শচিন টেন্ডুলকার ধৈর্যের সাথে ব্যাট করে তোলা ৭৬ রানের ইনিংস খেলে আবার ফর্মে ফিরেছেন। এরপরও কলকাতার ইডেন গার্ডেনে গতকাল বুধবার শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টের উদ্বোধনী দিনে খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছে ইংল্যান্ড। কেননা ইংলিশরা এদিন ভারতকে সাত উইকেটে ২৭৩ রানের বেশি তুলতে দেয়নি।
চাপের মধ্যে থাকা টেন্ডুলকার দেখে শুনে খেলে ১৫৫ বলের মোকাবিলায় ১৩ বাউন্ডারির মারে ইনিংসটি খেলেন। এ রানগুলো তোলার পথে পঞ্চম উইকেটে যুবরাজ সিংহের সাথে মিলে ৭৯ রানের ভাগিদারী গড়েন তিনি। ভারতীয় ইনিংসে অধিকাংশ টপ অর্ডার যখন দলকে ভাল সূচনা দিতে ব্যর্থ হন সেসময় এ দুজনের ভাগিদারীতে মোটামুটি ভদ্রগোছের সংগ্রহ পায় টসে জিতে ব্যাটিং নেয়া স্বাগতিক দল।
শচিন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সিমার জিমি অ্যান্ডারসনকে খেলতে বাধ্য হয়ে ক্যাচ তুললে অকালে সাজঘরে ফেরেন তিনি। উইকেট রক্ষক ম্যাট প্রায়র নিজের ডানে ঝাপিয়ে তার ক্যাচটি নেন। সিডনি টেস্টের পর এটা হলো তার প্রথম অর্ধশতক। ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার জন্য চাপের মধ্যে থাকা শচিন এদিন পেসার স্টিফেন ফিনকে বাউন্ডারি হাঁকানোর মধ্য দিয়ে রানের দেখা পেয়ে ভারমুক্ত হন।
ভারত অবশ্য দুই ওপেনার গৌতম গম্ভীর (৬০) ও বিরেন্দর সেবাগের (২৩) সুবাদে ব্যাটিং উইকেটে শুরুতে ভালই রান তুলছিল। কিন্তু গম্ভীর ভালভাবে শুরু করেও আরো এক দফা নিজেকে তিন অংকের ঘরে টেনে নিয়ে যেতে পারলেন না। তার ১২৪ বলের ইনিংসটিতে ছিল ১২ বাউন্ডারির মার। অপরদিকে বিরাট কোহলি এই সিরিজে যে ফর্মহীনতার মধ্যে আছেন তা ইডেনেও অব্যাহত রাখেন কেবল ছয় রান করে।
অ্যান্ডারসনই (৩/৬৮) স্বাগতিকদের কাঁপিয়ে তোলেন দিনের শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নেয়ার পর। তার অফকাটারে বিফলে যায় রবিচন্দন অশ্বিনের রক্ষণ কৌশল।
দিনের শেষে ক্রিজে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তার সংগ্রহ ২২ রান, যা আসে ৫৯ বলের বিপরীতে। তাকে সঙ্গ দেন জহির খান; যিনি রানের খাতা খোলার অপেক্ষায় ছিলেন স্টাম্প তোলার সময়। ইডেনে এই প্রথম কোন টেস্টে ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে খেলা চালানো হলো। কাল দিনের শেষে ৪০ মিনিট খেলা হয় ফ্লাড লাইটের আলোয়। ইডেনের উইকেট অবশ্য এদিন বরাবরের মতো ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়কেই ক্ষণে ক্ষণে আনুকূল্য দেয়।
মূলত ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দেখে-শুনে খেলার ঘাটতিকেই সফরকারীদের ভাল অবস্থানে পৌঁছার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা সেবাগের রান আউটটির জন্য দায়ী মূলত ওপেনার গম্ভীরের বিবেচনা বোধের ঘাটতি। নইলে এ দুজনে শুরুর ১০ ওভারে ৪৫ রান তুলেছিলেন। সেবাগের বিদায়ের পর চেতেশ্বর পুজারা, কোহলি ও যুবরাজ কেউই দলকে ভাল কিছু দিতে পারেননি। ফর্মে থাকা চেতেশ্বর কেবল ১৬ রান করে বিদায় নেন। মন্টি পানেসার তাকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হলে চেতেশ্বরের মিডল স্টাম্প উড়ে যায়। কোহলি স্লিপে ক্যাচ দেন। তখন ভারতের সংগ্রহ ৪/১৩৬। এরপর যুবরাজ এসে শচিনের সাথে মিলে হাল ধরেন। যুবরাজ পর পর দুটি বাউন্ডারি হাঁকালে ভারতীয় শিবিরে হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু চা বিরতির পর ফিনকে লং লেগ বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে নিজের ৬৬তম অর্ধশতক নিশ্চিত করেন শচিন এবং সাজঘর থেকে সতীর্থদের উল্লাসে সাড়া দেন। যুবরাজকেও তখন ক্রিজে স্থিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে ক্যান্সার জয়ী এই অলরাউন্ডার ৩২ রানে দাঁড়িয়ে গ্রায়েম সোয়ানের অফ ব্রেকে শট কভারে আলস্টেয়ার কুকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন।
স্কো র কা র্ড
ভারত প্রথম ইনিংস
গৌতম গম্ভীর ক ট্রট ব পানেসার ৬০
বিরেন্দর শেবাগ রান আউট (ফিন/প্রিয়র) ২৩
চেতেশ্বর পুজারা ব পানেসার ১৬
শচীন টেন্ডুলকার ক প্রিয়র ব অ্যান্ডারসন ৭৬
বিরাট কোহলি ক সোয়ান ব অ্যান্ডারসন ৬
যুবরাজ সিং ক কুক ব সোয়ান ৩২
মহেন্দ্র সিং ধোনি নটআউট ২২
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ব অ্যান্ডারসন ২১
জহির খান* নটআউট ০
অতিরিক্ত (বাই-৫,লেগ বাই ১১,নো-১) ১৭
মোট (৭ উইকেট ,৯০ ওভার) ২৭৩
ব্যাট করেননি : প্রজ্ঞান ওঝা,ইশান্থ শর্মা
উইকেট পতন : ১-৪৭ (শেওয়াগ, ১০.১ ওভার), ২-৮৮ (পুজারা, ২৫.৪ ওভার), ৩-১১৭ (গম্ভীর ৪১.১ ওভার), ৪-১৩৬ (কোহলি ৪৮.৪ ওভার), ৫-২১৫ (যুবরাজ, ৬৮.৩ ওভার), ৬-২৩০ (টেন্ডুলকার, ৭৪.১ ওভার), ৭-২৬৮ (অশ্বিন , ৮৮.৩ ওভার)
বোলিং : জেমস অ্যান্ডারসন ২১-৫-৬৮-৩, স্টিভেন ফিন ২০-২-৬৯-০, মন্টি পানেসার ৩৫-১২-৭৪-২, গ্রায়েম সোয়ান ১৪-১-৪৬-১।
ইংল্যান্ড দল :অ্যালিস্টার কুক (অধিনায়ক), নিক কম্পটন, জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেন, ইয়ান বেল, সামিট প্যাটেল, ম্যাট প্রিয়র, গ্রায়েম সোয়ান, মন্টি পানেসার, জেমস অ্যান্ডারসন, স্টিভেন ফিন।
