মাইগ্রেইন বা মাথা ব্যথা নিয়ে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দেই না। মাইগ্রেইনজনিত মাথা ব্যথা হলে ব্যথা নাশক বা পেইন কিলার সেবন করেন কম বেশি প্রায় সকলেই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কখনও আমরা জানতে চাই না কেন মাইগ্রেইন হচ্ছে অথবা মাইগ্রেইনের কোন জটিলতা আছে কিনা। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে মাইগ্রেইন কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ যাদের বারবার মাইগ্রেইন বা ব্যথা হয় তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। গবেষণা সহকারী অধ্যাপক ড. টোবিয়াস কুর্থ -এর মতে যদি কারও মাসে অন্তত একবার মাথা ব্যথা হয় তাহলে যাদের মাইগ্রেইন নেই তাদের অপেক্ষা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ বেশি। আর যদি প্রতি সপ্তাহে একবার মাইগ্রেইন হয় তাহলে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক (মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ) হবার ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তবে বিশেষজ্ঞগণ মাইগ্রেইনজনিত মাথা ব্যথা থেকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক প্রতিরোধে তেমন কোন আশার বাণী শোনাতে পারেননি। তবে ন্যাশনাল স্ট্রোক এসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞদের অভিমত হূদরোগ ও স্ট্রোকজনিত ঝুঁকি হ্রাস করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক সতর্কতা অবলম্বন করলে মাইগ্রেইনজনিত হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অন্যতম উপায়।
