ভারতের গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় হবে—১৩ ডিসেম্বর ও ১৭ ডিসেম্বর। ফলাফল ঘোষিত হবে ২০ ডিসেম্বর। গুজরাটে বিধানসভা ভোটের প্রচার তুঙ্গে, ঠিক তখনই নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ভারতের আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কেজরিওয়ালের অভিযোগ মূলত দুটি—প্রথমত, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাকৃতিক গ্যাস কার্যত বিনা পয়সায় মোদি তুলে দিয়েছেন দুটি বেসরকারি সংস্থার হাতে। দ্বিতীয়ত, আদানি গ্রুপ নামের একটি বেসরকারি সংস্থাকে অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন মোদি। সংস্থাটির কাছ থেকে বেশি দামে বিদ্যুত্ কেনা থেকে শুরু করে নামমাত্র দামে বড় মাপের জমি পাইয়ে দিয়েছেন।
এ দিকে ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ যে, কোটিপতি আর দাগি প্রার্থীর ছড়াছড়ি গুজরাট নির্বাচনে। সম্পত্তির পরিমাণ দেখে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ! কারো কারো নাকি সম্পত্তি বেড়েছে ২৭৩ শতাংশ পর্যন্ত। কাজেই রাজনীতি যে বেশ লাভজনক পেশা, সেটাই যেন পুনরায় প্রমাণ করছে গুজরাট। এর পাশাপাশি, এবারও সব রাজনৈতিক দলই এমন বহু প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। কংগ্রেসের ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জন দাগি। বিজেপির ৮৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন বা ২৫ শতাংশের মতো প্রার্থী দাগি। বিজেপির ৯ জন এবং কংগ্রেসের ৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, জোর করে টাকা আদায়, ডাকাতির মতো অভিযোগে মামলা চলছে।
এ ছাড়াও গুজরাট দাঙ্গার বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এই বিতর্কের কারণেই ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএর প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন অনিশ্চিত। আর একই কারণে তার ভিসার আবেদনও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা। ২৭ জন যুক্তরাষ্ট্রীয় বিচারকের একটি দল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মোদীর ভিসার আবেদন নাকচ করার জন্য। তাদের দাবি, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ মোদি। এখন বহু মামলা ঝুলে রয়েছে। এ অবস্থায় তাকে ভিসা দেয়ার পক্ষপাতী তারা নন। ক্লিন্টনকে লেখা তাদের এই চিঠি গত সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসে। চিঠিতে তারা জানিয়েছে, মোদি যেহেতু এখনো মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় রয়েছেন, সে ক্ষেত্রে তার ভিসার আবেদন সহজেই মঞ্জুর করা হলে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। এর আগেও একই কারণে মোদির ভিসার আবেদন নাকচ করা হয়েছিল। তবে, বিজেপি মুখপাত্র শেহনওয়াজ হুসেন বলেন, ‘এটা মোদির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। গুজরাটে বিজেপি জিতছে বলেই মোদিকে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
