বাংলাদেশ ও ভারতীয় ৫২ জন শিল্পীর অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হলো প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মৃদঙ্গ উত্সব। সম্প্রতি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের সাহিত্য পত্রিকা পৌড়ির আয়োজনে প্রদীপ জ্বালিয়ে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মৃদঙ্গ উত্সব-২০১২-এর উদ্বোধন করেন বিচারপতি এসকে সিনহা ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। উদ্বোধনের সাথে সাথেই প্যান্ডেলের মধ্যস্থানে বিশেষভাবে নির্মিত মঞ্চে ভারত ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী ৫২ জন মণিপুরী শিল্পী এক সাথে মৃদঙ্গ বাজিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। উপজেলার রানীর বাজারস্থ দয়াময় সিংহ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাড়ে ৩টায় প্রথম দিনে ডা. সুকুমার সিংহের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি এসকে সিনহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, ভারতের ত্রিপুরা সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি বনমালী সিংহ, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জিয়াউল হক, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি সৈয়দ বজলুল করিম, রুপালি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. রফিকুল হক ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। মৃদঙ্গ অনুষ্ঠানের পর পরই ৫২ জন শিল্পী চার ভাগে বিভক্ত হয়ে নটপালার ভিতরে মন্দিরা নৃত্য, রাখাল নৃত্য ও রাস নৃত্য পরিবেশন করেন। যা উপস্থিত শত শত দর্শকদের মুগ্ধ করে। মৃদঙ্গ উত্সবের দ্বিতীয় দিন রবিবার সকাল ১০টায় বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. রঞ্জিত সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করেন ভারতের আসামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হেমকান্তি সিংহ। ওইদিন আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের আসাম রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বিভাগের প্রাক্তন পরিচালক কুমকুম সিংহ। এ ছাড়াও ছিল দুই দিনব্যাপী এ উত্সবে ড. জাফর ইকবালের উপস্থিতিতে গুণীজন সংবর্ধনা। এরপর মণিপুরী থিয়েটার মঞ্চায়ন করে নাটক ‘দেবতার গ্রাস’।
