বিশ্বের সেরা সাত নম্বর!

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫
‘বেস্ট সেভেন’ শব্দযুগল উচ্চারিত হলে দুজন মানুষের মুখ ভেসে আসে-রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। গিলক্রিস্টকে বলা হল, টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা নম্বর সেভেন ব্যাটসম্যান। খেলাটা ফুটবল নয়, তাই রোনালদোর কথা আলোচনায় আসছে না। আর গিলক্রিস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই। তারপরও কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফিরে এলো সেই ‘বেস্ট সেভেন’ শব্দযুগল। কে আজকের দিনের এই বেস্ট সেভেন? না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেউ নন। বাংলাদেশ দলের বড় তারকা তামিম, সাকিব বা মাশরাফিও নন। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন; বর্তমান বিশ্বে ওয়ানডে ক্রিকেটের সেরা ‘নম্বর সেভেন’ ব্যাটসম্যান আমাদের মাহমুদউল্লাহ! এটি কথার কথা বা প্রশংসা করে বলা কোনো বিশেষণ নয়। মাহমুদউল্লাহর এই স্বীকৃতি পরিসংখ্যান থেকেই পেতে পারেন আপনি। রিয়াদ ডাক নামের এই অলরাউন্ডারের ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই। সেই থেকে তিনি বেশিরভাগ সময় এই ৭ নম্বরেই ব্যাট করেছেন। আর এখানে এই সময়ে, গতকালকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত তার মোট রান ১১৬০। এই সময়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে সাত নম্বরে ১০৮১ রান করেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখে ‘তিনি কেন আরও ওপরে ব্যাট করেন না’ এই প্রশ্ন একবার অন্তত করেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এক্ষেত্রে ব্যাখ্যা হল দুটি, প্রথমত রিয়াদ নিজেই আর ওপরে ব্যাট করতে চান না। তিনি এখানেই ব্যাট করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। আর বাংলাদেশের ম্যানেজমেন্টও তাই চায়। বিশেষ করে ব্যাটিং বিপর্যয়ের সময়ে লোয়ার অর্ডারে একজন সলিড ব্যাটসম্যান আশা করে বাংলাদেশ। যাতে অন্তত ৬৮, ৭৮ কাণ্ডগুলো ঠেকানো যায়। এ কথা মানতেই হবে যে, রিয়াদ এই কাজটা দারুণভাবে করছেন তো বটেই। সেইসঙ্গে প্রায়শই সমর্থনহীনভাবে শেষদিকে একা ব্যাট করে বড় করে তুলছেন বাংলাদেশের ইনিংস। রিয়াদের এই মাহাত্ম্য বুঝতে আরও একবার পরিসংখ্যানের সাহায্য নেয়া যেতে পারে। গতকালকের আগ পর্যন্ত রিয়াদ ৮৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৫৩৮ রান করেছেন; ক্যারিয়ার গড় ৩২.৭২। এর মধ্যে ৬০টি ম্যাচেই ব্যাট করেছেন ৭ নম্বরে। সেখানে তার ৩৫.১৫ গড়ে সংগ্রহ ১১৬০ রান। বোঝাই যাচ্ছে সাত নম্বরে নিজের সেরাটা খেলছেন এই অলরাউন্ডার। রিয়াদের ক্যারিয়ারে ফিফটি ৮টি। এর মধ্যে ৬টি ফিফটিই ওই সাত নম্বরে। শুধু সাত নম্বরের ব্যাটিং বিবেচনা করলেই মাহমুদউল্লাহ যেকোনো দলের জন্য লোভনীয় এক খেলোয়াড় হতে পারেন। কিন্তু এর সঙ্গে মনে রাখুন, ইদানীং দলের অন্যতম সেরা বোলারও তিনি। বলা হয়, বোলার রিয়াদের প্রতি কখনোই ঠিক সুবিচার করা হয়নি। বিশেষ করে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বের দীর্ঘ সময়ে তার হাতে বল খুব একটা দেখাই যেত না। পরে যে খুব ব্যবহূত হয়েছেন; তা নয়। তারপরও ৮৪ ওয়ানডে খেলে গতকালই পূর্ণ করেছেন উইকেটের হাফ সেঞ্চুরি। এর মধ্যে ৬ নম্বর বোলার হিসাবে বল করে পেয়েছেন ১৯ উইকেট; যা এই সময়ে বিশ্বের ষষ্ঠ সেরা। তবে এটাতো খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় বল করেছেন তিনি ছয় নম্বর বা তারচেয়ে বেশি নম্বরের বোলার হিসাবে। ষষ্ঠ থেকে একাদশ বোলার হিসাবে এই সময়ে তিনি ৪৩টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২৭ উইকেট। একই সময়ে একইরকম পজিশনে বল করে নিকটতম, ২৬ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব আছে শেন ওয়াটসনের। বল করতে সুযোগ পান প্রথম পাঁচজনের পর, ব্যাট করতে আসেন সাত নম্বরে। তারপরও সেই পজিশনেই এই মুহূর্তের সেরা তিনি। তাহলে কী বলবেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উপেক্ষিত ক্রিকেটারের নাম মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ!