নতুনের কেতন উড়ে

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৬
টেস্ট সিরিজ জয় সহজ ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আর ওয়ানডে তো তাদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েই বসে বাংলাদেশ। একমাত্র টি-টোয়েন্টি হারলেও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে বাংলাদেশ দল। সিরিজ শুরুর আগে হয়তো এমনটা কোন ঘোর বাংলাদেশ সমর্থকও কল্পনা করেননি। আর বাংলাদেশের এই পরিণত ক্রিকেটে দলে নতুন জায়গা পাওয়া চারজন ক্রিকেটারের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। সোহাগ গাজী সাহারা কাপে টেস্ট-ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সেরা পারফর্মারদের একজন তিনি। প্রথমবারের মতো দলে সুযোগ পেয়েই টেস্টে নয় উইকেট; বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে যা এক অনন্য রেকর্ড। দুইটি টেস্টে পেলেন মোট ১২ উইকেট। ওয়ানডে সিরিজেও গাজীর সেই একই রূপ। প্রথম দুই টেস্টের পর প্রথম ওয়ানডেতেও পেলেন গেইলের উইকেট। অভিষেক ওয়ানডেতে চার উইকেট নিয়ে পেলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও তার স্পিন বিষে নীল হলো সফরকারীরা। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নয় উইকেট। আর শেষ ম্যাচে ১৯ রানের ইনিংসের কথাও মনে রাখতে হবে। সব মিলিয়ে চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায় যে, গোটা সিরিজে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার সোহাগ গাজী। ---- এনামুল হক বিজয় বেশ অনেকদিন ধরেই দলের সাথে আছেন তিনি। ছিলেন এশিয়া কাপেও। ফাইনালে হারের পর তার কান্না দেখেছে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। সেবার মাঠে নামা হয়নি। মাঠের বাইরে থেকে দলের পরাজয়ে যন্ত্রণা তাই তাকেই বেশি ছুঁয়েছিল। এবার মাঠে নেমেছেন। সাহারা কাপে সুযোগ পেয়েই জ্বলে উঠলেন। আর মাঠে নেমেই বাজিমাত। এবার আর কান্না নয়, হাসলো তার ব্যাট। প্রথম ওয়ানডেতে অল্পের জন্য অর্ধশতক হয়নি। রান করেছেন ৪১। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাটের হাসি আরো চওড়া। ১২০ রানের ম্যাচজয়ী এক ইনিংস; সাথে ম্যাচসেরার পুরস্কার। পাঁচ ওয়াডেতে ১৯৫ রান; আর টি-টোয়েন্টিতে ১২ বলে ২২ রানের ইনিংস। তামিমের যোগ্য সঙ্গী নির্বাচনে এখন আর তাই কোন দুশ্চিন্তা থাকলো না। ----- আবুল হাসান রাজু তার মূল পরিচয় পেস বোলার। গোটা সিরিজে বল হাতে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে তিনি যা করে দেখালেন তাতে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব তাকে চীরদিন মনে রাখবে। খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ক্রিজে আসেন দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ১৯৩ রানের মধ্যে নয়টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে। সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গড়লেন এক অনন্য ইতিহাস। দশম স্থানে ব্যাট করতে নেমে ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন শতরান। দশম উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সাথে যুক্ত করলেন ১৮৪ রান। ১১৩ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন সাজঘরে ফিরলেন তখন বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে ৩৮৭ রানে। ----- মমিনুল হক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলে থাকলে তার অভিষেকই হয় না সিরিজে। ইনজুরিতে থাকা সাকিবের জায়গা নিয়ে জানিয়ে দিলেন দায়িত্বটা ভালোই নিতে পারেন তিনি। দলের হয়ে উল্লেখযোগ্য কোন পারফর্ম্যান্স না থাকলেও তার হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশ দলের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যখন সুযোগ পেলেন তখন কাজ করছিল রানরেট বাড়িয়ে নেয়ার তাড়না। ২৯ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে সেই পরীক্ষায় ভালোভাবেই উতরে যান তিনি। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডেতে তিনি আরো কার্যকর। এবার বল হাতে; নিলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ কিয়েরন পোলার্ড ও ড্যারেন স্যামির উইকেট। আর ব্যাট হাতে তার ২৫ রান না আসলে জয়টা মোটেও সহজ হতো না বাংলাদেশের।