বাড়তি চাপ নিচ্ছে না স্বাগতিকরা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৯
সফরকারীরা এক ম্যাচ জিতে সিরিজে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও পুরো ব্যাপারটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাইছে বাংলাদেশ দল। তাছাড়া এখনো দুই ম্যাচ বাকি এবং সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। আজ শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচটির প্রাক্কালে এই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই কাল দিন কাটায় দলের সবাই। বাড়তি কোন চাপ নয়, বরং সিরিজে এখনো বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে-এটাই যেন সবাই উপলব্ধি করতে পারে- টিম ম্যানেজম্যান্টও সেই চেষ্টা চালায় এদিন। ম্যাচটির প্রাক্কালে তাই কাল সারাদিন হোটেলেই বিশ্রাম নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। বাড়তি চাপ না নিতে ক্রিকেটারদের ঐচ্ছিক ছুটিরও ব্যবস্থা করেছিলেন কোচ। কিন্তু টানা দুই ম্যাচ জিতে হঠাত্ করেই ছন্দপতন কি ক্রিকেটারদের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ল না? প্রশ্নটি শুনে কোচ শেন জার্গুনসেন বললেন, ‘প্রথম দুই ম্যাচ খেলোয়াড়দের অস্তিত্বের ম্যাচ ছিল। টেস্ট সিরিজের পর ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ ক্রিকেট খেলেছে যা ছিল সত্যি অসাধারণ। গত ম্যাচটি আমরা ক্লোজ করেছিলাম, এখন আমাদের সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবতে হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এই সিরিজে ইতিবাচক কিছু ভাবতে চাই। গত দুই ম্যাচের যে ভালো দিক রয়েছে তা নিয়েই আমরা কাল (আজ) মাঠে নামবো’। টপ অর্ডারদের জন্য স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম উঠেছে বলে আলোচনা হচ্ছে। তারপরও ম্যাচটি প্রায় ‘ক্লোজ’ হয়েছে বাংলাদেশি স্পিনারদের কারণে। টেস্ট ম্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত বোলাররা ভালো বল করছেন। তরুণ ক্রিকেটাররাও জ্বলে উঠছেন বলে বাংলাদেশও সাফল্য পাচ্ছে। তাই গত ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পরও সবকিছু মিলে কোচ ইতিবাচক ভাবতে চাচ্ছেন। এ প্রসংগে জার্গুনসেন, ‘আমাদের সামনে এখনো দুই ম্যাচ বাকি আছে। তাই আমাদের ইতিবাচক থাকাটাই শ্রেয়। গত ম্যাচে আমাদের লড়াইটা ছিল। আমাদের ছোট ছোট কিছু পার্টনারশীপ হয়েছে। যা আমাদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করতে সহায়তা করে। আমাদের আরো কিছু রানের দরকার ছিল। তবে আমরা এই পুঁজি নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি’। টসে হেরে ব্যাটিং নিতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশ দল ২২৭ রান করেও লড়াই চালিয়েছে। তবে টস নিয়ে আফসোস আছে। অধিনায়ক মুশফিক টসই জিততে পারলেন না। বিকেলে যে পরিমাণে কুয়াশা পড়ে তাতে বোলার ও ফিল্ডারদের জন্য খেলাটা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও কোচ টস ভাগ্যকে খুব বেশি প্রাধান্য দিলেন না। তিনি বলেন, ‘টস যে গুরুত্বপূর্ণ তা আমার কাছে মনে হচ্ছে না। অনেকে টস নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু আমাদের ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই ভালো করতে হবে। আমরা এখনো ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে আছি। কিন্তু কুয়াশার কারণে ঠিকমত বোলিং হয়নি এবং কিছু ক্যাচও পড়েছে। তাই টসের সাথে সাথে ভালো খেলাটাও গুরুত্বপূর্ণ’। কুয়াশার কারণে শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডাররাও ঠিকমত ফিল্ডিং করতে পারেনি। কয়েকটি সহজ ক্যাচও পড়েছে ফিল্ডারদের হাত থেকে। স্লিপে মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্যাচ ফেলা উল্লেখ করার মতো। কোচও সেটি স্বীকার করে বললেন, ‘দুটি ক্যাচ মিস হয়েছে। আমরা মিস করেছি ঠিকই তবে আমরা ফিল্ডিং দিয়েও ম্যাচ জিততে পারি। এই জায়গাগুলোতে ভালো করলে আমাদের ম্যাচ জেতা সম্ভব’। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ কাল সকাল থেকে আড়াই ঘন্টা অনুশীলন করেছে। অপরদিকে সারাদিন হোটেলে জিম করেই সময় পার করেছেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। কাল দলের সাথে আরেক বাঁ-হাতি স্পিনার ইলিয়াস সানি যোগ দিয়েছেন। ১৪ সদস্যের পরিবর্তে দল এখন ১৫ সদস্যের। স্পিনাররা সাফল্য পাচ্ছেন। তাই দলে আরো এক স্পিনার। দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পিনাররাই ভূমিকা রাখবেন। তবে এর পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদের। তরুণদের পারফর্মেন্সে কোচ জার্গুনসেনও খুশি। বিশেষ করে এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ তিনি। অজি এই কোচ বলেন, ‘তরুণরা অসাধারণ পারফর্মেন্স করছে। বিশেষ করে বিজয় দারুণ ক্রিকেট খেলছে। সে একজন ভালো ফিল্ডারও বটে। আবুল হাসান দলে ছিল সেও ভালো করেছে। গাজীর কথা তো বলাই বাহুল্য। অসাধারণ পারফর্মেন্স করেছে সে। দলে এসে সে আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলে যাচ্ছে। গাজী জাতীয় লিগে ভালো করেছে, বিজয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে রান পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারা এখনো ভালো ক্রিকেট খেলে যাচ্ছে’।