মাশরাফির ইনজুরির দিনে শফিউলের ঝলক

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৪
দুপুরে যারা একটু দেরি করে খেলা দেখতে শুরু করেছে তাদের চমকে যাওয়ারই কথা। এক প্রান্ত থেকে বোলিং শুরু করেছে শফিউল ইসলাম। তাহলে মাশরাফি কই? মাশরাফি ছিলেনই না। আরেকবার চোটের সঙ্গে লড়াই করতে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে খেলা হয়নি দারুণ ফর্মে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজার। তার বদলে একাদশে ডাক পেয়েই অবশ্য নিজের যোগ্যতার দারুণ প্রমাণ দিলেন শফিউল। ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নেতৃত্ব দিলেন ক্যারিবীয়দের আটকে রাখায়। অভিষেক হয়েছিল তার দেশের মাটিতেই। কিন্তু নিজেকে চেনাতে পারেননি সেই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে। পরের ম্যাচে এরকমই মাশরাফির অবর্তমানে দায়িত্ব পেয়ে প্রমাণ করেছিলেন নিজেকে। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে মাশরাফির অবর্তমানে দলে ঠাঁই পাওয়া শফিউলের মূল অস্ত্র লাইন এবং লেন্থ ঠিক রেখে বল করা। সেই শফিউলই কাল আরেকবার ঝলক দেখালেন মাশরাফির পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়ে। গতকাল শনিবার সিরিজের শেষ ম্যাচে দলে এসেই ক্যারিবীয়দের তিন উইকেট তার পকেটে। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর এশিয়া কাপের ভেতর দিয়ে দলে ফিরেছিলেন মাশরাফি। এবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন অনেকদিন পর। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে লংগার ভার্সন ক্রিকেট না খেলে নিজেকে একটু একটু করে তৈরি করছেন এই পেসার। কিন্তু ‘কাল’ হল কাল সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে গিয়ে। মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে চারটি ওয়ানডে খেলায় পুরানো জায়গায় ফের ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। যদিও বিসিবির ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না, ‘টানা খেলে যাওয়ার কারণে তার পুরানো জায়গায় ব্যথা অনুভব করছে। এটা তেমন কিছু নয়, ধীরে ধীরে মাশরাফি ঠিক হয়ে যাবে। তবে আগামী পরশু (কাল) টি-টোয়েন্টি খেলতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কাল (আজ) নিশ্চিত হতে পারবো তার ব্যাপারে।’ বিসিবির ডাক্তারের কথাটি যদি ঠিক হয় তাহলে দুশ্চিন্তা বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ নিয়ে। পরপর দুই ওয়ানডে ম্যাচে মাত্র একজন পেসার নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। তবে শুধু ইনজুরির কারণেই কি মাশরাফি দলের বাইরে, নাকি অন্য কিছু? জানা গেছে, সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে টিম যখন দুপুর সাড়ে বারোটায় মাঠে উপস্থিত তখন মাশরাফি আসেননি। তিনি দুপুর দুইটায় মাঠে আসেন। এ ব্যাপারে যদিও টিম ম্যানেজমেন্ট কিছু বলতে নারাজ, তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে তিনি দেরিতে মাঠে এসেছেন। এই কারণে প্রশ্ন উঠেছে কাল দলে অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ শুধু ইনজুরি নাকি অন্য কিছু? এক্ষেত্রে ভাগ্যবানই বলতে হবে শফিউলকে। ইনজুরি হোক কিংবা অন্য কোন কারণে হোক মাশরাফির পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েই বাজিমাত তার। এশিয়া কাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই পেসার। কিন্তু এবার তিনি পারলেন। দেশের মাটিতে তার সাফল্য খুব বেশি নেই। বরং দেশের বাইরেই শফিউল সবসময় উজ্জ্বল। পরিসংখ্যানও বলছে সে কথা। এ পর্যন্ত ৪৬টি ওয়ানডে ম্যাচে ৫৪ উইকেট শিকার তার। দেশের মাটিতে ৩০টি ম্যাচে তিনি উইকেট পেয়েছেন ২৯টি। অথচ দেশের বাইরে ১৬টি ম্যাচ খেলেই ২৫ উইকেট নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে শফিউল কতটা সফল দেশের বাইরে। কাল তিনি সবচেয়ে বড় উত্সব করেছেন ক্রিস গেইলকে আউট করার পর। বিশ্বের দানবীয় ব্যাটসম্যানের খেতাব তার গায়ে। এমন কোন বোলার নেই তার ব্যাটে তুলোধুনো হয়নি, এবার বাংলাদেশিদের গেইল রূপটা দেখাতে পারেননি। ওয়ানডে সিরিজের টানা তিন ম্যাচে মাশরাফির আতংকে ভুগেছেন গেইল, কাল সেই আতংকে নতুন নাম যোগ হয়েছে শফিউলের নামও। তিন উইকেটের মধ্যে গেইল ছাড়াও শফিউলের উইকেট শিকারের মধ্যে ডেভোন থমাস ও কেমার রোচের নামটিও রয়েছে। সাত নম্বরে নেমে যখন ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন থমাস, ঠিক তখনি তাকে মুশফিকের তালুবন্দি করেন রাজশাহীতে জন্ম নেয়া এই পেসার। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে যখনি দলে এসেছেন শফিউল যেন নিজেকে নতুন করে চেনাতে শুরু করেন। পাঠকদের উদ্দেশে আরেকটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা শ্রেয়। কাল গেইল ও ব্রাভো উইকেটে থাকা সত্ত্বেও টানা তিন ওভার মেডেন পেয়েছেন। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এমন কীর্তি এই প্রথম তার। একসাথে তিনটি ওভার মেডেন নেয়া; সেটাও গেইল-ব্রাভোদের সময়!