সেই জিনাতকেই থানার ভেতর বিয়ে করলেন ইমন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৫
নাম তার জিনাত কবির। ডাক নাম তিথি। অবশ্য বন্ধু বান্ধব স্বজনের কাছে তিনি জিনাত নামেই বেশি পরিচিত। হঠাত্ করেই অপরিচিত এই মেয়েটি বেশ আলোচিত। কারণ সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন তিনি। ইমন অবশ্য বিজরী বরকতউল্লাহকে বিয়ে করে আলোচনায় আসেন আগেই। আগে থেকেই তিনি বিনোদন জগতে মোটামুটি পরিচিত মুখ। এবার জিনাত-ইমন কাহিনী নিয়ে মিডিয়ায় চলছে বেশ শোরগোল। জিনাতের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ইমন। শেষমেষ জিনাতকে বিয়ে করে পরিত্রাণ পেতে চেয়েছিলেন ইমন। গতকাল বৃহস্পতিবার রমনা থানার ভেতর বেশ ঘটা করেই জিনাত-ইমনের বিয়ে হয়। ইমনের পরিবার, বন্ধু, স্বজনরা থাকলেও বিয়েতে জিনাতের পক্ষে কেউ ছিলেন না। বলা হচ্ছে থানার একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা মেয়ের অভিভাবক হয়েছেন। যদিও রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলম অভিভাবক হওয়া তো দূরের কথা, থানার মধ্যে বিয়ের কথাই অস্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিউল আযম বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। এতকিছুর পরও শেষ রক্ষা হয়নি ইমনের। বেরসিক পুলিশ তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। জানা গেছে, বিয়েতে শওকত আলী ইমনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইমনের বড় ভাই সুমন এবং গীতিকার কবির বকুল। বিয়েতে কনে পক্ষের কারো না থাকা প্রসঙ্গে জিনাত বলেছেন, তার বাবা-মা ভারতে রয়েছেন এ কারণে তারা বিয়েতে থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা দেন মোহরে তারা বিয়ে করেছেন। জিনাত বলেন, যেহেতু সে ভুল বুঝতে পেরেছে। আমাকে বিয়ে করে আমার সম্মান দিয়েছে, তাই আমি এখন মামলা প্রত্যাহার করে নেবো। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিউল আযম জানান, ইমনের ভাই-বোন ও স্বজনদের উপস্থিতিতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে থানার হলরুমে ১০ লাখ টাকা দেন-মোহরে জিনাতের সঙ্গে ইমনের বিয়ে পড়ানো হয়। থানার ওসিসহ অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিয়ের পরপরই আদালতে পাঠানো হয় ইমনকে। অবশ্য আদালতে গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু আইনী জটিলতার কারণে ইমন এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। গতকাল বিকালে নারী নির্যাতন ও মাদকের পৃথক দু’টি মামলায় ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। নারী নির্যাতনের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট জয়নাব বেগম ইমনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের কাছে এ ?মামলার জামিন আবেদনে অনাপত্তি জানান জিনাত। এর কিছুক্ষণ পরই মাদকের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট এমএ সালামের আদালতে নেয়া হয় ইমনকে। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে একদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন। রমনা থানা পুলিশ তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল। রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলম আরো জানান, শওকত আলী ইমনের বাসা থেকে নয়টি ইয়াবা ও বেশ কয়েকটি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।