টি-টোয়েন্টিতেও সেই স্যামুয়েলস

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪১
মাত্র দশ রানে স্যামুয়েলসের ক্যাচটি ফেলার সময়ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের মনে হয়নি কাল কতটা ভুল তিনি করেছেন। জিয়াউর রহমানের বল কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেও সেটি ধরতে পারেননি মুশফিক। শেষ পর্যন্ত টেস্ট ও ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতে এসেও সেই মারলন স্যামুয়েলসই হয়ে উঠলেন ক্যারিবীয়দের প্রধান অস্ত্র। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন স্যামুয়েলস; এটা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানও বটে। এই দারুণ ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের ব্যাটে চড়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজও পৌঁছে যায় ১৯৭ রানের বড় স্কোরে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই স্যামুয়েলসের সময়টা ভালো যাচ্ছে। দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করাতে গিয়ে তিনি করেছিলেন পাঁচটি ফিফটি। ২৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি, পঞ্চাশের উপর স্কোর করেছেন ছয়টি। কিন্তু একটিও তিন অংকে পৌঁছাতে পারেননি। কাল যেভাবে খেলছিলেন তাতে একটা সময় মনে হয়েছে তিনি সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে এসেছেন। টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি না পেলেও এই বাংলাদেশ সিরিজটা স্বপ্নের মতো কাটছে তার। টেস্টে ২৬০ এবং ওয়ানডেতে ১২৬ রানের যে ইনিংস খেলেছিলেন; টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের সেটাই সর্বোচ্চ দুটি স্কোর। টি-টোয়েন্টিতেও অন্তত প্রথম ইনিংস পর্যন্ত তাই ছিল। স্যামুয়েলসের বিধ্বংসী ব্যাটিং ছাড়া ইনিংসের বাকি সময়টা বাংলাদেশের বোলাররা খুব খারাপ করেননি। দুই পেসার নিয়ে খেলায় শফিউল ইসলামের সঙ্গে দলে যোগ হন রুবেল হোসেন। ইনজুরি থেকে ফিরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলেও ভালো করতে পারেননি তিনি। কাল শুরুটা ভালোই করেছিলেন। প্রথম স্পেলে বল করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই উইকেট নিয়েছেন ঠিকই তবে তার সমস্ত প্রশংসা ভেস্তে গেছে ইনিংসের শেষ ওভারে স্যামুয়েলসে ২৯ রান দেয়ায়। ১০ রানে লাইফ পাওয়া ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান অবশ্য আরো দুইবার লাইফ পেয়েছেন মুশফিকের কল্যাণে। ২৩ রানে সেই জিয়ার বলে ফের ক্যাচ ফেলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আর একটা স্ট্যাম্পিং মিস করেছেন মুশফিক যখন স্যামুয়েলসের রান ২৫। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তার। শেষ ওভারে রুবেলের কাছ থেকে পেয়েছেন ২৮ (৬, ৬, ৬, ৪, ৬)। ৮৫ রানে স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি চার ও নয়টি ছয়! টসে জিতে ক্রিস গেইল ও ডুয়েন স্মিথকে দায়িত্ব দেন ব্যাট করার। গেইলকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশার পারদটা অনেক উঁচুত ছিল। কিন্তু স্যামির আশায় গুড়েবালি। গেইল কাল নিজের খোলস থেকে বের হবার আগেই রুবেলের বলে বোল্ড। তবে গেইলের এই আউটে তারচেয়ে রুবেলের অবদান সবচেয়ে বেশি। গেইলের বাংলাদেশ সফরটি এবার বেশ বাজে গেছে। তার ক্যারিয়ারে খারাপ সময়ের মধ্যে এই সফরটিও যোগ হবে। স্লোয়ার দিয়ে গেইলের মিডল স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিয়ে রুবেল দিনের শুরুটা করেছিলেন চমত্কার। শুধু তাই নয়, একই রকম স্লোয়ার এবং ইনসুইং দিয়ে নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে স্মিথের মিডল স্ট্যাম্প উড়িয়ে দেন এই পেসার। তার সাফল্য বলতে এটুকুই। সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল ঠিকই কিন্তু প্রথম ওভারেই ১৫ রান দিয়ে ফেলায় তিনি আর বোলিং প্রান্তে আসেননি। টেস্ট ও ওয়ানডের অভিষেক স্মরণীয় করে রাখা সোহাগ গাজী জ্বলে ওঠা ড্যারেন ব্রাভোকে স্ট্যাম্প করে টি-টোয়েন্টির প্রথম উইকেটের স্বাদ নেন। আর বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান কিয়েরন পোলার্ডকে বোল্ড করে দলকে আরো একটি উইকেট উপহার দেন জিয়া। কাল বাংলাদেশ ইনিংসে সবচেয়ে মিতব্যয়ি বোলারও তিনি। চার ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৬ রান। অথচ, দুই উইকেট পাওয়া রুবেল চার ওভারে দিয়েছেন ৬৩ রান, যার শেষ দুই ওভার থেকে এসেছে ৪৬ রান!