ক্লাসের মাঝেই হয়তো নিয়ে আসা হয় কেক, অনেক সময় শিক্ষকরাও শরীক হন তাদের সাথে উত্সবে, যার জন্মদিন থাকে তাকে নিয়ে তো শুরু হয় সে কি হৈ-চৈ!
সবার কাছেই তার জন্মদিন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বছরের নির্দিষ্ট দিনটাতে সবসময় পরিবারের সাথে থাকার সুযোগ হয় না সব শিক্ষার্থীর, যারা হলজীবনে আছেন অথবা নিজের শহর ছেড়ে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে অন্য শহরে থাকছেন, তাদের জীবনের বিশেষ এই দিনটা কেটে যায় অনেক সময় একাকী। আবার অনেকেরই বন্ধুরা বন্ধুর জন্য আয়োজন করে অন্যরকম এক জন্মদিনের। ক্লাসের মাঝেই হয়তো নিয়ে আসা হয় কেক, অনেক সময় শিক্ষকরাও শরীক হন তাদের সাথে উত্সবে, যার জন্মদিন থাকে তাকে নিয়ে তো শুরু হয় সে কি হৈ-চৈ! সেদিনের রাজপুত্র বা রাজকন্যা বনে যান তিনি, উঠতে থাকে ছবির পর ছবি, আর নগদে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে মজার মজার মন্তব্য আদান-প্রদান তো আছেই। দেশের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে শুনেছি আমরা তেমনি কিছু অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌশিক জানালেন, কিছুদিন আগে তাদের এক বন্ধু সাকিবের জন্মদিন পালনের কথা, তার বাবা-মা যশোরে থাকেন, বন্ধুটি বুয়েটের হলে থেকে পড়াশোনা করছে, একে তো পড়াশোনার চাপ, অন্যদিকে পরিবারকে নতুন নতুন ফেলে আসায় বিষণ্ন ছিল সে, তৌশিক তাই বন্ধুদের নিয়ে পরিকল্পনা করে বসল কীভাবে সাকিবকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো যায়। তারপর রাত বারোটা একমিনিটে একসাথে অনেকে মিলে তার রুমে যেয়ে হাজির। সে কি হৈ-চৈ! একের পর এক বেলুন ফুটছে, জ্বালিয়ে দেয়া হল বারান্দায় থাকা শ’খানেক মোমবাতি। মুহূর্তে আলোকিত চারপাশ, সাকিবের চোখে তখন আনন্দের জল, এমন বন্ধুরাই তো তার জীবনকে আলো করে রেখেছে।
এই তো সেদিন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাভার ক্যাম্পাসে ছিল রিফাতের জন্মদিন, সম্পূর্ণ আবাসিক হওয়াতে রিফাতের আর বাসায় আসা হয়নি, জন্মদিনের পুরো দিনটা মন খারাপ করেই কাটিয়ে দিল সে। তার বন্ধুরাও কিন্তু বসে ছিলো না। একটু ব্যতিক্রম করার জন্য পরদিন রাতে তার জন্য আনা হয় কেক, শত মোমবাতিতে সাজিয়ে ফেলা হয় ক্যাম্পাসের এক কোণ। তার বন্ধু রায়মা বলছিলেন এসব কথা, রিফাত কিছুই জানত না, সে ধরেই নিয়েছিল বন্ধুরা তার কথা মনে রাখেনি, অথচ কত পরিকল্পনা তারা আগে-ভাগেই করে রেখেছে সে কথা কি আর সে জানত? রিফাতকে হঠাত্ করে স্থানটিতে নিয়ে আসা হয়, তখন তার খুশি দেখে কে? আর সেই খুশির বান যেন ছড়িয়ে যায় তার বন্ধুদের থেকে পুরো ক্যাম্পাসে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কিছুদিন আগে উদযাপিত হয় নওশীনের জন্মদিন, তার জন্য প্রায় একশ’ মিটার পথ মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে তোলে তার বন্ধুরা, আর সেইসাথে ছিল বিচিত্র সব উপহার। তাদেরই বন্ধু নূরানের জন্মদিনে তো মোমবাতি মিছিলে নেমেছিল যেন সবাই!
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র রাকিব আলম শাওন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সে। মেডিক্যালে পড়াশোনার দারুণ চাপ, আর নতুন বন্ধুরা তার জন্মদিন জানার কথাও না। তাই সে নিজ থেকেই ঠিক করেছিল পরদিন বন্ধুদের নিয়ে কেক কাটবে, আর নিজের হাতে পায়েশ রেঁধে খাওয়াবে। কিন্তু সে সুযোগ তার আর হয়নি, ফেসবুক থেকে তার জন্মদিন জেনে আর রুমমেটের কাছ থেকে প্রিয় খাবার পায়েশের কথা শুনে তার ক্লাসের বন্ধুরাই হাজির হয়ে গেল রাত বারোটায় তার হলে। সে ভাবতেই পারেনি এমন কিছু করে ফেলবে তার বন্ধুরা। জন্মদিন নিয়ে এরকমই মিশ্র অভিজ্ঞতা রয়েছে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সময় কাটানো শিক্ষার্থীদের। পরিসর ছোট হলেও বন্ধুদের আবেগ বা আন্তরিকতার কমতি থাকে না কোনও অংশে।
