টিকিট চাই টিকিট! এই স্লোগান নিয়ে রাতভর অপেক্ষায় ক্রিকেট পাগল দর্শকরা। অথচ সারারাত লাইনে দাঁড়িয়েও একটি টিকিট মেলেনি তাদের। গতকাল বুধবার ব্যাংক খোলার পরপরই টিকিট পায়নি হাজার হাজার দর্শক। কেউ বা ফিরে গেছেন হতাশ হয়ে কেউ ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তবে কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে দর্শকদের ক্ষোভের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অফিস।
মিরপুর স্টেডিয়ামের একাডেমির সামনে কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যেও সারারাত লাইন দিয়েও সকালে তারা জানতে পারে একাডেমিতে কোন বুথ রাখা হয়নি। এই খবর জানার পরপরই বিসিবি অফিসে বেশ কিছু দর্শক ইট-পাথর ছুঁড়ে মারে। ফলে বিসিবির দোতলার সামনের আটটি গ্লাস ভেঙ্গে যায়। তিনতলায় টুর্নামেন্ট কমিটির রুমের একটি গ্লাসও ভেঙ্গেছে বলে দাবি করেছে কমিটির সদস্যরা। পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন বিসিবির টিকিট এন্ড সিটিং কমিটির দায়িত্বে থাকা গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তিনি বলেন, ‘সকাল নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আসলে একাডেমির সামনে বুথ রাখা হয়নি। এটি তারা জানতেন না। তাছাড়া তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের টিকিট ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাছাড়া আজই (কাল) আমরা ৭ তারিখের টিকিট বিক্রি করেছি। তাই আজকের ম্যাচের টিকিট রাখা তো সম্ভব নয়। তবে এখন যে পরিস্থিতি তাতে সামনের ম্যাচগুলোতে বুথ রাখা সম্ভব হবে না’।
টিকিট না পেয়ে দর্শকদের ক্ষোভ এবং তারপর বিসিবি অফিসে হামলা, বিষয়টি অনেকে ষড়যন্ত্রমূলক বলেও মনে করছেন। তবে লিপু কূটনৈতিক উত্তর দিলেন, ‘আসলে টিকিট পায়নি বলে তারা ক্ষোভ ঝেড়েছে’। প্রায় ২৬ হাজার আসনবিশিষ্ট মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রতিটি ম্যাচের জন্য সাধারণ দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার টিকিট। বাকি টিকিট বিভিন্ন সরকারি আমলা, মন্ত্রী-এমপি এবং বিশিষ্টজনদের জন্য বরাদ্দ থাকে। এই কারণে স্টেডিয়ামের বাইরে যখন সাধারণ দর্শকদের টিকিটের জন্য হাহাকার করতে দেখা গেছে তখন এর উল্টো চিত্র স্টেডিয়ামের ভিতরে। বাংলাদেশ ব্যাটিং করছিল অথচ স্টেডিয়ামের অনেক জায়গার আসন খালি পড়েছিল। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লিপু বলেন, ‘আসলে যাদের সৌজন্যমূলক টিকিট দেয়া হয়েছে তারা স্টেডিয়ামে আসেননি। তাই কিছু আসন খালি আছে’।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের টিকিট বিক্রি করছে স্যোসাল ইসলামী ব্যাংক।
