৯ ডিসেম্বর রবিবার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার বিকেল থেকেই লক্ষ্য করা গেছে গ্রাজুয়েট সরব উপস্থিতি। অনেক গ্রাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভাগের বর্তমান জুনিয়র ভাইদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন। ছোটদের কাছে বর্ণনা করেন ক্যাম্পাসের নানা স্মৃতি। সেই সাথে কিভাবে এখন থেকে জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে সেই পরামর্শও ক্যাম্পাসের বর্তমান শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। সবসময় একসাথে নাস্তা, আড্ডা, ক্লাস-পরীক্ষা দিলেও পাস করে বের হয়ে যাওয়ার পর কর্মজীবনে তেমন দেখা-সাক্ষাত্ করা যায়নি এমন গ্রাজুয়েটদেরকে ক্যাম্পাসের নানা চত্বরে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা গেছে। সবাইকে প্রাণ খুলে হাসি, আর বুকে জড়িয়ে ধরে পিঠে হাত দিয়ে বলছে কতদিন পর তোকে দেখলাম-এমন দৃশ্যই দেখা গেছে ক্যাম্পাসের সর্বত্র। সেই সাথে দেখা গেছে সাবাস বাংলাদেশ চত্বর,প্যারিস রোড, ইবলিস চত্বরে পুরনো বন্ধু আর পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে ছবি তুলতে। তাছাড়া পাস করে বের হওয়া গ্রাজুয়েটদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময় করতে অনেকেই আবার আয়োজন করেন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা এবং আড্ডার আসর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সুলতান মাহমুদ, পারভেজ কাউয়ুম তানিম, রুহুল আমীন ও জামিউল আহসান শিপন। তারা সবাই ২০০৩ সালে স্নাতকোত্তর করে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছেন। উনারা চারজনই বিভিন্ন জায়গায় কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত। সমাবর্তন অংশ নিতে এত দিন পর ক্যাম্পাসে সবাইকে দেখার পর আড্ডায় মেতে ওঠেন। নিজেদের মাঝে স্মৃতি রোমন্থন ও ইবলিস চত্বরে চা-এর আসরে গল্পগুজবে সমাবর্তন দিনের সারাটি বিকেল কাটিয়ে দেন। প্রা্রয় ৯ বছর পর ক্যাম্পাসে এসে কেমন লাগছে জিজ্ঞাসা করতেই বলেন-ক্যাম্পাসের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পুরনো বন্ধু, শিক্ষকদের সাথে দেখা করার পর খুব ভাল লাগছে। ক্যাম্পাসের অতিবাহিত সময়গুলো কখনো ভুলবার নয় বলে তারা জানান।
সমাবর্তনে রাবি’র শিক্ষক রয়েছেন ৬৭৮ জন, যারা নিবন্ধিত গ্রাজুয়েট হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। সমাবর্তনের দিন সকালে শোভাযাত্রার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন ক্যাম্পাসের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে। এরা হলেন প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মমিনুল ইসলাম, প্রভাষক সারওয়ার জাহানসহ আরো অনেক বন্ধু। প্রভাষক সারওয়ার জাহান বলেন-এটি খুব সৌভাগ্যের বিষয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও নওগাঁ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক অনুষ্ঠান। সব শিক্ষার্থীই চায় তার শিক্ষাসনদ সমাবর্তনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিবে। এইজন্য প্রতিবছরই সমাবর্তন আয়োজন করা উচিত।
