আট বছর ক্রিকেট খেলার পর মারলন স্যামুয়েলস মূলত ‘খ্যাতি’ পেয়েছিলেন ২০০৮ সালে। ক্রিকেট ফিক্সিংয়ে জড়ানোর অপরাধে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। মাঝারি মানের একজন অল রাউন্ডারের ক্যারিয়ার এতে শেষই হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্যামুয়েলস মনে হয় অন্য ধাতুতে গড়া ছিলেন। তাই ফিরে এলেন। ফিরে এলেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্ম প্রদর্শন করে। স্যামুয়েলসের দুরন্ত এই প্রত্যাবর্তনের বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একটার পর একটা সাফল্য এনে দিয়েছেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। আর এই প্রত্যাবর্তনের বছরটা শেষ করলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটেই দুরন্ত এক সফর শেষ করে।
২০০০ সালে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল স্যামুয়েলসের। পরের আট বছরে এমন কিছুই করতে পারেননি। তারপরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধসে পড়তে থাকা দলের মিডল অর্ডারে খানিকটা প্রাণ সঞ্চার করে টিকে ছিলেন। তার ক্যারিয়ারটা ধাক্কা খেল ২০০৮ সালে এসে—সেই ফিক্সিং কেলেঙ্কারি।
নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০১১ সালেই একটা মাত্র টি-টোয়েন্টিতে দলে ফিরেছিলেন; সেটা ছিল ক্যামিও প্রত্যাবর্তন! আসলে ফিরলেন এই ২০১২ সালেই। আর ফিরেই শুরু করলেন তাণ্ডব। পুরো ক্যারিয়ারে টেস্টে ৩৭.৩৬ গড়ে রান করেছেন; ৫টি সেঞ্চুরি। এ বছরই এর মধ্যে ৩টি সেঞ্চুরি এবং একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি! এ বছর টেস্টে রান করেছেন ৮৬.৬০ গড়ে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৪টি সেঞ্চুরির দুটিই এ বছর। টি-টোয়েন্টিতে ৬টি ফিফটির ৪টিই চলতি বছরে। এই সঙ্গে বোলিংও আছে। টেস্টে ৫টি, ওয়ানডেতে ১১টি এবং টি-টোয়েন্টি ৯টি উইকেট নিয়েছেন এই ২০১২ সালে।
বাংলাদেশে যখন পা রেখেছেন, তখন তার কাঁধে দলকে সদ্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়ে আনার নায়কের খেতাব। বোঝাই যাচ্ছে কী দুরন্ত ফর্ম নিয়ে এসেছিলেন এখানে। আরও দুরন্ত হয়ে উঠলেন যেন বাংলাদেশে এসে। খুলনা টেস্টে পেলেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৬০ রানের ইনিংস। ওটাই সিরিজে যে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। ওয়ানডেতে ১২৬ রানের ইনিংস খেললেন; ওয়ানডে সিরিজেরও সর্বোচ্চ ইনিংস সেটা। একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে ৪৩ বলে অপরাজিত ৮৫ রানের ইনিংস খেললেন; মাত্র ১ রানের জন্য সেটাও সর্বোচ্চ হলো না!
এই সিরিজে তার ইনিংসগুলো একবার ফিরে দেখুন—৮৫*, ১, ২৭, ১২৬, ১৬, ০, ২৬০, ১, ১৬!
এখন তো ক্যারিবিয়রা অন্তত মনে করতে পারে যে, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের পাপ মুছে গেছে স্যামুয়েলসের শরীর থেকে।
