স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীর উপজেলার বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পাকবাহিনী শ’ শ’ মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে ক্যাম্প সংলগ্ন একটি পুকুরে ফেলে দিত। ওই স্থানটি আজও সংরক্ষণ না করায় শহীদ পরিবারে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে জুড়ীতে পাকবাহিনী প্রবেশ করে। শুরু হয় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন। জুড়ী শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের ৪নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের মার্কেট এবং পুরনো জনতা ব্যাংক ভবনে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন দাউদ ও তার সহযোগীরা নির্যাতনশালা তৈরি করে স্থানীয় রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস ও দালালদের সহযোগিতায় নারী-পুরুষদের ধরে এনে এখানে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ পার্শ্ববর্তী মুক্তিযোদ্ধা মাসুক আহমদ ও জাগদারি নুনিয়ার পুকুরে ফেলে দিত।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজম্মিল আলী, আব্দুস সহিদ চৌধুরী, আব্দুল আজিজ, আলিম মিয়া, আব্দুল হান্নান জানান, এটি জুড়ীর বৃহত্ বধ্যভূমি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বড় অযত্নে পড়ে আছে এই স্থানটি। জুড়ীর বৃহত্ বধ্যভূমির তথ্যটি এ প্রজন্মের অনেকেরই জানা নেই। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও এ বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ কোন সরকারের আমলেই নেয়া হয়নি। ফলে লোকচক্ষুর অন্তরালে এটি হারিয়ে যাচ্ছে।
