বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভিআইপি গ্যালারিতে অভিভাবকরা অপেক্ষায় ছিলেন ছেলের নাম শুনবেন বলে। ছেলের নাম শোনার সাথে সাথে ঝিকরগাছার বাকড়া থেকে আসা আফরোজা আক্তারের চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক বয়ে যায়। নিজের ছেলেকে ফুটবল মাঠে দেখতে চান বলে কয়েকদিন দিন ধরে স্টেডিয়াম এলাকার এক আবাসিক হোটেলে ছেলে সুরুজ রহমান সানকে নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি। তার স্বপ্নের প্রথম ধাপটা পূরণ হয়েছে কাল ছেলে বাফুফের ফুটবল একাডেমিতে সুযোগ পাওয়ায়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ফুটবল একাডেমিতে অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সের ৩৭ ফুটবলার চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। অক্টোবরে জাপানের সার্ক ফুটবল খেলে আসা ২০ জন সরাসরি সুযোগ পেয়েছেন। অপরদিকে উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায় থেকে বাছাই পর্ব উতরে আসা ১৭ জনকে বেছে নেয়া হয়েছে কাল। অপেক্ষমাণ আছেন ছয় ফুটবলার। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিলেটে বাফুফে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। বাফুফে জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশি কোচ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। একাডেমির জন্য অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সীদের বাছাই শেষে আজ অনূর্ধ্ব-১৮র চূড়ান্ত বাছাই শুরু হবে।
টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহান নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র অনিক ঘোষ বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল একাডেমিতে সুযোগ পাওয়া। আমি পেয়েছি।’ অন্যদেরও একই সুর। নারায়ণগঞ্জের সাব্বির, বরিশালের ইসমাইল, খুলনার আলী হোসেন, কুমিল্লার হাসান, রংপুরের ওয়াহিদুজ্জামান, সিলেটের মানিক আহমেদ— সবার মধ্যেই দেখা গেল জায়গা করে নিতে পারার তৃপ্তি। যে সব খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন তাদেরকে ইয়েস কার্ড দিয়েছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব নূর মোহাম্মদ। এসময় বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, কাজী নাবিল আহমেদ, ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়, সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ইলিয়াস হোসেন, রকিব, গাফফার, হাসানুজ্জামান খান বাবলু এবং ফিফার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া সচিব অতীত ফুটবলের স্মৃতিচারণ করেন। ছোট ছোট ফুটবলাদের উত্সাহ দেন। একাডেমিতে সুযোগ পাওয়াদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি যারা সুযোগ পাননি তারাও আবার ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন সুযোগ না পাওয়াদের উদ্দেশে বলেন, ‘মন খারাপ করার কিছু নেই। বছরে চার বার ট্রায়াল হবে।’ তিনি অবশ্য উত্তীর্ণদেরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘পারফর্ম করতে না পারলে একাডেমিতে জায়গা থাকবে না।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় বলেন, ‘যারা সুযোগ পেয়েছে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষার ব্যবস্থা আমরাই করব।’
বাফুফে সভাপতি প্রসঙ্গক্রমে আরো বলেন, ‘যারা সুযোগ পেয়েছে তাদের অনেকেই টিকবে না। কারণ সবাই প্রশিক্ষণের চাপ নিতে পারবে না। কেউ বাড়ির জন্য মন খারাপ করে ফিরে যেতে চাইবে। যে কারণে আমরা প্রতি তিন মাসে ট্রায়াল নিয়ে শূন্য স্থান পূরণের পরিকল্পনা রেখেছি।’
উত্তীর্ণরা হলেন: গোলকিপার ওয়াহেদুজ্জামান (রংপুর), গোলকিপার তানজিল (ফরিদপুর), সাব্বির হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), সিহাব উদ্দিন চৌধুরী, রমজান (চট্টগ্রাম), রুবেল হাসান, অনিক ঘোষ (টাঙ্গাইল), শোয়েব আক্তার, ইসমাইল হোসেন (বরিশাল), আলী হোসেন (খুলনা), সৈয়দ মাহমুদুল হাসান, সাইদুর রহমান (কুমিল্লা), মানিক আহমেদ (সিলেট), রুবেল, হাসান (ঢাকা), সুরুজ রহমান সান (যশোর), সুজন ইসলাম (সাতক্ষীরা)।
অনূধ্বর্-১৪ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা হলেন: পাপ্পু, ইয়াসিন, সোহাগ, বিশ্বনাথ, জেসি, শাওন, আকাশ, সেলিম, সাগর, শিপলু, আল আমিন, শুভ, আল আমিন, রাকিব, প্রিন্স, বেলাল, মাসুদ রানা, তিলক, আরিফ, আশিক সরকার।
