ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ
জালাল ফিরোজ
প্রকাশক: বাংলা একাডেমী
প্রকাশকাল : ২০১২
প্রচ্ছদ : হাশেম খান
মূল্য : ২৮০ টাকা।
রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতায় রয়েছে নানা রকম শ্রেণী বিভাগ। রাষ্ট্র তাকে রক্ষা করতে চায়—আমলাতন্ত্রের বিশেষ অনুরোধে কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার কখনো কখনো অপব্যবহার হয় দেশে দেশে। ফলে সৃষ্টি হয় সংঘাত, আর এই সংঘাত গণতন্ত্রকে ঠেলে দেয় হুমকির মুখে। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে পুনর্বার আক্ষরিক অর্থে যাত্রা শুরু করে ১৯৯১ সালে, স্বৈরশাসকের পতনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু রাজনৈতিক বিদ্বেষ, সহিংসতাসহ নান কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে গণতন্ত্র চর্চা। আর এইসব নিয়ে ইংরেজিতে লেখা জালাল ফিরোজের বই ‘ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ : কনফ্লিক্টিং ইস্যুজ অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজুলেশন’। মূলত ১৯৯১-২০০১ এই এক দশকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর পরিচালিত গবেষণা থেকে সংগৃহীত হয়েছে এই বইয়ের উপাত্ত। একটি সময়ের বাস্তব চিত্র নিরীক্ষা করে, যে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন জালাল ফিরোজ, তা প্রশংসাযোগ্য। এই সময়ে বইটি নানান কারণে গুরুত্বপূর্ণও বটে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বড় দলগুলোর সাংঘর্ষিক অবস্থান—আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এর মর্মমূলে পৌঁছানো জরুরি। লেখক সেই জরুরি কাজটি-ই করেছেন ‘ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ : কনফ্লিক্টিং ইস্যুজ অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজুলেশন’ বইয়ে। আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত বইটিতে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির সংঘর্ষ-প্রবণতা, এই প্রবণতার কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ক দ্বন্দ্ব, বাংলাদেশের সংসদকেন্দ্রিক সাংঘর্ষিক ইস্যু, সংসদে ওয়াকআউট ও বয়কটের প্রেক্ষাপট ও কারণ যেমন অনুসন্ধান করেছেন, তেমনি সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের সম্ভাবনা বিষয়কেও গুরুত্ব দিয়েছেন। শেষ অধ্যায়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের বিশ্লেষণ করেছেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতির ধারা ও প্রেক্ষাপট বুঝতে বইটি সচেতন পাঠকের সহায়ক হবে।
