গাজীপুর জেলার সাথে ২-২ গোলে ড্র করে সাতক্ষীরা জেলার হকি খেলোয়াড়রা মাঠ থেকে বেরিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইট টাওয়ারের নিচে বসে গল্প করছিল। ম্যাচ ড্র করার আনন্দের গল্প। সেই সাথে সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রাতেই বাস ধরার পরিকল্পনা করছিল। খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলতে গেলে দলের খেলোয়াড় প্রিয় গোপাল বলেন, ‘ভাই আমরা যে ম্যাচটা ড্র করতে পেরেছি তাতেই আমাদের জন্য গর্বের শেষ নেই।’
এমনভাবে কথাটা বলারও কারণ আছে। আগের দিন মঙ্গলবার জাতীয় যুব হকিতে এই সাতক্ষীরা জেলা ২৫ গোলে রাজশাহী জেলার কাছে হেরেছে। আর সেই হারে সাতক্ষীরার ছেলেদের যেন মান সম্মান চয়ে যায় যায় ভাব। সেই লজ্জা কিছুটা হলেও ঢাকতে পেরে মহা আনন্দে স্টেডিয়ামের বাইরে এসে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলেন খেলোয়াড়রা।
কঠিন এক ড্র পেয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। গাজীপুর জেলা রাতুলের দেয়া দুই গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে শুভ কুমার এবং মাসুদ রানার গোলে সাতক্ষীরা জেলা ম্যাচটা ড্র করলেও যুব হকি থেকে বিদায় নিয়েছে। তারপরও এক ড্র নিয়ে চ্যাম্পিয়নের হাসি হাসেছেন খেলোয়াড়রা।
তাদের সাথে কথা বলতে গেলে সবাই ঘিরে ধরল, নানা সমস্যা নিয়ে কথা বললেন খেলোয়াড়রা। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা ঢাকায় পৌঁছেছে ভোর সাড়ে পাঁচটায়। অনুশীলন নেই, তারপরও মাঠে নামতে হয়েছে বিকাল বেলাই। এমনই একটি দল যাদের সাথে অনেক অনুশীলন করেও সাতক্ষীরা জেলার পক্ষে ম্যাচ জেতা সম্ভব না। খেলোয়াড়রা বললেন কোচ নেই অনুশীলন নেই। ক্রীড়া সামগ্রী নেই। আমাদের দেখারও কেউ নেই। প্রিয় গোপাল বললেন, আমাদের কোচ নেই। আমাদের চেয়ে দুই বছর সিনিয়র খেলোয়াড় সাইফুল ইসলাম। তিনি আমাদের কোচ হলেও ডিগ্রি পরীক্ষার কারণে ঢাকায় আসতে পারেননি।’ তার কথা শেষ না হতেই রমজান আলী বললেন কোচ না থাকলে খেলা যায়, আপনিই বলুন।’ মাত্র ১৩ জন খেলোয়াড় নিয়ে ঢাকায় খেলতে এসেছিল সাতক্ষীরা জেলা যুব হকি দল। যাদের মধ্যে অনেকে রাজধানীতে প্রথম বার এসেছেন। এমনকি দুই একজন রয়েছেন যারা এবারই প্রথম হকি খেললেন। সাদিউল আরেফিন মধু প্রথম বার হকি খেলছেন। তার হাতে স্টিক দেখিয়ে মধু বললেন দেখুন স্টিকে জোড়া তালি দিয়ে খেলতে হচ্ছে।’ সাতক্ষীরা সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শুভ কুমার গোল করেছেন ম্যাচে, বললেন আমাদের তো ফিটনেসই নেই খেলবে কি করে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানা গোল করেছেন ম্যাচে। তার কথা ‘আমরা ফেরি ঘাটে চার ঘন্টা বসে ছিলাম ঠাণ্ডার মধ্যে। কোনো বিশ্রাম ছিল না। সেই অবস্থায় মাঠে এসেই এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছে যারা কিনা পেশাদার হকি খেলোয়াড়।’ প্রিয় গোপাল বললেন নিজেদের মাঠ উঁচু নিচু। ঢাকায় টার্ফে এবার প্রথম খেলতে এসেছি। বল ধরাই যায় না। আমাদের প্রতিপক্ষ দল রাজশাহীর খেলোয়াড়রা ঢাকায় লিগে খেলে। ওরা একজনই আমাদের পাঁচ জনকে কাটিয়ে বল নিয়ে যায়। সাতক্ষীরায় পুলিশ লাইন বিদ্যালয়ের ঘাসের মাঠে অনুশীলন করে ঢাকার হকি স্টেডিয়ামে খেলা সম্ভব না।’ রমজান বললেন, আমাদের ক্রীড়া সামগ্রী নেই। তবে অনেক সংকটের মধ্যেও এই সব খেলোয়াড়রা জেলা ক্রীড়া অফিসার এনামুল হক সম্পর্কে বলেছেন, তিনিই আমাদের অনেক সমস্যা সমাধান করেছেন। বিশেষ করে খাওয়া দাওয়ায় আমরা কোনো কষ্টই পাইনি।’
