‘আরও ভালো খেলার বিকল্প নেই’

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩১
টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচই পিছিয়ে পিছিয়ে পড়ে জিতে গেছেন। কিন্তু ওয়ানডেতে দলের যাচ্ছেতাই হাল দেখছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ওটিস গিবসন। অনলাইনে দেওয়া লিখিত সাক্ষাতকারে বললেন, সিরিজে টিকে থাকতে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার বিকল্প নেই— ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করতে না পারাটা কিভাবে দেখছেন? প্রথম দু ম্যাচে হারের পর অবশ্যই আমরা চেয়েছিলাম দ্রুত নেটে ফিরে গিয়ে অনুশীলন করতে। সেই সঙ্গে আমাদের মাঠে গিয়ে কিছু ব্যাপার ঠিকঠাক করার দরকার ছিল, কোথায় উন্নতি করতে হবে সেটা আলোচনা করার দরকার ছিল। কিন্তু সে সুযোগটা পেলাম না। আগামীকাল (আজ) হয়তো আমরা একটু আগে মাঠে আসব। যাতে খেলোয়াড়রা একটু নেট করতে পারে এবং কিছু কাহ করতে পারে। তবে এটাও ঠিক যে, খেলোয়াড়দের একটু বিশ্রামের দরকার ছিল। এর মধ্যে বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে আছে। যারা টেস্ট সিরিজে ছিল, তাদের জন্য এটা খুব লম্বা সফর হয়ে গেছে। এদের জন্য নেটে যাওয়ার চেয়ে বিশ্রামটা কম গুরুত্বপূর্ন না। যেসব খেলোয়াড় শুধু ওয়ানডের জন্য এসেছে, আমি আশা করবো, তারা অন্তত নিজেদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে কাহ করবে। আশা করবো, এ পর্যন্ত আমরা যা খেলেছি, তার চেয়ে ভালো খেলবে তারা। তাহলে আজ (গতকাল) আপনারা কি করলেন? সবাই জিম করেছে। গতকাল আমরা মিটিং করেছি। এর মধ্যে ব্যাটিং স্ট্রাটেজি নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেছি। এ পর্যন্ত আমরা যেভাবে ব্যাটিং করেছি, তা নিয়ে খুবই উন্মুক আলোচনা হয়েছে, সবাই মনের কথা বলেছে। একটা কথা সবাই বুঝতে পারছে যে, আমাদের এর চেয়ে অনেক ভালো ব্যাটিং করতে হবে; সেটা আগে ব্যাট করেই হোক, আর রান তাড়া করতে গিয়ে হোক। প্রথম দুই ওয়ানডেতে নিজেদের পারফরম্যান্সটা কিভাবে দেখছেন? অবশ্যই খুব হতাশাজনক পারফরম্যান্স। আমরা টেস্ট সিরিজে এতো ভালো করার পর শুধু এই সফরটা নয়; বছরটাই খুব ইতিবাচকভাবে শেষ করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই দুটি ওয়ানডের পারফরম্যান্স খুব হতাশাজনক। আমরা যেরকম ব্যাট করতে পারি বলে জানি, একটা মুহুর্তেও সেরকম ব্যাট করিনি। মাঝে মাঝে ভালো বল করেছি, তবে সামপ্রতিক যত ভালো বল হচ্ছিল, তা কিছুতেই হয়নি। ফলে প্রতিটি বিভাগে অনেক উন্নতি করতে হবে। এমনকি ফিল্ডিংয়েও অনেক উন্নতি করার দরকার আছে। ফলে পেছন ফিরে যখন এই দুটো ম্যাচকে দেখছি, মনে হচ্ছে প্রতিটি বিভাগেই উন্নতি করতে হবে আমাদের। আগামীকালকের (আজকের) ম্যাচ জিততে হলে কি করতে হবে আপনাদের? ওই যে বললাম, তিন বিভাগেই সমান উন্নতি করতে হবে। ওদের চেয়ে এক রান বেশি করতে হবে। এর মানে, আমাদের ব্যাটসম্যানদের উইকেটে থাকার আগ্রহ আরেকটু বাড়াতে হবে। তাদের ইনিংস বড় করার ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে। দলে যার যার কাজটা বুঝে সেটা মাঠে প্রয়োগ করতে হবে। আমার মনে হয়, এখন খেলোয়াড়রা নিজেরাই পারে অবস্থা বদলাতে। কারণ, এই দুই হারে রাতারাতি আমরা নিশ্চয়ই খারাপ দলে পরিণত হইনি! আশা করা যায়, ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব নেবে; বেশিরভাগ ওভার খেলে আসতে হবে। দ্বিতীয় ওডিআইতে আমরা ১৯ ওভার বাকী থাকতে অলআউট হলাম। এটা তো খুব হতাশাজনক ব্যাপার। দলে এক ঝাক অলরাউন্ডার থাকায় দলটির ভাসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে; এমন একটা সমালোচনা হচ্ছে... আমরা সারা বছর তো এই এক ঝাক অলরাউন্ডার নিয়েই খেললাম। তারা দলকে সফলও করেছে। দেখুন, হারতে থাকলে অনেক কিছু চোখে পড়ে, অনেক কিছু বলা হয়। তবে এই অলরাউন্ডাররাই সারা বছর আমাদের অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রায় এই দলটাই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে। খুলনা থেকে ঢাকায় আসতে পারায় কি একটু স্বস্তি পাচ্ছেন? অন্তত এটা বলা যায় যে, ঢাকার ভেন্যুটা আমাদের জন্য ভালোই। আমরা এখানে বেশ কিছু টেস্ট জিতেছি। গত বছর কয়েকটা ওয়ানডে জিতেছি। তবে ভেন্যু বদলে তো কাজ হবে না। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। বাংলাদেশ প্রমান করেছে, তারা উন্নয়নশীল একটা ওয়ানতে দল। গত বছর যাদের বিপক্ষে খেলেছিলাম, তার চেয়ে এই দলটা যেন আরও শক্ত। ফলে আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।