মানুষ বেঁচে থাকে স্বপ্নের মাধ্যমে। স্বপ্ন না থাকলে যেন মানুষের বাঁচাটা অর্থহীন হয়ে পড়ে। আবার সত্ মনোভাব নিয়ে স্বপ্নের বাস্তবায়নে চেষ্টা করলে একজন মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয় ঠিকই। তেমনি নাট্যনির্মাতা আলম জাহাঙ্গীরও নিজেকে পরিচালক হিসেবে তৈরি করেছেন একটু একটু করে। নিজের স্বপ্ন পূরণ হওয়াটাও তারই চেষ্টার ফসল। তার ভাষ্যে, ‘আমার টিভি মিডিয়াতে যাত্রা শুরু হয়েছিল বন্ধু মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহযোগী হিসেবে। সে সময় ফারুকীর বেশকিছু নাটকের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। মাঝে পড়াশোনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা চলে গেলে নাটকের সাথে বন্ধন কিছুটা কমে যায়। তবে খুব বেশিদিন বিদেশে ভালো লাগেনি। তাই ফিরে আবার বন্ধু ফারুকীর সাথে যোগ দিলাম। কিন্তু এবারও ছন্দপতন হলো। ইতালিতে জীবনের প্রয়োজনেই ছুটতে হয় আবার। তবে তা যে প্রিয় মানুষের শেষ মুখচ্ছবি দেখা থেকেও বঞ্চিত করবে তা কখনোই ভাবিনি। বাবার মৃত্যুর ক্ষণে কাছাকাছি না থাকার যন্ত্রণায় ইতালির নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ফিরে আসতে হয় আত্মীয়, পরিজন ও বন্ধুদের কাছে। শৈশবের বন্ধু ফারুকী এই সময় পাশে এসে দাঁড়ায়। তার অনুপ্রেরণা ও উত্সাহে আমি আবারও মিডিয়াতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি পুরোদমে। ‘ক্যারাম-২’, ‘ফোর টোয়েন্টি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘আমেরিকা’, ‘হাউসফুল’, ‘মটরযান’সহ প্রায় বিশটি নাটকে অভিনয় করি। এক সময় কবিতা লিখতাম খুব। দু’টি কাব্যগ্রন্থও বেরিয়েছে আমার। তাই অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার পর নাটক লেখায় মনোনিবেশ করলাম। সেই সাথে পরিচালনাতেও সাহস করে নেমে পড়লাম। ‘মোবাইল ম্যানিয়া’, ‘দৌড়’ ও ‘অভিযোগ কোথায় করব’ নাটকগুলো নির্মাণের পর বন্ধুমহল ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ভালোই সাড়া পেলাম। সেই থেকে নাটক নির্মাণের মাঝেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি।’ রাজধানীর নাখালপাড়ায় বেড়ে ওঠা আলম জাহাঙ্গীর বর্তমানে নির্মাণ করছেন বেশ কয়েকটি টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—‘অসমাপ্ত’, ‘দ্য সিটি অব মংলি’, ধারাবাহিক ‘ফরেনার’ ইত্যাদি। নিজের নির্মিত নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সত্ভাবে কাজ করে যেতে চাই। আমার প্রতিটি নাটকেই কিছু না কিছু মেসেজ থাকে। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন নাটক, টেলিফিল্ম তৈরি হচ্ছে কিন্তু ক’টা মানুষ মনে রাখছে, সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। আমি মানুষের মনে ভালোলাগে এমন কিছু নাটক নির্মাণ করতে চাই এবং সেই প্রচেষ্টা আমি শত প্রতিকূলতার মাঝেও অব্যাহত রাখব।’ মায়ের প্রতি ভালোবাসা তার অন্যরকম। শুধু নিজের মা-ই নন, বিশ্বের সব মায়ের প্রতি তার আলাদা একটা মমত্ববোধ কাজ করে। তার স্বপ্ন—দেশের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মায়েদের জন্য ভালো কিছু করা। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার জানতে চাইলে আলম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ইচ্ছা আছে বিজ্ঞাপনে ও নাটকে পারফর্ম করার। পাশাপাশি মানসম্পন্ন ও গতানুগতিকের বাইরে এমন কিছু ফিকশন তৈরি করা যা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে আগামী দিনের পথচলায়। সেই সাথে খুব শিগগিরই চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজেও হাত দেবো।’
