দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উত্পাদনকারী এলাকা দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে ভরা মৌসুমে শীতকালীন শাক সবজির দাম চড়া যাচ্ছে। সবজির দাম চড়া থাকায় চাষিরা খুশি; কিন্তু ভোক্তারা অখুশি। এবার চাষ কম হয়েছে এবং ফলন কম হচ্ছে। দামের কোনো সামঞ্জস্য নেই। একেক পাইকারি বাজারে একেক দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে।
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শিম, মূলা, বরবটি, পালং শাকসহ সব ধরনের সবজির ভরা মৌসুম চলছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার দাম চড়া বলে ব্যাপারি ও ক্রেতারা জানায়। মাস দুয়েক আগে ফুলকপি বাজারে উঠতে শুরু করে। প্রথমে পাইকারি প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০-৪২ টাকা। খুচরা বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজি দরে। বাজারে ফুলকপির আমদানি বাড়তে থাকায় পাইকরি ও খুচরা বাজারে দাম কমতে থাকে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ১৮-২০ টাকায় নেমে আসে। খুচরা প্রতি কেজি ২২-২৫ টাকায় বিক্রি হয়; কিন্তু ফুলকপির দাম ফের চড়ে পাইকারি বাজারে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আশ্বিন মাসে বাঁধাকপি প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হয় ২০-২৫ টাকা দরে। খুচরা ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হয়। তারপর দাম কমতে থাকে। খচুরা প্রতি কেজির দাম ১৫-১৬ টাকায় নেমে এসেছিল। বর্তমানে বাজার চড়ে খুচরা প্রতি কেজি ১৮-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুলার দাম প্রতি কেজির খুচরা ১০ টাকায় নেমে এসেছিল। এখন দাম চড়ে ১৮-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওলকপি পাইকারি প্রতি কেজি ১৮-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা প্রতি কেজি ২৪-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিমের দামও চড়ে গেছে। খুচরা প্রতি কেজি ২৫ টাকায় নেমে এসেছিল। এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা প্রতি কেজি। দেশের অন্যতম প্রধান সবজি গ্রাম যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর। এ গ্রামের বড় সবজি চাষি ইজাজুল ইসলাম জানান, গত বছর পানির দামে শীতকালীন সবজি বিক্রি হয়। এতে চাষির মোটা লোকসান হয়। এ কারণে চাষি এবার সবজি চাষ কমিয়ে দিয়েছে। তিনি গত বছর ২২ কাঠা জমিতে মূলার চাষ করেছিলেন। একটি মূলাও বিক্রি করতে পারেন না। ক্ষেত থেকে তুলে ফেলে দিতে হয়েছিল। এবার ৭ কাঠাতে মূলা চাষ করেছেন। গত বছর এক বিঘাতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। এবার ফুলকপি চাষ করেননি। ভাইরাসের আক্রমণে শিম ও ’স্ট্রোক’ রোগে বেগুন ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে এ দুইটি সবজির উত্পাদন কমে গেছে। ফলে দাম চড়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৬৭ হাজার ৩শ ১৬ হেক্টরে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। সবজির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৮শ ৮০ টন। অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, সবজি চাষ পরোপুরি শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে সবজির ব্যাপারিরা জানান, বারিনগর, বিত্তিপাড়া, শেখপাড়া, মদনডাঙ্গা, চড়ুইবিল, ভাটই, ঝিনাইদহ, পোড়াদহ, গ্রাগপুর, হাসনাবাদ, গাংনী, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, ডুগডুগি, দামুরহুদা, খালিশপুর, কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, সীমাখালী, রূপদিয়া, মাগুরা, শালিখা, আড়পাড়া, মহম্মদপুর প্রভৃতি সবজির পাইকারি হাটে সবজি আমদানি হচ্ছে; কিন্তু গত বছরের চেয়ে অনেক কম উঠছে। দামও চড়া বলে তারা জানান।
