গাজায় ইসরায়েল নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডে নির্মাণ জারি রাখতে চায় দেশটি। বিশ্বজোড়া চাপের মুখেও প্রশাসন তার অনড় অবস্থা থেকে একচুল সরে আসেনি। পাল্টা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছেন—ইহুদি জনবসতি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হবে অল্প কয় দিনের মধ্যেই। নতুন প্রকল্পে আরও অন্তত তিন হাজার বাড়ি তৈরি করা হবে।
ইসরায়েল গত সোমবার নতুন ভবন তৈরির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আনতেই সারা বিশ্বে আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ‘এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠা আরও সমস্যা-সঙ্কুল হয়ে উঠবে।’ অস্ট্রেলিয়া ছাড়া ইতালি ও ফ্রান্সসহ পাঁচটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে তেলআবিবের এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়েছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও মন্তি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়াঁ অল্যাঁদ এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফ্রান্সের লিয়ঁ শহরে আয়োজিত এই দুই রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাত্কারের পর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এই সিদ্ধান্ত বাস্তবিকই উদ্বেগজনক, আইন-বিরোধী এবং গুরুতর। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হয়ে উঠবে।’
তীব্র বিরোধীতার মুখেও অবস্থান বদলাতে ইচ্ছুক নন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। জনবসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত থেকে প্রশাসন কোনো পরিস্থিতিতেই সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ‘পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ঠিক হয়—১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইসরায়েল যে জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছিল, সেই ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা ফিলিস্তিনের সঙ্গেই যুক্ত হবে। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা জানিয়ে এসেছে ইসরায়েল। সমস্যার শুরু এর পর। পশ্চিম তীরে নির্মাণকাজ শুরু করে ইসরায়েল পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আমেরিকা, ব্রিটেনসহ ইসরায়েলের বহু পুরনো একাধিক মিত্ররাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করায় নেতানিয়াহুর ওপর বাড়তে থাকে আন্তর্জাতিক চাপ। তবু নতি স্বীকার করতে নারাজ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘যে যাই বলুক, নির্মাণকাজ চলবেই।’
এ দিকে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের পলিটব্যুরোর প্রধান খালেদ মেশাল ঘোষণা করেছেন—তারা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি মাটিও ইসরায়েলের হাতে ছাড়বেন না। তার সংগঠন কস্মিনকালেও ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। হামাসের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনকালে গত শনিবার গাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এক সভায় খালেদ মেশাল বলেন, ‘ফিলিস্তিনের নদী থেকে সাগর; উত্তর থেকে দক্ষিণ—সবটাই আমাদের। এই ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি মাটিও আমরা ছাড়ব না।’
খালেদ মেশাল বলেন—তাঁরা ইয়াসির আরাফাতের প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে (পিএলও) ফিলিস্তিনের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এই সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের বৈরিতা নেই।
খালেদ মেশাল গত শুক্রবার মিসর হয়ে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করেন। গাজায় এটা তার জীবনের প্রথম আর ফিলিস্তিন ভখণ্ডে ১৯৭৫ সালের পর প্রথম সফর। মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাস আট দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় হামাসের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে। ওই সংঘর্ষে ১৭৪ ফিলিস্তিনি এবং ছয়জন ইসরায়েলি নিহত হয়।
