সব ইবাদতকে সৌন্দর্যময় করে নামাজ

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৪৩
আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে সর্বপ্রধান ইবাদত হল নামাজ। কুরআনে আল্লাহপাক বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় বিরাশিবার নামাজের কথা উল্লেখ করেছেন। দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামজ আমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে। সাত বছর বয়স হতেই নামাজের প্রশিক্ষন দিতে বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক বলেন, ‘সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা সকল মুসলমানের জন্য ফরজ।’ এই কথার অর্থ এই যে, শুধু নিজে নামাজ আদায় করলে হবে না, পরিবারের সবাইকে নামাজের তাগিদ দিতে হবে। দশ বছর বয়স থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত ধনী, গরীব, যেই হোক না কেন নামাজ হতে কেহই রেহাই পাবে না। সবাইকে নামাজ আদায় করতে হবে। নবী করিম (স.) বলেন, ‘ছেলে মেয়ে যখন সাত বছর বয়স হবে তখন থেকে তাদেরকে নামাজের তাগিদ দিতে হবে। আর দশ বছর বয়স হলে ধমক বা শাস্তি দিয়ে হলেও নামাজ পড়াতে হবে। তিতা ঔষধ শিশু খেতে না চাইলে মা অনেক উপায় অবলম্বন করে তা শিশুকে খাওয়ান, কারণ মা জানেন, এতেই শিশুর মঙ্গল নিহীত। সেইভাবে নানা উপায়ে বুঝিয়ে সন্তানকে নামাজ পড়াতে হবে। পাঁচ ওয়াক্তের এক ওয়াক্ত নামাজ পরিহার করা যাবে না। নামাজ পরিহার করিলে বান্দার কুফরী কাজ করা হয় (বুখারী মুসলিম)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন, ‘ইন্নাস সালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ি ওয়াল মুনকার’ অর্থ: নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে। রাসূলে করিম (স.) বলেন, ‘যখন কোন মুসলমান ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করে তখন তার পাপসমূহ গাছের পাতার ন্যয় ঝরে পড়ে।’ আল্লাহ তার হাবীববে ডেকে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রুকু সিজদা ঠিক করে নামাজ আদায় করবে তাকে আমি বেহেশতে প্রবেশ করানোর ওয়াদা করলাম।’ যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করে না তার জিম্মাদার আমি নই। এই বেহেশত পেতে হলে আমাদের নামাজ আদায় করতে হবে। হাদীসে আছে ‘নামাজ বেহেশতের চাবি’ এই হাদীস দ্বারা বুঝা যায় নামাজ ছাড়া বেহেশতের দরজা খোলা যাবে না। নামাজ আল্লাহর তরফ থেকে আমাদের জন্য পুরস্কার। মেরাজের রাত্রিতে নবী করিম (স.) আমাদের জন্য এই পুরস্কার নিয়ে আসেন। এই নামাজের জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে রাসূলে করিম (স.) কয়েকবার যাতায়াত করেছিলেন। আল্লাহ পাক এই জন্য ইবাদত হিসাবে নামাজকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে গন্য করেছেন। নামাজ ছাড়া আর কোন ইবাদত এত বড় গৌরব লাভ করে নাই। নামাজে একাগ্রতার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা রুকুতে মাথা ঝুকে পড়া এবং সিজদায় গিয়ে নিজের দীনতা, হীনতা প্রকাশ করা এই দৃশ্য নামাজ ছাড়া অন্য কোন ইবাদতে পাওয়া যায় না। তাই নামাজের গুরুত্ব সকল ইবাদতের চাইতে বেশী। হাদীসে আছে ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব হবে। যদি নামাজের হিসাব সঠিক হয় তবে অন্যান্য আমল ঠিক হবে আর যদি নামাজের হিসাব ঠিক না হয় তবে অন্য আমল দ্বারা পরিত্রান পাবে না।’ দেখুন: নামাজের গুরুত্ব কতখানি। রাসূলে পাক (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রীতিমত নামাজ আদায় করবে কেয়ামতের দিন নামাজ তার জন্য নূর, দলিল ও মুক্তির কারণ হইবে। আর যে নামাজ আদায় করবে না সে কারুন, ফেরাউন ও হামান কাফেরদের সঙ্গে দোজখে প্রবেশ করিবে (আহমদ ও দারেমী)।’ রাসূলে পাক (স.) আরও বলেন, ‘যার নামাজ নাই তার ধর্ম নাই’। শরীরের মধ্যে যেমন মাথা শ্রেষ্ঠ, তেমনি ধর্মের মধ্যে নামাজ শ্রেষ্ঠ।