দাবি পূরণে শেষ অধিবেশনের অপেক্ষায় উন্নয়নশীল দেশগুলো

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৭
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। আজ শেষ হবে আলোচনা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এখনো আশা শেষ পর্যন্ত আসবে কোনো ঘোষণা। শেষ বিকেলে কালো মেঘ কেটে যাবে এ আশা বাংলাদেশেরও। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই আশার কথা জানান পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সম্মেলনের ১০ম দিন বুধবার পর্যন্ত প্রাপ্তি প্রায় শূন্যের কোটায়। অভিযোজন, মিটিগেশন, কিয়োটো প্রটোকলের মেয়াদ বাড়ানো, লস এন্ড ড্যামেজ, ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুদিন ধরে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক চললেও আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। তবে দরকষাকষি দলের সদস্যসহ বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আশা করছেন, সম্মেলনের শেষদিনে কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে প্রতিটি বিষয়ই ধীরগতিতে এগুচ্ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। হাতে সময় বেশি নেই। তাই খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, অনেক সিদ্ধান্ত সম্মেলনের শেষদিনে এসেও হয়। কোপেনহেগেন কর্ড হয়েছিলো সম্মেলনের একেবারে শেষদিনে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু নেগোশিয়েশন দলের সদস্য ড. আইনুন নিশাত, এমপি গিয়াস উদ্দিন, মনোয়ার আহমেদ, ড. আনসারুল করিম, দিদারুল আহসান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেগোশিয়েশন কমিটির ডেপুটি জনাথন পার্সিং জানিয়ে দিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যমেয়াদী কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দেবে না। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন। জনাথন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। একটি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ৩০ বিলিয়ন ডলারের যে তহবিল গঠনের কথা ছিল তাতে অংশ নেয়া। সেটা যুক্তরাষ্ট্র করেছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ২০২০ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনে যে আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার কথা তাতে যুক্তরাষ্ট্র অবদান রাখবে। তবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত মধ্যমেয়াদী সময়ে কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। স্বাগতিক দেশ কাতারের পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, দোহা সম্মেলনকে ঘিরে বিশ্ববাসীর অনেক প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশা যেন পূরণ হয় সেজন্য সবার সহযোগিতা দরকার। আমব্রেলা গ্রুপের পক্ষে অষ্ট্রেলিয়ার সংসদ সচিব জানান, সব দেশের অংশগ্রহণে ২০১৫ সালে অবশ্যই একটি আইনি চুক্তি করতে হবে। এদিকে সম্মেলনের ভেতরে ছোট ছোট গ্রুপে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলছে। এশিয়ার পাহাড় রক্ষা করে পানি ধরে রাখার শ্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে একটি গ্রুপ।