কৃষি কাজে নারী শ্রমের চাই স্বীকৃতি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৭
কৃষিতে নিয়োজিত নারীর কাজের স্বীকৃতিসহ খাদ্য উত্পাদনে নারীর শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হবে বলে কৃষক নারী সমাবেশে বক্তারা দাবি করেছেন। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় উপ-পরিষদের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে ঢাকা বিভাগীয় কৃষক নারী সমাবেশে এই দাবি করেন তারা। ‘সমতার জন্য চাই সমান সুযোগ’—এই স্লোগান নিয়ে আয়োজিত উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাখীদাশ পুরকায়স্থ। তৃণমূল সংগঠকের বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাবেয়া বেগম শান্তি। সমাবেশে ৭ জন কৃষক নারীও বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন:সাভারের মাশরুম চাষি শিল্পী আক্তার, মুন্সীগঞ্জের মাসুদা বেগম, টঙ্গীর জোসনা বেগম, রায়পুরার নার্গিস আক্তার, বেলাবোর শিল্পী বেগম, নরসিংদীর আক্তার বানু ও নারায়ণগঞ্জের পেয়ারা বেগম। সমাবেশের প্রস্তাব পাঠ করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সারাবান তহুরা । সমাবেশে কৃষক নারীদের নামে কৃষিকার্ড বরাদ্দ , সম্পদ, জমি ও সম্পত্তিতে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে কৃষক নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, কৃষি উন্নয়নে বাজেটে নারীর খাত বরাদ্দ, গৃহকাজসহ খাদ্য উত্পাদনে নারীর শ্রমের আর্থিক মূল্যায়ন, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে নারীর প্রবেশের অধিকার নিশ্চত, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় করে কৃষি ক্ষেত্রে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নারী কৃষকদের স্বাস্থ্য সহায়ক পদ্ধতি প্রচলন করারও দাবি জাননো হয়। বক্তারা নারীর কাজের আর্থিক মূল্যায়ন জিডিপিতে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন । রাখীদাশ পুরকায়স্থ বলেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা, বেকারত্ব হ্রাসসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর শ্রমের ব্যাপক ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, কৃষিকাজের সূচনা করেছে নারীরা, এখনো সারা পৃথিবীব্যাপী কৃষিকাজে নারীরা শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফসল বাজারজাতকরণে তাদের কোন অংশগ্রহণ নেই, ফলে তারা আর্থিক কোন সুবিধা পায় না। আয়শা খানম বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রধান রূপকার দেশের কৃষক সমাজ যার সিংহভাগ নারী। কিন্তু সম্পদ ও সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার না থাকায় কৃষক নারীরা বর্তমান সরকার প্রবর্তিত কৃষি কার্ড পাচ্ছেন না। ফলে তারা সরকারের প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষক নারীদের জন্য কৃষি কার্ড বরাদ্দের ব্যাপারে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। মালেকা বানু ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনগুলোতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে কৃষক নারীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক মাস পালন উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগর শাখার সহযোগিতায় উক্ত কর্মসূচি পালিত হলো। একই সময় চট্টগ্রামেও মহিলা পরিষদের উদ্যোগে কৃষক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।