সোহরাওয়ার্দীর আদর্শে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহবান

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
গণতন্ত্রের মানসপুত্র, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার প্রগতিবাদী এ রাজনীতিকের বর্ণাঢ্য জীবন স্মরণ করেছেন। কর্মসূচিতে সোহরাওয়ার্দীর আদর্শ ধারণ করে একনায়কতন্ত্র এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহবান জানানো হয়। গতকাল কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, সোহরাওয়ার্দীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। দোয়েল চত্বর সংলগ্ন তিন নেতার মাজারে সোহরাওয়ার্দীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জেপি), যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। সকাল ৮টার দিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, উপ দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক মতাদর্শ আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয়। তার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করলে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে তা থেকে উত্তরণ সম্ভব। তার দর্শনে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়া সহজ হবে। দেশের তরুণদের সোহরাওয়ার্দীর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে তিনি আহবান জানান। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টি-জেপি’র পক্ষ থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা এবং ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মীর হারুনুর রশীদ, যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, এম এ কাইয়ুম, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, এনামুল ইসলাম রুবেল, হুমায়ুন কবির তালুকদার, জেড সেলিম প্রমুখ। এসময় জাতীয় পার্টি-জেপি’র উদ্যোগে মাজার জিয়ারত এবং ফাতেহা পাঠও করা হয়। যুবলীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাউছার, ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দিবসটি উপলক্ষে তিন নেতার মাজার প্রাঙ্গণে স্মরণ সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ। এডভোকেট সাজাওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, রাজনীতি সব সময় শুধু জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হয়। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে রাজনীতি করলে তা ভিন্ন উদ্দেশ্যে পরিচালিত সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানী নীতি এবং সন্ত্রাস। দেশে জামায়াত-শিবির অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এ দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা চায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশের মাটিতেই হবে। ইতিহাসবিদ সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন বলেই জনপ্রিয় ছিলেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তার অসামান্য অবদানের জন্যই তাকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলা হয়। এদিকে গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরিতে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, ‘জামায়াতের হরতাল কোনো ভাবেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়, এটা যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধ এবং তাদের মুক্তির দাবিতে ডাকা হরতাল। তাদের কর্মকাণ্ড অসাংবিধানিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। তাদের মুক্তির দাবিতে ডাকা এই হরতালে সমর্থন দিয়ে বিএনপি সংবিধান ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করেছে।’ সংগঠনের উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, কবি রবীন্দ্র গোপ প্রমুখ। উল্লেখ্য উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের একটি হোটেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান। তিনি আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক পরামর্শ, শিক্ষা এবং নির্দেশনা গ্রহণ করতেন তার কাছ থেকে।