শীতের শুরুতে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শোভা ছড়িয়েছে হরেক প্রজাতির গোলাপ। এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের সামনেই দেখা যায় একটি হর্টিকালচার উদ্যান। এ উদ্যানের গোলাপের গন্ধ সারা ক্যাম্পাসকে মুখরিত করে রাখে। হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে বেড়াই সারা ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের শিক্ষক ড. এএফএম জামালউদ্দিনের চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার ফল এই গোলাপের বাগান। একদিকে চলে শিক্ষার্থীদের গবেষণার কাজ আর অন্যদিকে চলে গোলাপের শোভা। শিক্ষার্থীদের কাটিং, বাডিং, প্লট ম্যানেজমেন্ট, উন্নত জাত উত্পাদন, কালার পরিবর্তন, একই গাছে বিভিন্ন রঙের গোলাপ উত্পাদন ইত্যাদি নানা বিষয় হাতে-কলমে শিখানো হয় এই গোলাপ চাষের মাধ্যমে। শেকৃবির এই গোলাপ বাগানে লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপী, পারপেল, কালো নানা রঙের গোলাপের চাষ হয়। প্রতি বছরই রবি মৌসুমে নির্দিষ্ট জায়গাটিতে গোলাপ চাষ করা হয়।
গোলাপের নানা প্রজাতি: বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার উদ্যানের এই গোলাপ বাগানে নানা প্রজাতির প্রায় অর্ধশতাধিক গোলাপের উপর গবেষণা করা হয়। এসব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে রেড বেবি, সুইট লাভ, পিংক স্মাইল, মিনি মনি, মিসিং লাভ, গ্লোমি সাম, চারমিং লেডি, লেমন স্টার, ড্রিম বাংলা, তাজমহল, প্রিনটেড মোম, গ্রেজি লাভ বাই কালার, ইয়োলো স্টার, স্লিপি মোম, পেইন ব্লু, বিজয় ৭১, সাউ কিং।
গোলাপের চাষ: আমাদের দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গোলাপ সাধারণত কাটিং ও বাডিং-এর মাধ্যমে চাষ করা হয়। কারণ এ দুই পদ্ধতিতে চাষ করা সহজ এবং উত্পাদন বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া গোলাপ ট্রু সীড অর্থাত্ বীজ দ্বারা করা যায়। গোলাপের চাষের জন্য ছোট ছোট প্লট অথবা পাশাপাশি সারি করে সিড বেড তৈরি করা হয়। প্রতিটি গোলাপ গাছের মধ্যে .৫ মিটার দূরত্ব রাখা হয়। গোলাপ চাষের অর্গানিক সারই যথেষ্ট।
গোলাপের অর্থনৈতিক গুরুত্ব: কালের বিবর্তনে দিন যতই বাড়ছে সৌন্দর্যের নানা প্রতীক হিসেবে নানা প্রজাতির ফুলের চাহিদা বেড়েই চলছে। যার মধ্যে গোলাপের চাহিদা বেশি এবং এটি দেশের সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। কৃষিবিজ্ঞানীরা গোলাপের নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় গোলাপ চাষে স্বাবলম্বি হচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে গোলাপের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা। রাজধানী শহর থেকে শুরু করে জেলা শহরের নানা জায়গায় গড়ে উঠেছে ফুলের বাজার।
