খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সমাবর্তন উত্সব

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:৫৯
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর দ্বিতীয় সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। গ্র্যাজুয়েটদের আনন্দ উত্সবে মেতেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট পতি মোঃ জিল্লুর রহমান এর প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর এমিরিটাস ড. জামাল নজরুল ইসলাম। বেলা ১১টায় পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ বজলার রহমান, তড়িত্ ও ইলেক্ট্রিক অনুষদের ডিন ড.আশরাফুল গণি ভুঁইয়া, যন্ত্র কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ.এন.এম. মিজানুর রহমান শিক্ষামন্ত্রীর নিকট নিজ নিজ অনুষদের ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আমাদের উন্নয়ন সম্ভব না। অন্যদিকে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক। এ জন্য সম্ভাবনাময় খাত তথ্যপ্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কুয়েট থেকে সফলভাবে শিক্ষা সমাপ্ত করে বহু প্রকৌশলী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক ধারা অক্ষুণ্ন রাখার এক অনন্য গৌরব অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, ডীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডিগ্রি অর্জনকারী গ্র্যাজুয়েট, অভিবাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সর্বমোট ২ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। যার মধ্যে ২ হাজার ৪৪১ জন বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং, ৬৯ জন এম.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং, ৩৯ জন এম.ফিল ও ৬ জন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভাল ফলাফলের ভিত্তিতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ দেয়া হয় ২৬ জন গ্র্যাজুয়েটকে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনা হতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর পরবর্তী ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ইতিপূর্বে, বিআইটি, খুলনা থাকাকালীন সময়ে আরো দু’বার সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের অনুমোদন পেলেও এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। অবশেষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞান চর্চার সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে প্রথমে ১৯৮৬ সালে বিআইটি খুলনা উন্নীতকরণ এবং পরে ২০০৩ সালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়।