনো বিদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠান করছেন কি?
না, এখানে আমি কোনো ধরনের কালচারাল অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছি না। তবে হ্যাঁ দুটি সংগঠন থেকে আমাকে সম্মানিত করা হয়েছে। খুবই এনজয় করেছি। এর বাইরে শুটিং করছি না। শুধু মাত্র তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় একটি নাটকের কাজ করেছি। এর বাইরে আমি শুধুই ঘোরাঘুরি করছি। প্রতিদিন শিডিউল করি আগামীকাল কোথায় কোথায় ঘুরব। দারুণ এক সময় কাটাচ্ছি বলতে পারেন।
চলচ্চিত্র করার কি প্ল্যান আছে? এখন তো অনেকেই ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এ ছাড়া আপনার কাজের আর পরিকল্পনা কী?
আমি ফিল্ম করব না একথা কখনোই বলিনি। অবশ্যই স্ক্রিপ্ট, পরিচালক সবকিছু মনের মতো হলে চলচ্চিত্র করব। কে কোন মিডিয়া থেকে করছে, তা দেখে নয়। আমি বরাবরই কাজের ব্যাপারে অনেক চুজি থাকি। তাই চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ এলেও খুব ভেবেচিন্তে সবকিছু মিলিয়েই কাজ করতে চাই। এর বাইরে দেশে ফিরে নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি আমার প্রোডাকশন হাউজের কাজ নিয়মিত শুরু করব।
এখনকার মিডিয়ার অবস্থা কেমন বলে মনে করেন। এই অস্থির মিডিয়ার ভবিষ্যত্ কী? এখন অনেকে তারকা হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের কেউ ঠিকমতো চিনছে না বা তাদের কোনো কাজ দর্শকদের হূদয়ে দাগ কাটছে না। তবে কি দর্শকের হূদয় কঠিন হয়ে গেছে না আমাদের তারকাদের তীক্ষতা কমে গেছে? একটু বিস্তারিত যদি বলতেন?
আমি মনে করি। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আমি জনপ্রিয়তা পাওয়াকে শিল্পী হওয়া মনে করি না। ত্রিশদিন টানা শুটিং, কিছু পত্রিকা টিভি চ্যানেলে ইন্টারভিউ দিলেই শিল্পী হওয়া যায় না। শিল্পী হয় তার কর্ম, ব্যবহার, চলাফেরা, বিনয়, চরিত্রের গুণাবলি, সবার সাথে তার কমিটমেন্ট—এই সব বিচারে। আর জনপ্রিয় হওয়াটা যেমন কঠিন। জনপ্রিয়তা ধরে রাখাটা তার থেকেও কঠিন। সেই কাজটিও তো জানতে হবে। আমি সবসময় নতুন জেনারেশনকে স্বাগতম জানাই। আর এখন অনেক চ্যানেল অনেক সুযোগ। নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। যা কিছু সহজে মেলে তা ঝরেও যায় সহজে। তাই নতুনদের ভবিষ্যত্ নিয়ে বলতে হলে ওদের আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। তার পর ওদের নিয়ে মন্তব্য করা উচিত।
