খুলনার শিরোপা উদ্ধার

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০২
আগের দিনই জাতীয় দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ হারিয়েছেন। তারপরও রাতে টেনশনে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। নিজেই বলছিলেন, ‘খুব টেনশন হচ্ছিল। রাতে ফোন করে দলের ছেলেদের মন্দও বলেছি। বলেছি, এরকম করছিস কেন? আজ সব টেনশন চলে গেছে। মনে হচ্ছে, সময়টা এখন সত্যিই আমাদের।’ হ্যা, সময়টা এখন রাজ্জাকদের। জাতীয় দলের পর খুলনা বিভাগীয় দলের হয়েও তিনি এখন উত্সবের সময় পার করতে পারেন। মূল অধিনায়ক রাজ্জাকের অনুপস্থিতিতে কাল খুলনাকে দীর্ঘদিন পর জাতীয় লিগ শিরোপা এনে দিলেন ইমরুল কায়েস। ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় ক্রিকেট লিগকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিল রাজশাহী। এমনকি দল ভেঙ্গে রংপুর আলাদা দল হয়ে যাওয়ার পরও থামেনি তাদের দাপট। অবশেষে টানা চার শিরোপা জেতা রাজশাহীর শিরোপা উত্সব থামিয়ে দিল খুলনা। চার মৌসুম পর গতকাল খুলনাকে আবার জাতীয় লিগ শিরোপা জেতালো ইমরুল কায়েসের দল। লিগের শেষ রাউন্ডে নাটকীয়, রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে একদিন বাকী থাকতে সেই রাজশাহীকেই ৩৩ রানে হারিয়ে খুলনা নিশ্চিত করল নিজেদের তৃতীয় জাতীয় ক্রিকেট লিগ শিরোপা। এই রাউন্ডের বাকী তিন ম্যাচ এখনো চলছে। রাজশাহী স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয় দেখতে পাচ্ছে ঢাকা বিভাগ। এই ম্যাচ জিতেও অবশ্য তারা খুলনার শিরোপাতে হাত ছোঁয়াতে পারবে না; রানার্সআপ হিসেবে নিজেদের স্থানটা শক্ত করতে পারবে মাত্র। অন্য দুই ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ফলো অনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ রানের লিড নিয়েছে সিলেট এবং ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম ও রংপুরের ম্যাচ। গত রাউন্ডেই জয় পেলে নিশ্চিত হয়ে যেত খুলনার শিরোপা। কিন্তু লিগের প্রথম টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর ষষ্ঠ রাউন্ডে এসে পরাজয়ের দেখা পায় দলটি। ফলে এই শেষ রাউন্ড পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। এই অপেক্ষার পর জয়টা এলোই বড় রোমাঞ্চকর পথে। প্রথম ইনিংসে নিজেরা ২২৮ রানে অলআউট হওয়ার পর রাজশাহীকে ২২২ রানে অলআউট করে মাত্র ৬ রানের লিড পেয়েছিল খুলনা। জবাবে নিজেরা দ্বিতীয় ইনিংসে একদমই ধসে পড়েছিল চ্যাম্পিয়নরা। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইমরুল কায়েসের জোড়া ফিফটির পরও মাত্র ১৮০ রানে অলআউট হয়েছিল খুলনা। ১৮৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছিল রাজশাহী। একটা সময় তারা টানা পঞ্চম শিরোপার গন্ধও পেতে শুরু করেছিল। বিনা উইকেটে ১০২ রান তুলে ফেলেছিল তারা। এরপরই শুরু হল নাটক। মাত্র ৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললো রাজশাহী। শেষ দিকে মুক্তার ২৪ রান করে এই মহাবিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি; ১৫৩ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজশাহী। ঢাকা মেট্রো দল তার নিজের ম্যাচে দারুণ দাপট দেখাচ্ছে। নিজেরা প্রথম ইনিংসে ৩৪৫ রান করেছিল। জবাবে আশরাফুল ৫ উইকেট নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিলেটকে প্রথম ইনিংসে ১৫৫ রানে অলআউট করে ফেলায়। ফলো অন করতে নেমেও সুবিধাজনক অবস্থায় নেই সিলেট। ২৩৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে তারা। এই রাউন্ডে সবচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে আসলে ঢাকা বিভাগীয় দল। বরিশালকে প্রথম ইনিংসে ২৫৪ রানে অলআউট করেছিল ঢাকা। জবাবে রকিবুল হাসানের আরেকটি প্রথম শ্রেণীর সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৪৭৪ রান করে ঢাকা বিভাগ। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ধসে পড়েছে বরিশাল। ৫৫ রানে হারিয়ে ফেলেছে তারা ৬ উইকেট। ইনিংস পরাজয় এড়াতে তাদের এখনো ১৬৩ রান দরকার। এসব উত্তেজনার মধ্যে বড়ই নির্বিষ ক্রিকেট হচ্ছে সিলেটে। রংপুর ও চট্টগ্রাম এখনো পর্যন্ত একটি করে ইনিংস শেষ করতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে রংপুর করেছিল ৩৫০ রান। জবাবে লিটন ও তানভীরের সেঞ্চুরিতে গতকাল পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৪৮৭ রান তুলেছে রংপুর। এই রান উত্সবের মধ্যে আবার ১৪৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন নূর হোসেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর খুলনা-রাজশাহী: খুলনা- ২২৮ ও ১৮০ (ইমরুল ৫৯, সৌম্য ৩৮, রবিউল ২২, ডলার ২১; ফরহাদ ৪/৭০, দেলোয়ার ৩/৩৬, তাইজুল ৩/১৯)। রাজশাহী- ২২২ ও ১৫৩ (ফরহাদ ৫২, মাইশিকুর ৪৭, মুক্তার ২৪; নিজামউদ্দিন ৪/২৪, রবিউল ৪/৩৫)। ফল: খুলনা ৩৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রবিউল ইসলাম (খুলনা)। ঢাকা-সিলেট: ঢাকা- ৩৪৫। সিলেট- ১৫৫ ও ২৩৫/৮ (রুম্মান ৮২, গোলাম মাবুদ ৭৬; শরীফ ৩/৪৭, আশরাফুল ২/৫০, মার্শাল ২/৪০)। বরিশাল-ঢাকা: বরিশাল- ২৫৬ ও ৫৫/৬ (ইফতেখার ১২; শাহাদাত ৩/২৪, মোশাররফ ২/৯)। ঢাকা- ৪৭৪ (রকিবুল ১৬০, শরীফ ৫৪; মনির ৪/১২৮, কামরুল ৩/৬৫, সালমান ২/১৮)। চট্টগ্রাম-রংপুর: চট্টগ্রাম- ৩৫০। রংপুর- ৪৮৭/৯ (লিটন ১৫৭, আনভীর ১০৭; নূর ৬/১৪৬)। জাতীয় ক্রিকেট লিগ রোল অব অনার মৌসুম চ্যাম্পিয়ন ১৯৯৯-০০ চট্টগ্রাম ২০০০-০১ বিমান ২০০১-০২ ঢাকা ২০০২-০৩ খুলনা ২০০৩-০৪ ঢাকা ২০০৪-০৫ ঢাকা ২০০৫-০৬ রাজশাহী ২০০৬-০৭ ঢাকা ২০০৭-০৮ খুলনা ২০০৮-০৯ রাজশাহী ২০০৯-১০ রাজশাহী ২০১০-১১ রাজশাহী ২০১১-১২ রাজশাহী ২০১২-১৩ খুলনা